প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানোকে সরকারের ‘জীবন-মরণ সমস্যা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
এই সরকার নাকি দেশ ডিজিটাল করে ফেলছে, করছেও আসলে। মানুষের হাতে হাতে মোবাইল, মোবাইলে মোবাইলে ক্যামেরা, সেই সাথে ইন্টারনেট, ইন্টারনেটে চলে ফেসবুক। আর সবকিছুর সদব্যাবহারে প্রশ্নপত্র ফাস হয়ে যায় দুধভাতের মত। ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল জিনিসপত্রের ব্যবহারে নকল ছড়াচ্ছে, অসুবিধা কি? যুগের সাথে তাল মিলিয়ে দেশ এগিয়ে যাবেনা?
কেবল সরকারের মাথাই কাজ করছেনা ডিজিটাল জমানায় ডিজিটাল যন্ত্রপাতির সুবিধা কিভাবে নেয়া যায় এ ব্যাপারে। সরকারী প্রেসে প্রশ্নপত্র ছাপানো এবং সারাদেশে বিতরন একটা বিশাল ঝক্কির ব্যাপার। এই মোবাইল ক্যামেরা আর ফেসবুকের যুগে প্রশ্ন ফাস এড়ানোর কোন প্রথাগত উপায় আর নাই। দেশে দুর্নীতি আর নৈতিক অবক্ষয় এমন পর্যায়ে গেছে যে কোন না কোন পর্যায়ে ফাস হবেই হবে। একটা দুইটা প্রশ্ন হলেও হবে।
তবে ডিজিটাল যুগের নানা সুযোগ সুবিধার ব্যবহার করা সহজেই সম্ভব, যাতে করে সরকারের অনেক খরচও বেঁচে যাবে এবং প্রশ্ন ফাসের আশংকাও একেবারে নির্মুল হবে। যেমনঃ
১। সারা দেশের জন্য ৪-৫ টি প্রশ্নের সেট তৈরী করা যেতে পারে। ৪-৫ সেট প্রশ্নে আসলেই একটা বইয়ের পুরটা কাভার হয়ে যায়। অক্ষরে অক্ষরে না হলেও যতটূকু দরকার সবটূকুই চলে আসে। ৩-৪ টা করলেও যথেষ্ঠ। এখনো কিন্তু প্রশ্নের সেট অনেকগুলাই করা হয়। তবে আগে থেকে নির্দিস্ট করা থাকে কোনটা পরীক্ষায় আসবে এবং সেটাই ফাস হয়।
২। এই প্রশ্নের সেটের ফাইনালাইজেশনের কাজটা করতে হবে পরীক্ষার দুই তিনদিন আগে। এবং শিক্ষামন্ত্রী অথবা এমন কারো কাছে গচ্ছিত্ থাকবে।
৩। নির্দিষ্ট সাবজেক্টের পরীক্ষার দিন সকালে ২ ঘন্টা আগে এই প্রশ্নপত্রের সেটের ঠিক কোনটা পরীক্ষায় দেয়া হবে তা মন্ত্রী অথবা শিক্ষা সচিব নিজে ঠিক করবেন দৈব চয়ন পদ্ধতিতে।
৪। সকল বোর্ডের জন্য প্রশ্ন পত্র অভিন্ন হতে পারে, তবে বোর্ডে বোর্ডে প্রশ্ন সহজ কঠিন হবার অভিযোগ কমবে এবং ফলাফলে একটা ভারসাম্য আসতে পারে।
৫। সকল কেন্দ্রে দুটি করে প্রিন্টার এবং দুটি করে ইন্টারনেট কানেকশন থাকবে। নির্ধারিত সময়ের এক ঘন্টা আগে সর্বত্র প্রশ্নপত্র ইমেইলে পাঠানো হবে এবং কেন্দ্রেই তা আধা ঘন্টায় প্রিন্ট করা সম্ভব। এই এক ঘন্টায় কেউ প্রশ্ন পেয়ে পুরা উত্তর মুখস্ত করে ফেলতে পারলে করুক। আর মস্তিস্কের ক্ষমতাও নিশ্চয়ই অসাধারন হবে।
৬। কোথাও ঝামেলা হচ্ছে নাকি তা জানতে বোর্ডে একটা সেন্ট্রাল মনিটরিং সেল থাকতে পারে।
৭। প্রথম প্রথম কম গুরুত্বপূর্ন পাবলিক পরীক্ষার সময়ে এটা প্রয়োগ করা যেতে পারে।
৮। এজন্য ব্যয় হবে খুবই কম এবং স্থানে স্থানে প্রশ্ন পাঠাবার খরচও বেঁচে যাবে। কমে যাবে সরবরাহের নানা ঝক্কি।
এছাড়াও আরো অনেকগুলো সমাধান আছে। এটা এই ব্লগারের স্বল্প জ্ঞানে ভাবা একটা সমাধান। উনারা চাইলে আরো ভালো কিছু বের করে ফেলতে পারবেন আশা করি। ব্লগাররা চাইলেও একটা নির্ভুল সমাধান বের করে দিতে পারে। দু তিনটা বিকল্প সমাধান তিরি করে দরকার হলে আপনাদের দরজায় পৌছে দেয়া যায়, তবে সেটা আপনারা ভেবে দেখবেন তো?
মহামান্য নাহিদ সাহেব, মাননীয় মন্ত্রী আমার। প্লিজ, প্লিজ, ব্লগে আপনাকে নিয়ে লেখাগুলো একটূ পড়েন।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০১৬ দুপুর ১২:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


