somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসছে "বাপজানের বায়স্কোপ"

০৮ ই মার্চ, ২০১৫ রাত ১১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




খ্যাতিমান নাট্যকার মাসুম রেজা'র কাহিনী ও সংলাপে আবহমান গ্রাম-বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য নিয়ে তরুণ নাট্যনির্মাতা ও চলচ্চিত্রনির্মাতা রিয়াজুল রিজু নির্মাণ করেছেন তার প্রথম চলচিত্র ‘বাপজানের বায়স্কোপ'।

সম্প্রতি এফডিসির ভিআইপি গ্যালারীতে চলচিত্রটির কলাকুশলী ও কারিগরি সদস্যবৃন্দদের জন্যে একটি টেকনিক্যাল প্রিভিউ এর আয়োজন করা হয়েছিলো। পূর্ব পরিচিতের সূত্র ধরে আমারো সুযোগ এসে যায় প্রথমবারের মত এফডিসি যাওয়া এবং কলাকুশলীদের সাথে বসে একসাথে টেকনিক্যাল প্রিভিউটি দেখার।

এতক্ষণে হয়ত বুঝতেই পারছেন চলচিত্রটির মূল উপজীব্য আমাদের গ্রাম-বাংলার সুপ্রাচীন ঐতিহ্য বায়োস্কোপ কে কেন্দ্র করে। চলচিত্রের পটভূমি যমুনা পাড়ের চর "চর ভাগিনা"। চরের মালিক জীবন সরকার আর প্রান্তিক চাষী হাসেন মোল্লা কে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে কাহিনী। হাসেন মোল্লার পিতা চরে চরে বায়োস্কোপ খেলা দেখিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পিতার মৃত্যুর পর সেই বায়োস্কোপের বাক্সটি ঘরেই পড়ে থাকে। ছাপোষা কৃষক হাসেন মোল্লাকে তবুও ক্ষণে ক্ষণে নাড়া দিয়ে যায় বাবার শেষ স্মৃতি, পোড়ায় মন। একসময় হাসেন মোল্লা ঠিক করে ফেলে সপ্তাহে একদিন করে হলেও সে বায়োস্কোপের খেলা দেখাবে। বায়োস্কোপ বাক্সটি ঝেড়ে মুছে পরিস্কার করে প্রস্তুত করে দূর চরে খেলা দেখাতে যাবার জন্যে। পুরনো ছবিগুলো নষ্ট সময়ের ব্যবধানে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় হাসেন মোল্লা এক নতুন কাহীনি ছবিতে আঁকিয়ে নেয়, নতুন রীল বানায়। কিন্তু চরের মহাজন জীবন সরকারের আঁতে ঘা লাগে তাতে। সে ঘোষণা করে দেয় এই বায়স্কোপ চলবে না, এই খেলা দেখানো যাবে না! এরপর একটি চর, চরবাসী ছাপোষা মানুষজন ও চর মহাজন জীবন সরকারের মধ্যে সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে চলচিত্রের কাহিনী এগিয়ে চলে।

চলচিত্রের প্রধান চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, শতাব্দী ওয়াদুদ, সানজিদা তন্ময়, হাফসা মৌটুসি, মাসুদ মহিউদ্দিন, তারেক বাবু, তৌফিক আহমেদ হিমু প্রমুখ।

