somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রশ্ন আউট

৩০ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মন্ত্রী মহোদয়তো বলেন নাই নকল করে পরীক্ষা দিতে। এখন যেকোন ভাবেই হোক প্রশ্ন আউট হয়েছে। বাজারে দেদারসে প্রশ্ন বিক্রী হচ্ছে। ফেসবুকে প্রশ্ন। ইনবক্সে প্রশ্ন। আপনি করলেন কি আপনার বাচ্চার প্রাইভেট টিউটরকে বললেন প্রশ্ন লাগবে যেকোন উপায়ে। আপনি নিজেও নেমে গেলেন প্রশ্ন কালেকশন করতে। পরীক্ষার আগের রাতে ঘুম থেকে জাগিয়ে আপনার বাচ্চাকে বললেন, নে এই হলো তোর প্রশ্ন। পড়ে নে। পরেরদিন পরীক্ষা শেষ হল। অতঃপর আপনি লেগে গেলেন মন্ত্রীর বংশ উদ্ধার করতে। তখন আপনার কথা শুনে মনে হয় আপনার চেয়ে নীতিবান এ ধরাধামে দ্বিতীয়টি নেই। আসলে কথা হলো কি জানেন? আপনার মত হিপোক্রীট এ দুনিয়ায় আর দ্বিতীয়টি নেই।

বাজারে বড় বড় ছুড়ি পাওয়া যাচ্ছে খুব। সস্তায় ছেড়েছে। বিশাল ফলাওয়ালা জাহাজের লোহার ছুড়ি। গাড়ির স্প্রীংয়ের লোহার ছুড়ি। অস্ত্রমন্ত্রী এত সস্তায় ছুড়ি পাওয়া যাচ্ছে কেন এ নিয়ে কোন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন না। বারবার এটা সেটা, আগডুম বাগডুম বলছেন। পত্রিকায় এর বিরুদ্ধে লেখার তুবড়ি ফুটছে। কিন্তু ছুড়ির সাপ্লাই কমছে না। সস্তায় এত ভাল জিনিস দেখে আপনার মাথা হল খারাপ। আপনি করলেন কি একটা ছুড়ি সস্তায় পেয়ে কিনে নিয়ে আসলেন। তারপর রাতের বেলা আপনার ঘুমন্ত বাচ্চাকে তুলে দিলেন গলায় ছুড়ি চালিয়ে। এখন কি আর করবেন? এখনতো কিছু আর করার নেই। যেহেতু কিছু করার নেই তাই অস্ত্রমন্ত্রীকে গালাগালি করছেন। আপনি হলেন একটা আস্ত হিপোক্রীট।

আপনারা যারা প্রশ্ন আউট হওয়ার ব্যাপারে মন্ত্রীকে গালাগালি করছেন আপনাদের কাউকে শিক্ষামন্ত্রী করলে আপনারা কি করতেন? আপনারা কি পারতেন এর চেয়ে ভাল কিছু করতে? সঠিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে? ন্যায়নিষ্ঠার সাথে জাতিকে শিক্ষিত করে তুলতে? আমি জানি আপনারা কেউ পারবেন না। কারণ আপনারা যখন ছাত্র ছিলেন আপনাদের সিলেবাসে ন্যায়নীতি কোন কালেই ছিল না। কেউ আপনাদের ন্যায় ও অন্যায়ের সীমারেখা দেখিয়ে দেয়নি। আপনাদের মধ্যে যাদের মোটামুটি নীতিবান দেখতে পান তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ন্যায়নীতি শিখেন নি। পারিবারিক বা ধর্মীয় গন্ডীর মধ্যে থেকে বা অন্য কোন এক্সট্রা অর্ডিনারী উপায়ে তাদের সত্য ও মিথ্যার প্রভেদকে শিখতে হয়েছে। আপনাদের সিলেবাসে বাংলা, ইংরেজী, অংক, বিজ্ঞান, সমাজ বা ইতিহাস কোথাওই সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য শেখানো হয় না। শিক্ষামন্ত্রী নিজে যে সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থার ফসল সে সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থার ফসল যারাই হবে তার কেউই জাতিকে রোগমুক্ত বা সুস্থ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারবে না। তাই শিক্ষামন্ত্রীর বদলে একই ধরনের সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থার ফসল যেকোন ব্যক্তিকে যদি শিক্ষামন্ত্রী করা হত তাহলেও নকল, প্রশ্নফাঁস বা এর চেয়েও মারাত্মক কিছু চলতেই থাকত।

গর্দভ নাকি ঘোলা পানি পান করে। ঘোলা পানিতেই গাধার তৃষ্ণা মিটে। পিপাসা মিটাতে তার স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পানির প্রয়োজন নেই। যাদের জ্ঞানের তৃষ্ণা শুধু পরীক্ষা পাশের মধ্যেই সীমিত তাদের জন্য বর্তমানে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাই আদর্শ। কারণ এখানে নকল, প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে ঘোলা পানিতে পাশ করার সুযোগ আছে। তাই এই শিক্ষাব্যবস্থাকে বলা যায় গর্দভীয় শিক্ষা ব্যবস্থা। গর্দভীয় শিক্ষার প্রডাক্ট গর্দভ হবে বলাই বাহুল্য। তারা না পারবে বাংলা বার মাসের নাম বলতে, না পারবে সুদ ও ব্যবসায়র পার্থক্য বুঝতে। এরাই বিয়ে ও লিভ টুগেদারের পার্থক্য বুঝতে অক্ষম। সমাজের বড় বড় নাস্তিক, টাউট, সুদখোর, ঘুষখোর লোকজন এ খামারেরই প্রডাক্ট।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ওপর একটা আর্টিকেল লিখেছেন আনিসুল হক। তার লেখাটি পাঠ করার পর এক পাঠকের মন্তব্যঃ

"আরে গর্দভেরা, এইজন্যইতো তোদের লেখাপড়ার ওপর আস্থা হারিয়েছি অনেক কাল আগেই। নিজের বাচ্চাকে আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন চাহেন তো কুরআনে হাফেজ বানাবো, হক্কানী আলেম বানাবো। কিন্তু ফাঁস করা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ে চোর বানাব না। নাস্তিক আর বেহায়া বানাব না"।

সবার কাছে ঐ মন্তব্যকারীর জন্য দোয়া চাই আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন যেন তার মনের নেক মাকসাদ পুরো করেন।


পড়ুনঃ

আমার মেয়ের লেখাপড়া
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার নাফসকে আচ্ছা করে টাইট দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মানুষের ভিতরে এমন একটি অংশ আছে, যা মানুষকে খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, খারাপ কাজের বুদ্ধি দেয়। ইসলামী পরিভাষায়, আমরা মানুষের এই অংশকে নফস বলি। আপনি খারাপ কাজ থেকে দূরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×