এটা একটা মহদুর্যোগের মতোই ঘটনা...যদিও আমরা বা আমাদের মিডিয়া তা বুঝতেছে কী না তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে...মঙ্গলবার ভোরে সুন্দরবনের শেলা নদীতে ডুবে যাওয়া অয়েল ট্যাংকার থেকে সাড়ে তিন লাখ লিটারেরও বেশি ফার্ণেস অয়েল (জ্বালানি তেল) ছড়িয়ে পড়েছে নদীতে...ঘটনাটা কী বুঝতে পারতেছেন???
এই তেল ছড়িয়ে পড়া মানে আমাদের পরিবেশ-প্রতিবেশের কী বিশাল ক্ষতি...ইরাবতী ডলফিনের (শুশুক) বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিচরণ ক্ষেত্র সুন্দরবন। শুশুক চিনছেন তো...ওই যে ছোট বেলায় লঞ্চ দিয়ে যাওয়ার সময় যে ছাইরঙা মাছগুলো হুদাই পানিতে ফাল মাইরা ডিগবাজি খাইতো....
শেলা নদী সংলগ্ন এলাকা সরকারিভাবেই এই জলজ প্রাণির অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষিত...এই তেল ছড়িয়ে পড়ার কারণে মৃগমারী-নন্দবালা-আন্ধারমানিক ডলফিন অভয়াশ্রম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে...এখান থেকে ডলফিনের বসতিও সরে যেতে পারে...নিশ্চয়ই এই তেল-দূষনের ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনার কোন না কোন উপায় রয়েছে...
যা আমার আপনার না জানা থাকলেও দেশি-বিদেশি প্রকৃতি গবেষকদের বেশ ভালোভাবেই জানা...সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কাছে করজোড়ে অনুরোধ আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে পাশ কাটিয়ে দয়া করে যতোদ্রুত সম্ভব এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেন...এমনিতেই অনেক সময় নষ্ট করেছেন...
মনে রাইখেন এই দুর্ঘটনাটা রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির চেয়ে কোন অংশে কম না...অবলা বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীগুলোর কথা না হয় বাদই দিলাম এই সুন্দরবন আর এর আশপাশের নদী কিন্তু লাখো মানুষের রুটিরুজি...এর সর্বনাশ মানে ওই মানুষগুলোর পেটেও লাথি পড়া...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



