somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রথম উপন্যাস পড়ার স্মৃতি...

০৫ ই জানুয়ারি, ২০২৪ সকাল ১০:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কৈশোরে মা আমাকে নিয়ে একবার নিউ মার্কেটে গিয়েছিলো...
তখনকার দিনে ফুটপাতে বিভিন্ন গল্পের বই, চাচা চৌধুরীর কমিক বই, কার্টুনের সিরিজ টাইপ গল্পের কমিক বই বিক্রি করতো...
যদিও এখন তেমন দেখা যায় না তখনকার দিনের মত...

তো মায়ের কাছে বায়না ধরে বললাম, মা আমাকে 'ময়ূরাক্ষী' নামে ওই বইটা কিনে দেন, আমি ওই বইটা পড়বো...

কী বুঝে নিতে চাইলাম জানি না!
তখন হুমায়ূন স্যারকেও তেমন চিনতাম না...
উপন্যাস কী জিনিস তাও জানতাম না!
কমিক বই আর তিন গোয়েন্দা সিরিজ পড়তাম বেশি তখন...
মিনা-রাজুর কার্টুন বিটিভিতে দেখালেও, কমিক আকারে যতগুলো বের হয়েছিলো, সেগুলো সবই পড়া হয়েছিলো তখনকার দিনে...

তখনকার দিনে নাটক-সিনেমায় দেখতাম, প্রায় নায়িকা (হলুদ কভার মোড়ানো) উপন্যাস হাতে দোলনায় চড়ে চড়ে বইয়ের পাতা উল্টানোর মূহুর্তে প্রিয় মানুষকে কল্পনা করতো আর তাকে ভেবে দুইজনে ৩-৫ মিনিটের মত নাচ-গান করতো...

দেখতে ভালোই লাগতো। জীবনে একটা প্রেম করা খারাপ না। একটা প্রেম করা দরকার জীবনে...

ভাবতাম, এরকম 'হলুদ কভার মোড়ানো বই' পড়লেই বুঝি সহজেই প্রেমে পড়ে মেয়েরা!
মূলত একটা প্রেম করার কারণে এই বই কেনার বায়না ধরা...
মাকে তো আর সরাসরি বলা যায় না, প্রেম করার জন্য এমন একটা বই দরকার!
তো মাকে ইনিয়ে বিনিয়ে বুঝালাম বইটা পরীক্ষার জন্য কতটা জরুরী!
মায়েরা সন্তানদের আবদারের কাছে বোকা হয়ে যায়...
বুঝে সন্তানরা মিথ্যা বলছে, তবুও বোকা হয়ে থাকতে চাই মায়ের জাতিরা...
উনারা সন্তানদের কাছে বোকা হতে ভালোভাসেন...
আমিও মাকে বোকা বানাতে পারার আনন্দে আত্মহারা...
অন্যদিকে তখনকার দিনে, একটা প্রথা চালু ছিলো, কাউকে এই টাইপ বই পড়তে দেখলেই প্রতিবেশীরা ভাবতো, ছেলেটা তো অনেক বড় হয়ে গেছে, নাটক সিনেমার নায়ক-নায়িকাদের মত প্রেমের বই পড়ে!
আমাকেও ব্যতিক্রম ভাবেনি!
বেশ কয়েকমাস পর মায়ের কাছে কমপ্লেইন গেলো। তোর ছেলে তো বড় হয়ে গেছে। সারাক্ষণ বড়দের বই পড়ে!
মা অনেকদিন সহ্য করলেও, একদিন মুখ ফুটে বলেই ফেললেন, তুই নাকি কী সব বড়দের বই পড়িস! পান্না নাকি তোর কাছ থেকে বই নিয়ে যায় পড়ার জন্য? সে পড়ে ক্লাস টেনে আর তুই পড়স সেভেনে। সে তোর বই নিয়ে কী করবে? পান্নাকে তো টিউশনিতেও যেতে দেখি না! তাহলে সে তোর কাছ থেকে বই নিয়ে যায় কেন?

