somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিশোর কিশোরীদের ব্যাপারে আমাদের কি এখনি সচেতন হওয়া উচিত নয়....?????

২৭ শে আগস্ট, ২০১৪ সকাল ১১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিসমিল্লাহ হির রাহ্-মানীর রাহীম।

শুরুতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি সুন্দর হাদীস থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে শুরু করছি...শিশুদের সুন্দর জীবন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মহানবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী : ‘ছেলেমেয়েরা সাত বছর বয়সে পদার্পণ করলে তাদেরকে নামাজ পড়ার তাগিদ দাও। তারা দশ বছর বয়সে পদার্পণ করার পরেও যদি নামাজ না পড়ে, তাহলে তাদের নামাজ পড়তে বাধ্য কর এবং ছেলে ও মেয়েকে (ওই সময় থেকে) আলাদা বিছানায় শয়নের ব্যবস্থা কর।’ (আবু দাউদ শরিফ : হজরত আমর বিন শুয়াইব রা: তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তাঁর পিতা তাঁর পিতা থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন)।

বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের সাথে সাথে আমরা ও তথাকথিত আধুনিকতার নামে, বিচ্যুত হওয়ার কক্ষপথে হাঁটতেছি আমাদের র্স্বনময় খচিত ও অতি কষ্টে অর্জিত আমাদের ইসলামিক ভাব ধারা থেকে। কিয়ামতের আলামতের মধ্যে একটি আলামত এইরকম যে, দুনিয়াতে যৌনতা খুব বেশী হারে ছড়িয়ে পড়বে, আর আল্লাহ তায়ালা "ইলম" কে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নিবেন। এখানে ইলম বলতে এখনকার তথাকথিত আধুনিক ইলম(শিক্ষা) না। প্রকৃত ইলম হল কোরআন হাদীসের জ্ঞান। আর এটাই আস্তে আস্তে দুনিয়া হতে বিলুৃপ্তি ঘটবে।
আমরা যদি একটু সুক্ষ ভাবে চিন্তা করি, তাহলে এই বিষয়টার সত্যতা ভালো ভাবেই উপলব্দি করতে সক্ষম হবো। এখনকার সমাজে অধিকাংশ বাবা-মা রাই বেমালুম ভুলে যান আমাদের উপর ফরয কৃত মূল শিক্ষাটি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন.. "প্রত্যেক নর নারীর উপর দ্বীনী এলেম অর্জন করা ফরজ"। অথচ তারা ভীষন ভাবে উৎকন্ঠিত থাকেন কি ভাবে তার সন্তান দুনিয়াবি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠবে। সে জন্য যত চেষ্টা তদবির করা লাগে তাতে চেষ্টায় কোন প্রকারের কমতি ঘটে না।
সেই সাথে এই ছোট ছোট ভাই বা কারো সন্তান কে পারিপার্শিক জ্ঞান দেয়ার কথা বলে নৈতিক অধঃপতনের শেষ প্রান্তে নেয়ার জন্য যুক্ত হয়েছে কিছু মিড়িয়া আর বুদ্ধিহীন নামের কিছু বুদ্ধিজীবী। এখানে একটি পত্রিকার উদাহারন দেয়াই যায়, নকশা ম্যাগাজিন টি যাদের চক্ষু গোচর হয়েছে তারা দেখে থাকবেন তারা আগে এই ম্যাগাজিনটির প্রথম পেজে যুবক যুবতীর কিছু অংশ চোখে পড়ার মতো করে বড় আকারের ছবি দিত। কিন্তু গত কয়েকটি সংখ্যায় ওরা যুবক যুবতীর পরিবর্তে কিছু অবুঝ কিশোরীর শরীর কে টার্গেট করতেছে। যা দেখতে নিতান্তই দৃষ্টিকটু। এই প্রত্রিকার লম্পটরা বুঝে ফেলছে এই সমাজের যুবক যুবতীদের ব্রেন ওয়াশ হয়ে গেছে, এখন কিশোর কিশোরীদের ব্রেন ওয়াশ করা অতীব জুরুরী। কারন এরাই পরবর্তীতে হবে যুবক যুবতী বা কারো সন্তানের মা অথবা বাবা।

আর এই ফরজ কৃত শিক্ষা আর মিড়িয়ার দ্বারা যত্র তত্র নোংরামীর ফলে নিভৃতে কি ঘটিতেছে আমাদের সমাজে .....?? আপনার আদরের ছোট ভাইটিকে বা কারো সন্তান কে কোন ভালো কাজে শাসন করা যাচ্ছে না, চোখের সামনে সে হয়ে যাচ্ছে বেয়াড়া আর গোাঁয়ার স্বভাবের। কথায় কথায় বড় দের সাথে অহেতুক তর্ক জুড়ে দিচ্ছে। সারাক্ষন বিনোদনের বিতর মাতাল হয়ে আছে, সারাক্ষন তার বন্ধুদের সাথে মেয়ে ঘটিত ব্যাপার নিয়ে আজে বাজে আলাপে লিপ্ত। কোন কথায় একটু ১৯-২০ হলেই খুবই বাজে রকমের রিএ্যাক্ট করতেছে তার বাবা মা অথবা বন্ধু বা এলাকার মুরুব্বীদের সাথে।
দুঃখের সাথে বলতে হয় এবং এটা একটা আজিব তামাশা ও ছেলে মেয়ে যখন অবাধ্য হতে হতে মা বাবার আয়েত্বের বাইরে চলে যায় তখন, সেই তথাকথিত বাবা মা রা শ্বরনাপন্ন হয় মসজিদের ইমাম এর কাছে "হুজুর আল্লাহর কাছে আমার সন্তানের জন্য একটু দোয়া করুন, সে যেন আমাদের বাধ্য হয়",। অথচ এই বাবা-মা ই তাকে দ্বীনী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে ছুটে নিয়ে গেছে দুনিয়ার শিক্ষার পিছনে। সন্তান দের কে দেয়নি সামান্য দ্বীনী শিক্ষা, যা শিখে হয়তো তারা হয়ে উঠতো আল্লাহ ভীরু এবং বাবা মায়ের বাধ্যগত সন্তান।

আশাকরি সকল বাবা-মা ই তার সন্তান কে দ্বীনী ফরজ কৃত ইলম থেকে বঞ্চিত না করে, তাদের কে ইসলামের নূন্যতম জ্ঞান টুকু আহরনে সচেষ্ট হবেন। আর এতেই হয়তো আপনার সন্তানটি হবে ভদ্র, নম্র, শিষ্টাচার অর্জন কারী শ্রেষ্ঠ সন্তান।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করুন।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০১৪ দুপুর ১২:০৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়ার সেলফ্‌

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×