somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতিতে চির রঙ্গীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১৭ ই মে, ২০২০ বিকাল ৪:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্লগে রেজিস্ট্রেশন করার সময় যখন নিকনেম কি নেব বলে ভাবছিলাম তখন কেন যেন সবচেয়ে প্রথমেই ফেলে আসা প্রানপ্রিয় ক্যম্পাসের কথাই মনে এসেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারাই পড়াশোনা করেছে, তারা সবাই জানে যে কি অসম্ভব এক আকর্ষন এই ক্যম্পাসের যা বৃদ্ধ বয়সেও মানুষকে নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত করে সবসময়। জীবনের স্বার্নালী এক অধ্যায় সময়টা। ক্যম্পাসে কাটানো প্রতিটি দিন একেকটি রঙ্গীন স্মৃতি এখন।



স্মতিময় কার্জন হল। ক্লাসের ফাকে ফাকে কত যে আড্ডা দিয়েছি এই সবুজ মাঠে । পকেটে তখন খুব বেশি টাকা থাকতো না। ঝালমুড়ি, চপ সিঙ্গারাও তখন অনেকে মিলে ভাগাভাগি করে কিনে মাঠে বসে খেতে খেতে চায়ের কাপে ঝড় তুলতাম। পাশ দিয়ে হেটে যাওয়া স্যারেরা দেখেও না দেখার ভান করে চলে যেতেন। কে জানে হয়ত তারাও তখন নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হতেন!



কলাভবনের এই অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের পাশে যতবারই দাড়িয়েছি, ততবারই শিহড়িত হয়েছি , আবেগতাড়িত হয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিক আবেদন ফুটে উঠেছে এই স্থাপত্যশৈলীতে। সেই আমলে মোবাইল ছিল না। বন্ধুদের মাঝে যাদের ক্যামেরা ছিল তাদের বন্ধুদের মাঝে ছিল দারুন কদর। প্রচন্ড বিরক্তি ও দেমাগ দেখিয়ে সেই ক্যামেরাম্যান বন্ধু আমাদের আবদার মিটিয়ে এই সব অসাধারন জায়গাগুলোয় ছবি তুলে দিত।



উপড়ের ছবিটি সাইন্স এনেক্স ভবনের। ভুগোল ও ম্যাথ ডিপার্টমেন্টে কিছু বন্ধু ছিল। তাদের সাথে আড্ডা দিতে যাওয়া হত সেখানে। এছাড়াও শহীদ মিনারের সামনে অবস্থিত এই ক্যম্পাসে যাওয়া হত শহীদমিনারে কোন অনুষ্ঠানে যোগদান করতে গেলে। অনেক সময়ই পথ নাটক, গান, আবৃত্তির আয়োজন করত উদিচির ছাত্রছাত্রীরা।



টিএসসির এই চত্বরে বসে বিখ্যাত কলিজার সিঙ্গারা খেতে খেতে আড্ডা দেয় নাই এমন ঢাবি স্টুডেন্ট মনে হয় খুজে পাওয়া যাবে না। টিএসসি মিলনায়তনে মাঝে মাঝে বিভিন্ন ব্যান্ডের কনসার্ট হত। টিকিটবীহিন সেই সব কনসার্টে চেয়ারে বসে গান শোনার জন্য অনেকে অনেক আগে গিয়েই জায়গা দখল নিত। অনেক সময় ভেতরে জায়গা না পেলে বাইরে মাঠে বসে শুনতাম ফিডব্যাক, মাইলস, এলারবি ইত্যাদি ব্যন্ডের গান। মৌসুমি কারে ভালবাস তুমি , রুপালি গিটার ইত্যাদি গানগুলোর সাথে আমারাও গলা মেলাতাম।



চারুকলায় যাওয়া হত মুলত পহেলা বৈশাখে। আমাদের সময়ের চারুকলার শোভাযাত্রায় এত হাবিজাবি মুখোশের প্রচলন ছিল না। তবে চারুকলায় যারা পড়ত , তারা ছিল বিড়াট আতেল। সবসময় একটা বাড়তি গাম্ভীর্য নিয়ে তারা চলাফেরা করত। বিপাশা হায়াত তখন চারুকলায় পড়ত। তাকে দেখতেও মাঝে মাঝে যাওয়া হত।



