ধরুন ২০০৮-এ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতে গেলেন হিলারি ক্লিনটন (জেতার সম্ভাবনাই বেশি)। বিল ক্লিনটনকে কী বলে ডাকবেন? ফার্স্ট জেন্টলম্যান? ডিকশনারিতে আপাতত শব্দটি না থাকলেও ভুল হওয়ার চান্স নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের যাবতীয় ফার্স্ট লেডি ও ফার্স্ট ফ্যামিলিগুলো নিয়ে মার্কিন লেখক কার্ল এস. এন্থনি লিখেছেন দশখানা বই। তাকে এক কথায় ফার্স্ট লেডি বিশেষজ্ঞ বলা যায়। নিউজউইক ম্যাগাজিনে তিনিই বয়ান করেছেন বিল ক্লিনটন ওরফে হবু ফার্স্ট জেন্টলম্যানের আসন্ন দায়-দায়িত্ব।
হিলারি জিতলে মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশনের ইতিহাসে একসঙ্গে লেখা হবে দুটো মাইলফলক। একে তো হিলারি হবেন প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট, দ্বিতীয়ত সাবেক জনপ্রিয় এক প্রেসিডেন্ট হবেন দেশের এক নম্বর ভদ্রলোক। তার দিকে মিডিয়ার নজর কোন আঙ্গিকে কী পরিমাণ থাকবে তা এখুনি পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তবে হিলারির জন্য তার প্রচারণার বাহার দেখে এখুনি বলে দেয়া যায় যে, ক্লিনটন শুধু স্ত্রীর সঙ্গী হিসেবেই পাশে থাকবেন না। আংশিক ক্ষমতার চর্চাও করবেন (যেমনটি হিলারিও করেছিলেন)।
ফার্স্টলেডিদের ক্ষমতার চর্চাকে কেউ অবশ্য অপব্যবহার বলতে পারেননি। হয়তো প্রয়োজনেই তারা প্রেসিডেন্টদের প্রভাবিত করেছিলেন। ভূরি ভূরি উদাহরণ আছে খোদ আমেরিকাতেই। ক্লিনটন আমলে হিলারি একখানা অফিস পেয়েছিলেন। পরোক্ষ প্রত্যক্ষ দুভাবেই তিনি নিজের ক্ষমতা জাহির করেছিলেন। কিন্তু অনেক সময় কেবিনেটের আসনের চেয়ে ডিনার টেবিলের চেয়ারটাই বেশি শক্তিশালী হয়ে যায়। সাবেক ফার্স্টলেডি মেরি লিংকন তার প্রেসিডেন্ট স্বামীকে সামরিক কর্মকর্তা ও কেবিনেট সদস্য নির্বাচনে যথেষ্ট প্রভাবিত করেছিলেন। নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে পাইয়ে দিয়েছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদ।
উড্রো উইলসন স্ট্রোক করার পর মূলত তার স্ত্রী এডিথ উইলসনই গোপনে প্রেসিডেন্টের দৈনন্দিন কাজগুলো করেছিলেন। কিউবার ‘মিসাইল ক্রাইসিস’ যুগে প্রেসিডেন্ট কেনেডি সরকারি গোপন তথ্যগুলো সবার আগে ফার্স্টলেডি জ্যাকি কেনেডিকেই দিতেন। রোনাল্ড রিগ্যানের স্ত্রী ন্যান্সি রিগ্যানের ক্ষমতা ছিল অদ্ভুত। ব্যক্তিগত জ্যোতিষীর সঙ্গে পরামর্শ করে তিনিই ঠিক করতেন প্রেসিডেন্ট রিগ্যান কখন কোথায় যাবেন!
হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইং বিভাগে নিজের একটি আলাদা অফিস খুলে ও আলোচনায় এসেছিলেন হিলারি ক্লিনটনও। সুতরাং ফার্স্ট জেন্টলম্যান হিসেবে বিল ক্লিনটন শুধু যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ত্রাণ বিতরণেই ব্যস্ত থাকবেন, এমনটি আশা করা যায় না।
১৯৬৪ সালে হলিউডে নির্মিত হয়েছে কমেডি ফিকশন মুভি ‘কিসেস ফর মাই প্রেসিডেন্ট’। এতে পলি বার্গেন অভিনয় করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্টের চরিত্রে। চলচ্চিত্রটির পোস্টারে প্রেসিডেন্ট পলি বার্গেনের পেছনে তার স্বামী তথা ফার্স্ট জেন্টলম্যানকে দেখা গেছে মাথায় হ্যাট পরে কিছুটা ইতস্তত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন। অভ্যর্থনার চাপে তার হ্যাট থেকে ফুল উপচে পড়ার দশা।
ক্লিনটনকে এমন দৃশ্যে কল্পনা না করাই ভাল। তিনি সহসাই তার ‘মি. প্রেসিডেন্ট’ খেতাব খোয়াবেন না। হিলারির সঙ্গে বিদেশ সফরে গিয়ে সবার সঙ্গে কূটনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করবেন ঠিকই। তবে নাক গলাবেন কিনা তা নিয়ে এখুনি কেউ খুঁতখুঁত করছে না। আফটার অল ইলেকশনটা এখনো বাকি।
ফের ধরা যাক হিলারি জিতলেন। তাহলে ফার্স্ট জেন্টলম্যানের পোশাকটা কেমন হবে? এর আগে ফার্স্টলেডিদের ফ্যাশন তো ভালোই প্রচার পেয়েছে। যেমন, ৮০’র দশকে ন্যান্সি রিগানের লাল স্যুট, হিলারির নীল গাউনঃ। হ্যাঁ, ক্লিনটনেরও আছে বিগ বয় জিন্স। এবং ওটার মধ্যে অবশ্যই থাকবে তাপ-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



