somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি আত্মহত্যার গল্প

২৭ শে জুন, ২০১৪ রাত ১২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকদিন পর মনে হল আমার প্রিয় ক্যাম্পাসটা থেকে একটু ঘুরে আসি। আবার যেতে ইচ্ছেও করছে না। কেমন জানি দোটানায় ভুগছি। অথচ কত প্রিয় ছিল এই ক্যাম্পাস আমার কাছে। সাড়ে চার বছরের অনেক সুখ স্মৃতি আছে এই ছোট্ট ক্যাম্পাসে। নিয়ম অনুযায়ী এখানে পাঁচ বছর থাকার কথার ছিল। কিন্তু শেষের দিকে এসে ‘ঐ ঘটনা’ টা ঘটল তাই আর থাকা হল না। মনে পড়ে আমি যে রুমটাতে থাকতাম আগে। বঙ্গবন্ধু হলের ২০৯ নাম্বার রুম। ঐ রুমটাতেই ‘ঘটনাটা’ ঘটেছিল। অনেকদিন পেরিয়ে গেছে তারপর। অনেকেই হয়ত ভুলে গেছে ‘ঘটনাটা’।

তারপর একবার গিয়েছিলাম ক্যাম্পাসে। সবার অলক্ষে চুপ করে ঢুকে পরেছিলাম আমার রুমটায়। অবশ্য এখন আর আমাকে পালিয়ে ঢুকতে হয়না। আগের রুমমেটরা সবাই চলে গেছে। সেখানে নতুন ছেলেরা উঠেছে। একটা রাত ছিলামও ওখানে। আমার বেডে যে ছেলেটা থাকে আমারই মত প্রায়। সারারাত ফোনে কথা বলছিল। আমি শুধু টেবিলের উপর পা তুলে বসে ওদের প্রেমালাপ শুনছিলাম। ভাবছেন আচ্ছা পাজি তো আমি। মানুষের প্রেমালাপ শুনি। আসলে ‘ঐ ঘটনাটার’ পর থেকে আমাকে আর নৈতিকতা মেনে চলতে হয়না। তবে ছেলেটার আবেগ আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল। পাছে ও আমার মত কস্ত পায়। সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু লাভ হয়নি। ও কেন জানি আমার কথা শুনতে পারে না। ওর মনের কথাগুলা আমি বুঝতে পেরেছিলাম তাই যত ভয় হচ্ছিলো। ‘ঐ ঘটনাটার’ আগে কারো মনের কথা বুঝতে পারতাম না। এখন পারি আর ভাবি কেন যে আগে বুঝতে পারতাম না। ভুল মানুষটাকে পাগলের মত ভালোবাসার আগে যদি একবার তার নোংরা মনের কথাগুলো বুঝতে পারতাম!

মাঝে মাঝে খুব বাড়িতে যেতে ইচ্ছে করে। আমাকে নিতে যেদিন আব্বু ক্যাম্পাসে এসেছিলেন সেদিন আম্মু বারবার শুধু মূর্ছা যাচ্ছিলেন। ঐ সাড়ে চার বছরে যতবার বাড়িতে গিয়েছি ততবারই শুধু আনন্দ দেখেছি সবার মাঝে। বাসার গেটে যেতেই ছোট বোনটা দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে বলত ‘কেমন আছিস ভাইয়া?’। সেবারও জড়িয়ে ধরেছিল কিন্তু কেমন আছি তা জিজ্ঞাসা করেনি। সেই যে অভিমান করেছে এখনও প্রর্যন্ত কারো সাথে কথা বলে না ভাল মত। ওদের জন্য খুব কষ্ট হয়। তবে তার চেয়েও বেশী কষ্ট হয় নিজের জন্য। ইস কেন যে সেদিন একজন ভুল মানুষের দেয়া কষ্ট সহ্য করতে না পেরে অতগুলা ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলাম!!!

৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×