somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানুষ কেন চাকরি ছাড়ে?

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১২:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘চাকরিটা আমি পেয়ে গেছিবেলা, শুনছ...’ ফোনের এ-প্রান্তে এই কথা বললে ওই প্রান্তে বেলার সাড়া পাওয়াটা নিশ্চিত ছিল। কিন্তু যদি এ প্রান্ত থেকে বলা হতো চাকরিটা আমি ছেড়ে ুদিয়েছি... তবে তো সাড়া পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না।
এই সময়ের কথা আবার ভিন্ন। এখন নানা কারণে মানুষ যেমন চাকরি ছাড়ে তেমনি চাকরি ছেড়ে আরও ভালো কিছু করার উদাহরণও প্রচুর।
কাজের জগতে এমন একটা ধারণা প্রচলিত যে, কর্মীরা আসলে প্রতিষ্ঠানকে ছেড়ে যান না, তাঁরা তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ত্যাগ করতে চান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটেই দেখুন, অর্থনীতির মন্দা এখনো না কাটলেও সেখানে প্রতি মাসে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। সেখানে এক জরিপে

দেখা গেছে, চাকরিজীবীদের ৭৪ শতাংশই কাজ নিয়ে অসুখী। আর ৩১ শতাংশ এর কারণ হিসেবে বলেছেন, তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে পছন্দ করেন না। ৩৫ শতাংশ মানুষ দায়ী করেছেন অফিসের ভেতরের রাজনীতিকে আর সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৪৩ শতাংশ বলেছেন স্বীকৃতির অভাবের কথা। (সূত্র: ফোর্বস ম্যাগাজিন)

বাংলাদেশেও এ চিত্র তেমন ভিন্ন নয়। কয়েকজন চাকরিজীবীর সঙ্গে কথা বলে অন্তত সেটাই বোঝা গেল। একটি মুঠোফোন সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন ফারজানা ইয়াসমিন (ছদ্মনাম)। বললেন, ‘নিজের কাজ তো বটেই, আমার ঊর্ধ্বতন কর্মীর কাজগুলোও আমাকেই করে দিতে হতো। আর তিনি সেটা তাঁর ঊর্ধ্বতনকে নিজের কৃতিত্ব হিসেবে চালিয়ে দিতেন। একদিন না পেরেই তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে গেলাম, খুলে বললাম সব। চাকরিটা ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে বোঝালেন। এরপর অবশ্য ভালো সুযোগ পাওয়ায় সেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলাম।’

এ নিয়ে কথা হয় মানবসম্পদ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গ্রো এন এক্সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম জুলফিকার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, কেউ যে চাকরি সহজেই বদলাতে চান, ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। মনের মতো পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা পেলে তিনি একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় কাজ করতে চান। তবে বাংলাদেশে চাকরি ছাড়ার পেছনে যথেষ্ট বেতন না পাওয়াটা বড় কারণ হিসেবে দেখা যায়। আর সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে বলা যায়, ক্যারিয়ারে আর এগোনোর সুযোগ না থাকাটা। আজকাল চাকরি ছাড়ার কারণ হিসেবে কিছু পরিস্থিতির কথা তিনি জানালেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নয়, কাজটা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং নয়, নতুন কিছু শেখার সুযোগ নেই, বেতন-ভাতা তুলনামূলক কম, কাজ আর ব্যক্তিগত জীবনের সমন্বয় নেই—মোটামুটি এ কারণগুলোই দেখা যাচ্ছে চাকরি ছাড়ার পেছনে।
তবে আজ বসের ওপর রাগ করে কালকেই চাকরি ছেড়ে দিলাম, এটাও ক্যারিয়ারের জন্য ইতিবাচক কিছু নয়। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন সোহেল ছায়েদাতুন ইয়াসমিন। ছয়-সাত বছর মানবসম্পদে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, মেয়েদের ক্ষেত্রে চাকরি ছাড়ার কারণগুলো একটু ভিন্ন হতে পারে। ‘মেয়েদের জন্য অফিসের সময়সূচিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া মাতৃত্বকালীন সময়টাতে বা এর পরেও অনেকে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।’ তবে এম জুলফিকার হোসেন মনে করেন, চাকরি ছাড়ার আগে বা নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে কিছু বিষয় অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে।

>প্রথমত, নতুন প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের সুযোগ যথেষ্ট আছে কি না। কাজের দায়িত্ব বাড়া, উন্নতির সুযোগ আছে কি না।
>নতুন প্রতিষ্ঠানে যথেষ্ট সম্মান পাবেন কি না। সেখানে পরিবেশ নিজের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই হবে তো।
>শুধু বেতন নয়, অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও দেখে নেওয়া উচিত। যেমন কোনো প্রতিষ্ঠানে বেতন বেশি দিলেও অবসর ভাতা, বিনোদন ভাতা এসব হয়তো খুব কম।
>যে প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছি তার সুনাম কেমন, ব্র্যান্ড হিসেবে সেটি যথেষ্ট শক্তিশালী কি না।
> আপনার যথেষ্ট মূল্যায়ন হবে কি না।



অনেকেই এখন চাকরি ছেড়ে নিজেই উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতে চান। তবে নিজের কিছু শুরু করার আগে শক্ত একটা পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।

Courtesy: Prothom alo Job.
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ের অবস্থা নিয়ে আলাদা গুরুত্ব দেয়া দরকার

লিখেছেন অপলক , ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫



পাহাড়ীদের হাতে এখন প্রচুর টাকা। সে টাকার যোগান প্রত্যাক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে আমরা সমতলের জনগন দিয়েছি। পাহাড়ীরা এখন জাতীয় অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখছে। তাদের মাঝে প্রচুর উচ্চ শিক্ষিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২



আমাদের চারপাশে অনেক কিছু আছে।
যা আমরা দেখতে পাই না। ব্যাকটেরিযয়া, ভাইরাস, ডার্ক ম্যাটার, অণু ও পরমাণুর কথা বলছি না। আমি বলছি, মৃত মানুষের কথা। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে দেড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু কিছু স্মৃতি ভুলার মত না।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১৯

আমি এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি ২০১১ সালে। ঐ পরীক্ষার এক মাসের কথা এখনো মনে পড়ে। ১ম পরীক্ষার সময় খাতা পাওয়া, রোল নাম্বার লেখা, প্রশ্ন হাতে পাওয়া এগুলো এখনো মনে পড়ে। মাজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×