আমি চুপ হয়ে থাকি। কিছু বলি না। কারণ তখন আমার মাঝে হিমু বসবাস করছিলো। হিমুরা কিছু বলে না। চুপ হয়ে থাকে। হিমুরা সকল পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক থাকে, তাই আমিও স্বাভাবিক ছিলাম। কারণ আমি সেদিন শিক্ষানবিশ হিমু হয়ে ছিলাম...

আমাকে আরও বেশ কিছু হিমু পড়তে হবে...
তাই টাকা পেলেই, আমি আর পান্না দিদি দুইজনই মিলে-মিশে হিমু সিরিজের একটা একটা বই কিনতাম আর পড়তাম...

এর কয়েকমাস পর একদিন মা বললেন, প্রতিমাসেই একটা ব্যাণ্ডের গানের ক্যাসেট আর একটা বই কিনস। গান শুনতে দেখি। কিন্তু বইটা একদিন পড়ে আর হাতেও তো নিতে দেখি না! পরীক্ষায় যদি ফেল করস, তোর আর রক্ষে নেই, মনে রাখিস...


নেক্সট টাইম তোকে আর কোন বই কিনে দেয়া হবে না। যতগুলো বই কিনসস সেগুলো আগে নিয়মিত পড়বি, তারপর নতুন বই ভেবে দেখবো...

ততদিনে আমার নতুন উপন্যাস পড়ার প্রন্থা পেয়ে গেছি, নেলী পিসির মাধ্যমে...


তাদের প্রেমের বিয়ে। রঞ্জিত মামা প্রতি সপ্তাহেই হুমায়ূন স্যারের বই কিনতেন। তবে হিমু সিরিজের না। অন্য গল্পের। অন্য চরিত্রের। সেখানে থাকে তিথি, শুভ্র, হাসান, মিসির আলী...
সেই গল্প বলতে গেলে লেখা আরও অনেক লম্বা হয়ে যাবে। তাই লেখা দীর্ঘায়িত করতে চাই না...
সেই গল্প অন্য আরেকদিন...

আমার জীবনে উপন্যাস পড়ার মূল কারণ ছিলো, একটা প্রেম করার! প্রেম করলে মানুষ নাচে, গায়...
বাস্তবে পরীক্ষা করতে চেয়েছিলাম...
পরীক্ষা শেষে বুঝলাম, শুধু নাচে গায় না, বানরের মত লাফাইও, গণ্ডারের চামড়ার মত সবকিছু সহ্য করেও...

বিঃদ্রঃ মিহির ছাড়া জীবনে আর কোন প্রেম আসেনি...
কীভাবে যে এতবছর এখনও একসাথে আছি, কী জানি!
মায়া বড়ই খারাপ জিনিস। একবার মায়ায় পড়ে গেলে, এই মায়া থেকে বের হওয়া সম্ভব না...

#ভালো_থাকুক_তারা_ভালোবাসে_যারা


নয়ন বড়ুয়া
জানুয়ারি, ২০২৪
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০২৪ সকাল ১০:০৮
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ ভোজ

লিখেছেন ইসিয়াক, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৪০


গতকাল শরীরটা ভালো ছিলো না। তার জেরেই সম্ভবত ঘুম থেকে উঠতে বেশ বেলা হয়ে গেল। ঘুম ভাঙলেই আমি প্রথমে মোবাইল চেক করে দেখি কোন জরুরী কল এসেছিল কিনা। আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরার ট্রেন

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:১২


ঈদের ছুটিটা যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। বারোটা দিন—ক্যালেন্ডারের হিসেবে ছোট, কিন্তু হৃদয়ের হিসেবে এক বিশাল পৃথিবী। সেই পৃথিবীতে ছিল হাসি, ছিল কান্না, ছিল ঘরের গন্ধ, ছিল প্রিয় মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক: একটি প্রগতিশীল (?) অগ্রযাত্রা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৮


আমি আসলে জন্মগতভাবেই খুব আশাবাদী মানুষ। সত্যি বলছি। ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে যখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালা জারি করল, আমি মনে মনে বললাম , অবশেষে কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×