somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জলতরঙ্গের বিহঙ্গ

২৮ শে নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তীব্র ভক্তি করবে নাশ/ শোন রে মনা সাধুর উক্তি/ নেরে বেছে বনবাস/ মিলবে মুক্তি আন্ধার হইলে/ দিনে কষ্ট সাধনায়/ মাটিত শুইলে সত্য কইলে/ সাঙ্গ সকল কামনায়।।

কোন অদ্ভুত সংবাদ কি আছে লাইনগুলিতে? কথার পরে কথা, ডানে বামে, উপর নিচে। আমরা বাসকরি কথার সমুদ্রে। তারপরও উপরের কথাগুলো চিরদিন অন্যরকম একটানে মানবস্বত্তাকে টানতে থাকে। সেই টানে প্রেমিকার কাজলপরা চোখ ঝাপসা দেখায়, দু’দন্ডের কামনা তিয়াসকে তুচ্ছ মনেহয়। প্রিয়জনাদের ভালবাসাকে লাগে শেকলের মতো। অন্তরাত্মার সেই টান মানুষকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করে দেয়, সেই মায়ার শেকল তারকাছে মোমের মতো গলেযায়।
স্বিদ্ধার্থ বুঝি সেইটানে ঘর ছেড়েছিলেন কোন এক গভীর নিশীথে!

খুবদুরে যেতে হবেনা। আমাদের রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং মজেছিলেন ওই কথার গুণে। আমরা বলি বাউলিয়ানা, তিনি বলতেন খ্যপার কথা। পরশ পাথরের সন্ধানে সন্ধানে যার জীবন বয়ে গিয়েছিল। তার কবিতার ক্ষ্যপা কি আসলে তিনিই ছিলেন?
নইলে গগণ হরকরার এই বাণী তাকে কেন আলোড়িত করবে? আমি কোথায় পাবো তারে/ আমার মনের মানুষ যেরে/ হারিয়ে সেই মানুষে/ দেশ বিদেশে বেড়াই ঘুরে…

বাউলিয়ানার প্রতি কবিগুরুর যে বিপুল অনুরাগ, সেতো স্বর্বজনবিদিত। তার অসংখ্য গানে বারবার অন্তরাত্মার সন্ধানের প্রতি তৃষ্ণা এসেছে ঘুরেফিরে।
জগতের নিত্যব্যস্ততার ফাঁকে তাইকি তার বুকেরকথা এমন গান হয়ে বেরিয়েছিল?
আমায় বাঁধবে যদি কাজের ডোরে/ কেন পাগল করো এমন করে?/ বাতাস আনে কেন যানি/কোন গগণের গোপন বাণী/ পরান খানি দেয় যে ভরে।।
কিংবা- অসীম আকাশে অগণ্য কিরণ, কত গ্রহ উপগ্রহ/ কত চন্দ্র তপন ফিরিছে বিচিত্র আলোক জ্বালায়ে/ তুমি কোথায় তুমি কোথায়?
রবীন্দ্রনাথের মতো মহাপুরুষকে যে বাণী আন্দোলিত করেছিল, সেই বাণী পথের মানুষকেও আন্দোলিত করে। এমনই তার ক্ষমতা।
তাইবুঝি মানুষ ঘরছাড়ে। মায়ার শেকলছিঁড়ে আরেক মায়ার শিকলে বাধাপড়ে।

আজ থেকে বহু আগে এক পথবাসি বাউলের সাথে দেখা হয়েছিল আমার। টুকটাক অনেক কথার ফাঁকে একটা কথা তার আজো কানে বাজে। পথের মায়া বড়ো মায়া গো বাপ…

তাহলে মায়ামুক্তি হচ্ছে কিভাবে? সেইতো মায়ার ভিতরেই ডুবতে হচ্ছে মানব সন্তানকে। শরিয়ত মারেফত নিয়ে বলতে বসিনি। ইশ্বরের সন্ধানের কথা তাই বলছিনা। এই ক্ষুদ্র জীবনে কিছু নিঃস্বার্থ মানুষের সাথে ঘুরে ফিরে বারবার দেখা হয়েছে আমার। ঘর সংসার ছেড়ে তারা পথকে আপন করেছে। কেন? তাদের সংসার ভুলেছে তারা, সমাজ ভুলেছে, যে পরকাল আমরা চিনি, সেই পরকাল ভুলেছে। তাহলে জীবন থেকে কি চায় তারা? জীবনই বা কি দিয়েছে তাদের?
তারা হাঁটতে থাকে পথে। আর গান গায়-
মন তোমারি ভাঙ্গা তরী বাইতে জানোনা/ সময় থাকতে কল চিনিয়া পাড়ি দাওনা…

পথেপথে আমিও হাঁটি খুব। জীবন কে দেখার ইচ্ছায়। আমি মায়ার কাঙ্গাল, মায়া মুক্তি আমি চাইনা কখনো। তবু মাঝে মাঝে মন উতলা হয়। মনকে বলি, পথের মায়া আমার মতো সাধারণ মানুষের জন্য বড়ো কিছুনা।

তবু পথ কোনকোন নিশীরাতে জানালার ওপাশ থেকে ডাক দেয়। যেন বলতে থাকে আয় আয়…
তখন মনের খুব গহীনে কেও গেয়ে ওঠে-
জল তরঙ্গে কোন বিহঙ্গ আঁধারভঙ্গ দ্বারে/ সেযে কার তরেতে কার তরেতে/ বলবো আমি কারে!…

--------------------

এনামুল রেজার গল্প
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:৪১
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার নাফসকে আচ্ছা করে টাইট দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মানুষের ভিতরে এমন একটি অংশ আছে, যা মানুষকে খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, খারাপ কাজের বুদ্ধি দেয়। ইসলামী পরিভাষায়, আমরা মানুষের এই অংশকে নফস বলি। আপনি খারাপ কাজ থেকে দূরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×