somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লাবণ্যময়ী লুবিয়ানা: 4 (উৎসর্গ: মুখফোড়)

০১ লা মে, ২০০৬ দুপুর ২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লুবিয়ানা ক্যাসেলঃ
প্রেসেরেন স্কোয়ার থেকে টু্যরিস্ট ট্রেনে করে ক্যাসেলে আসা যায়। তবু পাহাড় হেঁটে উঠার আনন্দ হারাতে চাইলাম না। অনেক কষ্ট হলো অনভ্যাসের কারণে। কিন্তু অসাধারণ কিছু দৃশ্যও দেখা গেল। একটি বাড়ির সামনে ফুল ফুটে এক অপার্থিব দৃশ্যের সৃষ্টি করে রেখেছে (ছবি: 2)। পায়ে খিল ধরে যাওয়ায় বেশ কয়েকবার থামতে হলো। যখন চূড়ায় পেঁৗছৈ গেলাম তখন দেখি উল্টো দিকের সহজ রাসত্দা দিয়ে উঠে এসেছে গোটা চারেক টু্যরিস্ট বাস আর কয়েক ডজন গাড়ি। কিন্তু পাহাড় বেয়ে উঠার আনন্দ সব সময়ই আলাদা। এও বুঝতে পারলাম ক্যাসেল হিসেবে এটি খুব একটা দুর্গম ছিল না কখনও।

লুবিয়ানা শহরের প্রতীক এই ক্যাসেল (ছবি: 3)। যদিও এই পাহাড়ে মানুষ বাস করা শুরু করেছিল খৃষ্টপূর্ব 12 শতাব্দীতে তবু সম্ভবত: কাঠের প্রথম দুর্গটি তৈরি করা হয় 11 শতাব্দীতে। 17 শতকের পরে গুরুত্ব হারানোতে ক্যাসেলটি আর্মি গ্যারিসন ও আরো পরে জেলখানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তখন এর ক্ষয় ও ধ্বংস শুরু হয়। এখন আবার নতুন করে ঠিক ঠাক করার কাজ চলছে। ক্যাসেলে ঢুকতেই দেখলাম বিরাট অঙ্গনটিতে চেয়ার বসানো হচ্ছে (ছবি: 4)। মাঝে মাঝেই এখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়। আজ রোববার তেমনি একটা দিন। অনুষ্ঠানে অংশ নেবে বলে কিছু মানুষজন ঐতিহ্যবাহী স্লোভিন পোষাক-আশাক পরে এসেছেন (ছবি: 5)। ক্যাসেলের ভেতরে একটি থ্রি-ডি শো'র ব্যবস্থা আছে। সেখানে পুরো শহরের বিবর্তনের একটি ফিল্ম দেখলাম। ব্যাপ্তি মাত্র 20 মিনিট হলেও থ্রি-ডি হওয়াতে বেশ অন্যরকম লাগলো প্রামাণ্যচিত্রটি। সেখান থেকে বের হয়ে গোলাকার সিঁড়ি (ছবি: 6) বেয়ে উঠতে লাগলাম টাওয়ারের শীর্ষে, যেখানে উড়ছে স্লোভেনিয়ার বিশাল পতাকাটি। টাওয়ার থেকে ছবি তুললাম প্রেসেরেন স্কোয়ারের (মূল ছবি)। শহরের অন্যদিকে ক্যামেরা তাক করেও কিছু ছবি তুললাম। কোনো ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে পর্বতমালা আবার কোনোটার মাঝে লুবিয়ানিকা নদীর আভাস (ছবি: 7/8)।

টাওয়ারে বেশ কিছুক্ষণ বিশুদ্ধ বাতাস উপভোগ করে নেমে ঢুকলাম ক্যাসেলের চ্যাপেলে। চ্যাপেলের ভেতরের দেয়ালের অলংকরণে দেখলাম জার্মান নাম_ধাম। অলংকরণের বৈশিষ্ট্যও অনেক আলাদা (ছবি: 9)। ব্লু হল বলে একটি অডিটোরিয়াম মতো জায়গা আছে সেখানে একটি ফটোগ্রাফ প্রদর্শনী চলছিল। তাতে উঁকি ঝুঁকি মেরে বাইরে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের দর্শক হয়ে গেলাম। কয়েকটি গান শোনার পর আবার শুরুরম্ন করলাম নীচে শহরের দিকে যাত্রা। অনেক দিক দিয়েই নামা যায় পাহাড় থেকে। একটু খাড়া ভিন্ন একটি পথ বেছে নিলাম এবার।

স্লোভেনিয়া বা ইউরোপের অনেক দেশেই এরকম প্রচুর ক্যাসেল আছে। ক্যাসেল মানেই হচ্ছে শক্তিধর শোষকদের নিরাপদ আস্তানা। নিজেদেরকে নিরাপদ করে তারা চাষী আর খামারিদের উপর অত্যাচার করে আদায় করতো খাজনা। অত্যাচারিতরা যাতে ক্ষুদ্ধ হয়ে আক্রমণ করতে না পারে সেজন্য দুর্গম করে বানাতো দুর্গ। কিন্তু তারপরও বারবার ইতিহাসে পতন ঘটেছে এসব দুর্গের। লুবিয়ানা ক্যাসেলের চূড়ার কাছে সেরকম একটি চাষী বিদ্রোহের বিশাল স্মৃতিসত্দম্ভ আছে। অনেকক্ষণ বসেছিলাম সে জায়গাটায়। পরে ছবি তুলবো ঠিক করেছিলাম। কিন্তু ঘুর পথে নেমে আসায় ছবিটা তোলা হয়নি। নাকি অবচেতনে অন্য কিছু কাজ করছিলো। তবে কি বিদ্রোহের ছবির চেয়ে দুর্গের ছবিই আমাদের প্রিয় বেশি?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রফিকুল ইসলামের ২য় বিয়ে করার যুক্তি প্রসঙ্গে chatgpt-কে জিজ্ঞেস করে যা পেলাম...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ইসলামে একাধিক বিয়ে বৈধ, তবে সেটা বড় দায়িত্বের বিষয়। শুধু “বৈধ” হলেই কোনো সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তম বা সবার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায় না। Qur'an-এ বহু বিবাহের অনুমতির সাথে ন্যায়বিচারের শর্তও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×