নিজের প্রথম চলচিত্রেই নির্মাতা রিয়াজুল রিজু সস্তা জনপ্রিয়তার আশায় তথাকথিত কমার্শিয়াল মুভি না বানিয়ে অন্যধারায় গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করার সৎ সাহস দেখিয়েছেন বলে তাকে সাধুবাদ জানাই। মাসুম রেজার গল্পে সুকৌশলে, সম্পুর্ণ অন্য চেহারায় আবির্ভূত হয়েছে আমাদের গর্বের মুক্তিযুদ্ধ। আবহমান বাংলার হারানো ঐতিহ্যের সাথে মুক্তিযুদ্ধের এ মেলবন্ধন ‘বাপজানের বায়স্কোপ' এর অন্যতম আকর্ষণ। চিত্রগ্রহণ ও সম্পাদনায় মেহেদী রনি বেশ মুন্সিয়ানার সাক্ষর রেখেছেন। চলচিত্রটিকে আরো হৃদয়গ্রাহী করতে এতে গান ব্যবহার করা হয়েছে, তবে কোন লিপ সিঙ্ক করা গান নেই। সব গানই কাহীনিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের সাথে। চলচিত্রটির শিল্প নির্দেশনা দিয়েছেন আমিরুল ইসলাম। গানগুলোতে কন্ঠ দিয়েছেন এস আই টুটুল, চন্দনা মজুমদার, শিমুল খান, মাসুদ মহিউদ্দিন, ফকির জহির উদ্দিন প্রমুখ। ছবিটির শ্যুটিং হয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানার লাঙ্গল মোড়া চর ও দৌলতদিয়ার যৌনপল্লীতে।

জীবন সরকারের সাথে বায়স্কোপ খেলা দেখানো হাসেন মোল্লার টানাপোড়েন কী নিয়ে, তা জানতে হলে যেতে হবে প্রেক্ষাগৃহে। তবে কারুকাজ ফিল্মস এর ব্যানারের বাংলাদেশে মুক্তি পাবার আগেই "বাপজানের বায়স্কোপ" অংশ নেবে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে।

মুভির কলাকুশলী ও কারিগরী সদস্যদের জন্যে রইলো শুভকামনা। সুস্থ্যধারার বাংলা চলচ্চিত্রের জয় হোক!


টিজার ১ঃ


টিজার ২ঃ


টিজার ৩ঃ


বিহাইন্ড দ্য সিনঃ

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১৫ রাত ৯:৪১
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে-১১১

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:২২



দুটি হাঁসের পিছনে একটি হাঁস, দুটি হাঁসের সামনে একটি হাঁস, এবং দুটি হাঁসের মাঝখানে একটি হাঁস। মোট ক’টি হাঁস রয়েছে?

১। লোকে যে কেন বসন্তের গুনগান করে বুঝতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোয়াবিয়া ছিল সত্যদ্রোহী, হাদিস শরীফ দ্বারা প্রমাণীত

লিখেছেন রাসেল সরকার, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৩৩




عن أَبِي سَعِيدٍ الخدري ، قَالَ: " كُنَّا نَحْمِلُ لَبِنَةً لَبِنَةً وَعَمَّارٌ لَبِنَتَيْنِ لَبِنَتَيْنِ ، فَرَآهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَنْفُضُ التُّرَابَ عَنْهُ ، وَيَقُولُ: وَيْحَ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাড়ীর সবকিছু এক নম্বর শুধু ব্রেকটা একটু নড়বড়ে!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:০২




দলের ভিতর শেখ হাসিনার চলমান শুদ্ধি অভিযান দেখে উপরের শিরোনামটি মনে পড়ল, ভাল কিছু করতে হলে আগে নৈতিক স্বচ্ছতা থাকতে হয় তাহলে মানুষ মন থেকে নিবে।
ছাত্রলীগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি রক্তাক্ত লাল পদ্ম

লিখেছেন ইসিয়াক, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৪


সেল ফোনটা বেজেই চলেছে ।বিরক্ত হয়ে ফোনটা তুললাম। রাগে গা জ্বলে যাচ্ছে বলে নাম্বারটা না দেখেই চেঁচিয়ে বললাম ।
-এই কে ?
- আমি ।
মিষ্টি একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সবাই যদি দেশকে ভালোবাসে, এত ভালোবাসা যায় কোথায়?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:১৮



সবাই ভালোবাসা চায়, সবাই ভালোবাসতে চায়, নারীরা হয়তো একটু বেশী চান, এটাই প্রকৃতির নিয়ম! কোন দেশ তার নাগরিকের কাছে কোনদিন ভালোবাসা চাইতে আমি শুনিনি; বিশেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×