(ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা একটা আয়াত প্রায়ই ফলাবার চেষ্টা করে
'যার যার ধর্ম তার তার কাছে' )
বিষয়টি আরো একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতা’য়ালা ধর্মের ব্যাপারে কি বলছেন, ‘নিশ্চয়ই জীবন বিধান হিসেবে আল্লাহর নিকট ইসলামই একমাত্র মনোনীত দ্বীন।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং- ১৯ এর ব্যাখ্যা দেখুন)
পবিত্র কুরআনের ত্রিশতম পারায় সূরা কাফিরুনে আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর নবীকে দিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন, তোমাদের দ্বীন (ধর্ম) তোমাদের জন্য, আমাদের দ্বীন (ধর্ম) আমাদের জন্য।’ এখানেও ধর্মের পক্ষের কথা। অর্থাত তোমরা যে ধর্মেরই অনুসারী হও ধর্মকে মিশ্রণ করা যাবে না, ধর্মের ব্যাপারে নিরপেক্ষ থাকা যাবে না, তোমরা তোমাদের ধর্মের পক্ষে থাকো আমরা আমাদের ধর্মের পক্ষে থাকি। বিশেষ করে একজন মুসলমানের জন্য ইসলামকে সাম্প্রদায়িক ভাবার এবং নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষতার অনুসারী বানানোর অধিকার থাকতে পারে না। এটা তার ঈমানের সাথে একেবারেই সাংঘর্ষিক বা বেঈমানী।
ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ যদি পরধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, পরধর্মের অধিকার, তাদের প্রতি উদারতা, সহিষ্ণুতা হয় তাহলে এর কোন বিষয়টি ইসলাম অমুসলিমদেরকে দেয়নি? সুতরাং নিজে গোলাম হয়ে প্রভুর আইনে নাক গলানো হচ্ছে কোন সাহসে? ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা লক্ষ্য করুনঃ-
১। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে অমুসলিমদের উপাসনালয় ভাংতে এবং তাদের উপাস্য দেবদেবীদের সম্পর্কে কটুক্তি করতে নিষেধ করেছেন।
২। বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সাঃ) ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সদাচারণ করতেন। তাদের গীবত করা, স্বার্থহানী, অর্থ-সম্পদ আত্মসাত ও নষ্ট করা এবং তাদের প্রতি জুলুম করা কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। এর ব্যতিক্রম করা হলে নবী করীম (সাঃ) কিয়ামতের ময়দানে মজলুম অমুসলিমদের পক্ষাবলম্বন করবেন বলে মুসলমানদেরকে সতর্ক করে দিয়েছেন। (হাদীস)
৩। তাদের নিজেদের পরিমণ্ডলে শূকর পালন ও মদ উৎপাদন, মদের ক্রয়-বিক্রয় ও তা খাওয়া পান করায় কোনো বিধি-নিষেধ আরোপ করেননি। এমনকি কোনো মুসলমান কোনো অমুসলিমদের মদ-শূকরের ক্ষতি সাধন করলে তার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
৪। অমুসলিমদের পারিবারিক কর্মকাণ্ড, তাদের বিয়ে-শাদী, পূজা-পার্বণ, উপাসনালয় নির্মাণ, সংস্কার-সংরক্ষণে তাদের ধর্ম অনুযায়ী পালিত হবে তাতে কেউ বাধা দিতে পারবে না।
৫। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে তাদের মৌলিক মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার একজন মুসলিম নাগরিকের মতোই সংরক্ষিত হবে।
উল্লেখিত কথাগুলোর একটিও আমার মন-মস্তিষ্ক প্রসূত নয়। প্রমাণ হিসেবে দেখুন, ফাতহুল বয়ান, ৪র্থ খণ্ড, ৯৩ পৃষ্ঠা, ফতহুল কাদীর, ৪র্থ খণ্ড, ৩৮১ পৃষ্ঠা, আল মাবসুত, ১৩শ’ খণ্ড, ৩৭ পৃষ্ঠা, শরহে সিয়ারুল কবীর, ৩য় খণ্ড, ২৫১ পৃষ্ঠা, বাদায়ে আছ ছানায়ে, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১১৩ পৃষ্ঠা, দুররুল মোখতার, ৭ম খণ্ড, ১১২ পৃষ্ঠা, কিতাবুল খারাজ, ৮২ পৃষ্ঠা।
আলোচিত ব্লগ
পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
নির্বাসিত নক্ষত্রের শহর !

রাতের শেষে যে শহর জেগে থাকে
তার ভাঙা নীয়ন আলোয়
আমি দেখেছি মানুষের মুখ—
অথচ দেখিনি মানুষ ।
দেখেছি ক্লান্ত আত্মারা,
ধীরে ধীরে আত্মহুতি দেয় প্রতিরাতে।
চারদিকে শব্দ ছিল,
হাজার কথার বিষাক্ত ভিড় ছিল,
কর্পোরেট... ...বাকিটুকু পড়ুন
"তোমরা আমাদের মানুষদের কেন খুন করলে?"
জাপানের মানুষেরা আজও বুঝতে পারে নাই, কেন তাঁদের ছেলেমেয়েদের এভাবে হত্যা করা হলো। সেই দেশের মুরুব্বীরা এখনো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরেন। আক্ষেপ করেন। আমার বোনের জামাই জাপানে পোস্ট ডক... ...বাকিটুকু পড়ুন
শত্রুর শত্রু
উগ্রবাদী আর উদারবাদী, দুটি ইসলামই একই রাজনীতি করে। তাবলীগ জামাতের লোকটি মাঠে এসে বলে মেয়েদের ফুটবল হারাম। তারপর বিশ্বকাপে সৌদি আরবকে সমর্থন করে রাস্তায় নামে। এই দুটি আচরণ পরস্পরবিরোধী নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন
রুবা

বিয়ের মঞ্চে বসে আছি। মঞ্চ বলতে চকির মতো একটা খাট, তার সম্ভাবত এক পা ছোট বা নাই, কারন সামান্য নাড়াচাড়ায় খাটা টালমাটাল হয়ে একদিকে কাত হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।