বৈশাখি, চৈতালি, ক্ষনিকা, তরঙ্গ, শ্রাবন ইত্যাদি নামে বিভিন্ন রুটে চলাচল করা এই বাসগুলো ছিল আড্ডা, ঝগড়ার প্রানকেন্দ্র। সে সময় এই বাসে ঝুলে ঝুলে ভার্সিটিতে যাওয়ার আনন্দই ছিল অন্যরকম।

লকডাউনে বসে বসে ঘুরেফিরে ক্যম্পাস লাইফের বিভিন্ন ছবি দেখতে দেখতে মনে হল, ব্লগেও একটি পোস্ট দিয়ে জানতে চেষ্টা করি বর্তমান ঢাবিয়ান ও এক্স ঢাবিয়ান কে কে আছেন এই ব্লগে। আমি সাইন্স ফ্যকাল্টিতে ছিলাম। অর্থাৎ কার্জন হল ছিল আমার মুল ক্যম্পাস। আমার জানামতে ব্লগার, জুন, সোহানী, রিম সাবরিনা জাহান সরকার, ভুয়া মফিজ, সেলিম আনোয়ার, শের শাইরি ইত্যাদি এক্স ঢাবিয়ান। তবে কে কোন ফ্যকাল্টিতে ছিলেন জানা নেই। এছাড়াও হয়ত আরো অনেক ব্লগার আছেন যাদের কথা জানা নেই।

লকডাউনে দুশ্চিন্তা, মানসিক অবসাদ ভুলে থাকতে এখন মানুষ পুরোনো বন্ধুদের সাথে অনলাইনে বিভিন্ন গ্রুপে আড্ডা দিচ্ছে।সর্বাত্মক ভাল থাকার প্রচেষ্টায় পারি দিচ্ছে সবাই কঠিন এক সময়। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই মুলত এই পোস্টের অবতারনা।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০২০ বিকাল ৪:২১
২২টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রুবা আমি তোমাকে ভুলিনি

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:৫৫



আমার বন্ধু রফিকের বিয়ে।
সে সাত বছর পর কুয়েত থেকে এসেছে। বিয়ে করার জন্যই এসেছে। রফিক একদিন আমার বাসায় এসে হাজির। আমি তাকে প্রথমে দেখে চিনতেই পারি নাই।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্যরচনাঃ ক্যামেরা ফেস

লিখেছেন আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৫৯


খুব ছোট বেলায় আমাদের শহরে স্টার স্টুডিও নামে ছবি তোলার একটা দোকান ছিল। সেটা পঞ্চাশের দশকের কথা। সে সময় সম্ভবত সেটিই ছিল এই শহরের একমাত্র ছবি তোলার দোকান। আধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবাসন ব্যাবসায় অশনি সংকেত

লিখেছেন শাহ আজিজ, ১১ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:২২




জুলাইয়ের শুরুতে একটি বিজ্ঞাপন দেখা গেল একটি আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের । তারা ৫০ পারসেনট কমে ফ্লাট বিক্রি করছে । মুখ চেপে হাসলাম এত দুঃখের মাঝেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

রৌপ্যময় নভোনীল

লিখেছেন স্বর্ণবন্ধন, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৯


একটা অদ্ভুত বৃত্তে পাক খাচ্ছে আত্মা মন,
বিশ্বকর্মার হাতুড়ির অগ্ন্যুৎপাতে গড়া ভাস্কর্যের মতো গাড়-
হাড় চামড়ার আবরণ; গোল হয়ে নৃত্যরত সারসের সাথে-
গান গায়; সারসীরা মরেছে বিবর্তনে,
জলাভুমি জলে নীল মার্বেলে সবুজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

""--- ভাগ্য বটে ---

লিখেছেন ফয়াদ খান, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৪

" ভাগ্য বটে "
আরে! সে কী ভাগ্য আমার
এ যে দেখি মন্ত্রিমশায় !!
তা বলুন দেখি আছেন কেমন
চলছে কেমন ধানায় পানায় ?
কিসের ভয়ে এতো জড়োসড়ো
লুকিয়ে আজি ঘরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×