একটা পিপড়েকে বড় একটা কাগজে ফেলে দিয়ে চুপচাপ অপেক্ষা করতাম।... এর আগে কাগজটায় রঙ পেন্সিল দিয়ে গোল গোল দাগ টেনে একেক রঙের জন্য পিপড়ের জন্যে একটি করে ভাগ্য নির্দিষ্ট করে দেয়া হতো।
যেমন সবুজ রঙের উপর দিয়ে পিপড়ে টা গেলে দুটো চিনির দানা, লাল রঙের উপর দিয়ে গেলে ওর একটা পা টেনে ছিড়ে নেয়া হবে, হলুদ রঙের উপর দিয়ে গেলে মৃতু্য, গোলাপী রঙের উপর দিয়ে গেলে ওর অনেক উপর থেকে তিনবার রাবার ছুড়ে ফেলা হবে, বেচে গেলে মুক্তি, নীল রঙের উপর দিয়ে গেলে ওকে ছেড়ে দেয়া হবে, নেভি ব্লু রঙের উপর দিয়ে গেলে মুক্তির সাথে সাথে পাউরুটির টুকরো... এইসব আর কি।
খেলা শুরু হবার আগে পিপড়েকে বলে দিতাম এই করলে এই হবে কিন্তু পিপড়েরা যে কি বুঝতো সেই জানে ওরা বারবার বিপদজনক রঙগুলোই পাড়ি দিতো।
আমি ওদের পুরস্কার আর শাস্তির বিধান এবং এর প্রয়োগ করে অদ্ভুত এক আনন্দ পেতাম। মনে হতো ওদের জীবন আমার হাতে।
নিজেকে অনেকটা আল্লাহ আল্লাহ মনে হত।
আমি তখন ক্লাস টু তে পড়ি -
আরো অনেক পরে নিজের ঐ কাজটিকে নিষ্ঠুরতা মনে হতো তখন মনে হতো পৃথিবী নিয়ে আল্লাহর এই খেলাটাও একধরনের নিন্ঠুরতা।এটা ক্লাস ফোরের শেষ কিংবা ফাইভের শুরুর দিকের ঘটনা।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



