somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেয়েটি মরে গিয়ে বিড়াল হয়ে গিয়েছিলো!

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৫:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলা থেকে একটা বিশ্বাস ছিল- কেউ আত্মহত্যা করলে সে ভূত বা পেত্নী হয়ে যায়। ধর্মগুলো আত্মহত্যাকে নিষিদ্ধ করেছে। ফলে বলা হত- যারা আত্মহত্যা করে তারা না যেতে পারে স্বর্গে, না নরকে। বরং তারা বাতাসে ভেসে বেড়ায় এবং গাছে গাছে আশ্রয় নেয়। সম্ভবত তাদের প্রিয় গাছ হিসেবে শ্যাওড়া গাছ বেশি প্রিয়। এমনকি তারা শ্মশানেও বিচরণ করে।
ছোটবেলায় একবার মনে হয়েছিল আমি আত্মহত্যা করবো। এই শখটা জেগেছিল ভূত হবার নেশায়। মা আমাকে জড়িয়ে ধরে আদরমাখা শাসন করে বলেছিল এসব চিন্তা যেন মাথায় না আনি। তবে আমার মত অমন বেখাপ্পা শখ না হলেও নানাবিধ হতাশায় যারা আত্মহত্যা করেছিল তারা তো গেলই, কিন্তু যারা আত্মহত্যা করতে ব্যর্থ হয়েছিল তাদেরকে সমাজে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হত। কারণ তাদেরকে নাকি মৃত্যু নানারূপ ধরে ডাকতে থাকে। যেমন- কেউ একজন গলায় দড়ি দিতে চাইলো অথবা প্রচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হল, তাকে নাকি ঐ দড়িটা প্রায়ই 'আয়... আয়....' বলে ডাকতো।
তবে আমি একসময় ভুত বা প্রেতাত্মার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠলাম। বন বাদাড়ে কিংবা শ্মশানে ঘুরতে লাগলাম মধ্যরাতে। তখন ২০০০ সাল। ক্লাস এইটে পড়ি। আমাদের গ্রামের একটি মেয়ে রাস্তার ধারে বনের ভেতরে একটা কাঁঠাল গাছের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলো। কিছুদিন পর সবাই বলাবলি করতে লাগলো ওখানে নাকি মেয়েটির প্রেতাত্মা খস খস শব্দ করে হেঁটে বেড়ায়। আমার কাছে এটাই ছিল মোক্ষম সুযোগ প্রেতাত্মার সাথে সাক্ষাৎ করার। একদিন সন্ধ্যার পর বের হলাম। সাথে একটা বন্ধুও ছিল। কিন্তু ঐ স্থানের কাছে আসতেই কানে এল খস খস শব্দ। সাথে থাকা বন্ধুটি ইতোমধ্যে 'হরে কৃষ্ণ' জপ করছে আর আমাকে চলে যাবার জন্য অনুরোধ করছে। এক পর্যায়ে ও দৌড়ে চলেই গেল। কিন্তু শব্দটা আর পাচ্ছি না। আমি নেমে গেলাম বনের ভেতরে। কান খাড়া করে খেয়াল করলাম কেবল হালকা খস খস শব্দ আর কেমন যেন ফোঁস ফোঁস শব্দ। মনে পড়লো আজ অমাবস্যা। এবার একটু গা ছম ছম করতে লাগলো। কপালটা ঘেমে উঠলো। তখন মনে পড়লো ভূতেরা আগুন ভয় পায়। যদি আমাকে আক্রমন করে তাহলে পকেট থাকা ম্যাচটা জ্বালাবো অথবা হিসু করে দেবো। কারণ শুনেছিলাম ভূতেরা অপবিত্রতা দেখলে পালায়।
যাহোক আস্তে আস্তে এগোতে লাগলাম ঐ শব্দ অনুসরণ করে। সেই কাঁঠাল গাছটার সামনে চলে এলাম। এবার ঐ শব্দ আরও স্পষ্ট এবং সেটা আমার থেকে প্রায় পাঁচ হাত দূরে। কিন্তু অমাবস্যা রাতের অন্ধকারে দেখা যাচ্ছে না কিছুই। আমি আরেকটু এগিয়ে গিয়ে পকেট থেকে টর্চটা বের করে জ্বালালাম ভূত দেখতে পাবার আনন্দে। ওমা! এ কী! ভূত দূরে থাক, দেখি একটা বিড়াল!
তার মানে এই ব্যাটা এখানে খস খস করে আর সবাই ভূত মনে করে! ইতোমধ্যে আমার ঐ বন্ধুটি কয়েকজনকে সাথে নিয়ে চলে এসেছে আমাকে উদ্ধার করতে। তারা এসে আমাকে রাগ করতে লাগলো কিংবা দ্রুত এখান থেকে নিয়ে যেতে চাইলো। আমি তাদেরকে বিড়ালটা দেখালাম। তারা তৎক্ষণাৎ আমাকে টেনে হিচড়ে নিয়ে গেলো।
পরদিন সকালে এলাকায় খবর রটে গেল ঐ মেয়েটি মরে গিয়ে বিড়াল হয়ে গিয়েছে!
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৫:২৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতটা নির্লজ্জ বেহায়া ভিসি সারা দুনিয়াতে নেই-- ছি:

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০১

একটা মানুষ কতটা নির্লজ্জ হতে পারে, সেই সাথে ক্ষমতার+ টাকার+ সরকারী সুবিধাদী পাবার কাঙ্গাল হতে পারে, চুয়েটের ভিসি (Vice-Chancellor) কে না দেখলে জানতেই পারতাম না। এতদিন শুধু লোভী বলে বুবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×