somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন গল্পের মাধ্যমে ইসলাম কে ‍বুঝি।

২১ শে অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ১২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক রাজা তার তিন জন মন্ত্রিকে তলব করল। আর যথাসময়ে তিন জন মন্ত্রি রাজার দরবারে উপস্থিত হলে, রাজা তিন মন্ত্রি কে তিনটি বস্তা দিয়ে বলল, আপনারা পাশের বাগানে গিয়ে ভালো ফলমুল গুলো এই বস্তার ভিতরে ভরে নিয়ে আসবেন।

তিন মন্ত্রি রাজার হুকুম পেয়ে বাগানে চলে গেল ফল আহরন করতে।

১ম মন্ত্রী রাজার হুকুম শিরধার্য মনে করে এবং রাজার সন্তুষ্টির জন্য অনেক কষ্ট করে বাগান থেকে বাছাই করে ভালো ফল গুলো তার বস্তায় ভরতে লাগলো, এই ভাবে ভালো ফল গুলো দিয়ে তার বস্তা পুরো করলো।

২য় মন্ত্রী ভাবলো রাজার তো ফল মুলের কোন অভাব নাই, হয়তো রাজা এমনিতেই শখের বশে আমাদের কে এই কাজ করতে দিয়েছেন, উনি হয়তো এই কাজের কথা ভুলে যাবেন আর আমাদের কে জিজ্ঞাসা ও করবেন না। তাই ২য় মন্ত্রী কিছু ভালো ফল আর কিছু পঁচা আর বাসী ফল দিয়ে তার বস্তা পুরো করে ফেললেন।

৩য় মন্ত্রী ও ২য় মন্ত্রীর মতো ভাবলো রাজার তো আর কোন কাম নেই, আমাদের কে হুদাই একটু কষ্ট দেয়ার জন্য এই হুকুম দিয়েছেন। আর রাজার খাবারের জন্য তো এমনিতেই ফল মুলের কোন অভাব নেই। এই কাজের পর রাজা হয়তো আমাদের এই বস্তা গুলো চেক করেও দেখবেন না। তাই ৩য় মন্ত্রী লতা পাতা আর কিছু ঘাস দিয়ে বস্তা ভর্তি করে চলে আসলেন।

পরের দিন রাজা আবার আদেশ দিলেন আমার সেই তিন মন্ত্রীকে তাদের ফলমুল ভর্তি বস্তাগুলো নিয়ে আমার কাছে উপস্থিত হতে বলো। যথারীতি রাজার আদেশ পেয়ে তিন মন্ত্রী তাদের নিজ নিজ বস্তা নিয়ে রাজ দরবারে উপস্থিত হলো। রাজা হুকুম দিলেন এই তিন মন্ত্রীকে তিনটা রুমের ভিতর আগামী তিন মাসের জন্য জেলে বন্ধি করে রাখ, এবং সাথে তাদের নিজ নিজ বস্তা গুলো দিয়ে দাও।

তো জেলে বন্ধি হয়ে ১ম মন্ত্রী তিন মাস খুব আয়েশে কাটিয়ে দিল। কারন তিনি রাজার জন্য যে ফলমুল আহরন করছিলেন সে গুলো ছিল বাগানের বাছাইকৃত উৎকৃষ্ট মানের ফলমুল। তিনি এই ফল গুলো খেয়ে জীবন ধারন করলেন কোন ধরনের সমস্যা ছাড়া এবং তিন মাস পরে সুস্থ ভাবেই জেল থেকে বের হয়ে আসলেন।

২য় মন্ত্রী তার তিন মাস পার করলেন অনেক দুঃখ কষ্টে জর্জরিত হয়ে। কোন বেলা খেয়েছেন কোন বেলা খেতে পারেন নি। কারন তিনি রাজার জন্য যে ফল গুলো সংগ্রহ করেছিলেন তার অধিকাংশই ছিলো পচাঁ আর বাসী। কোন মতে পঁচা ফল মুল খেয়ে তিনি তিন মাস কাটালেন এবং প্রায় মৃতপায় হয়ে বের হয়ে আসলেন।

৩য় মন্ত্রী হলো চরম হতভাগা, যিনি রাজার আদেশ অমান্য করে বস্তার ভিতর লতাপাতা আর ঘাস দিয়ে বস্তা ভরেছিলেন। বন্ধী দশায় তার এই তিন মাস এর ১ম মাসেই না খেতে পেরে তিনি মারা গেলেন।

তো এই গল্প থেকে আমরা কি শিখতে পারলাম..................???
***************************************************
আমাদের দুনিয়ার জীবনে মহান আল্লাহ আমাদের কে কিছু হুকুম দিয়েছেন এবং তা আমাদের যথাযথ পালন করতে বলেছেন। এখন যে একটু কণ্ট করে ১ম মন্ত্রীর মতো আদেশ পালন করবে যথাযথ ভাবে সে মৃত্যুর পর অন্নত অসীম কবরের জিন্দেগীতে সানন্দে তার জীবন অতিবাহিত করতে পারবে। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে তার কর্মফলের দরুন।

আর যে ২য় মন্ত্রীর মতো, দুনিয়ার জীবনে আল্লাহর কিছু আদেশ পালন করবে, কিছু ছেড়ে দিবে, তার ও মৃত্যুর পর অন্নত অসীম কবরের জিন্দেগীতে কিছু কাল দুঃখ কষ্ট এবং কিছু কাল আনন্দে কাটাবে।

আর ৩য় মন্ত্রীর মতো যে ব্যক্তি আল্লাহর কোন আদেশ নিষেদই মানবে না, কোন কষ্টই স্বীকার করবেনা তার মৃত্যুর পর অন্নত অসীম কবরের জিন্দেগীতে তার জন্য কোন সুখই নেই। তার জন্য আছে শুধু দু:খ কষ্ট আর অশেষ যন্ত্রনা। কারন সে তার দুনিয়ার জীবনের অবহেলা আর নিজের খেয়াল খুশি কেই প্রাধান্য দিয়েছে।

মহান আল্লাহ বলেন:
জীব মাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর তোমরা কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ বদলা প্রাপ্ত হবে; অতঃপর যাকে দোযখ থেকে মুক্তি দেয়া হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে হবে সাফল্যবান। বস্তুত পার্থিব জীবন ধোঁকা ছাড়া আর কিছুই নয়। (সূরা আলে ইমরান-১৮৫)।
‘আমি মানুষ ও জীন জাতিকে সৃষ্টি করেছি কেবল আমার ইবাদতের জন্য।’ (সুরা জারিয়াত-৫৬)‘।

মহান আল্লাহ আরো বলেন:
তোমরা কি মনে করেছো, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি? এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না?’ (সুরা মুমিনুন-১১৫)
….
মহান আল্লাহ আমাদের কে সত্য বুঝার তৌফিক দিন।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়ার সেলফ্‌

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×