তীব্র ভক্তি করবে নাশ/ শোন রে মনা সাধুর উক্তি/ নেরে বেছে বনবাস/ মিলবে মুক্তি আন্ধার হইলে/ দিনে কষ্ট সাধনায়/ মাটিত শুইলে সত্য কইলে/ সাঙ্গ সকল কামনায়।।
কোন অদ্ভুত সংবাদ কি আছে লাইনগুলিতে? কথার পরে কথা, ডানে বামে, উপর নিচে। আমরা বাসকরি কথার সমুদ্রে। তারপরও উপরের কথাগুলো চিরদিন অন্যরকম একটানে মানবস্বত্তাকে টানতে থাকে। সেই টানে প্রেমিকার কাজলপরা চোখ ঝাপসা দেখায়, দু’দন্ডের কামনা তিয়াসকে তুচ্ছ মনেহয়। প্রিয়জনাদের ভালবাসাকে লাগে শেকলের মতো। অন্তরাত্মার সেই টান মানুষকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করে দেয়, সেই মায়ার শেকল তারকাছে মোমের মতো গলেযায়।
স্বিদ্ধার্থ বুঝি সেইটানে ঘর ছেড়েছিলেন কোন এক গভীর নিশীথে!
খুবদুরে যেতে হবেনা। আমাদের রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং মজেছিলেন ওই কথার গুণে। আমরা বলি বাউলিয়ানা, তিনি বলতেন খ্যপার কথা। পরশ পাথরের সন্ধানে সন্ধানে যার জীবন বয়ে গিয়েছিল। তার কবিতার ক্ষ্যপা কি আসলে তিনিই ছিলেন?
নইলে গগণ হরকরার এই বাণী তাকে কেন আলোড়িত করবে? আমি কোথায় পাবো তারে/ আমার মনের মানুষ যেরে/ হারিয়ে সেই মানুষে/ দেশ বিদেশে বেড়াই ঘুরে…
বাউলিয়ানার প্রতি কবিগুরুর যে বিপুল অনুরাগ, সেতো স্বর্বজনবিদিত। তার অসংখ্য গানে বারবার অন্তরাত্মার সন্ধানের প্রতি তৃষ্ণা এসেছে ঘুরেফিরে।
জগতের নিত্যব্যস্ততার ফাঁকে তাইকি তার বুকেরকথা এমন গান হয়ে বেরিয়েছিল?
আমায় বাঁধবে যদি কাজের ডোরে/ কেন পাগল করো এমন করে?/ বাতাস আনে কেন যানি/কোন গগণের গোপন বাণী/ পরান খানি দেয় যে ভরে।।
কিংবা- অসীম আকাশে অগণ্য কিরণ, কত গ্রহ উপগ্রহ/ কত চন্দ্র তপন ফিরিছে বিচিত্র আলোক জ্বালায়ে/ তুমি কোথায় তুমি কোথায়?
রবীন্দ্রনাথের মতো মহাপুরুষকে যে বাণী আন্দোলিত করেছিল, সেই বাণী পথের মানুষকেও আন্দোলিত করে। এমনই তার ক্ষমতা।
তাইবুঝি মানুষ ঘরছাড়ে। মায়ার শেকলছিঁড়ে আরেক মায়ার শিকলে বাধাপড়ে।
আজ থেকে বহু আগে এক পথবাসি বাউলের সাথে দেখা হয়েছিল আমার। টুকটাক অনেক কথার ফাঁকে একটা কথা তার আজো কানে বাজে। পথের মায়া বড়ো মায়া গো বাপ…
তাহলে মায়ামুক্তি হচ্ছে কিভাবে? সেইতো মায়ার ভিতরেই ডুবতে হচ্ছে মানব সন্তানকে। শরিয়ত মারেফত নিয়ে বলতে বসিনি। ইশ্বরের সন্ধানের কথা তাই বলছিনা। এই ক্ষুদ্র জীবনে কিছু নিঃস্বার্থ মানুষের সাথে ঘুরে ফিরে বারবার দেখা হয়েছে আমার। ঘর সংসার ছেড়ে তারা পথকে আপন করেছে। কেন? তাদের সংসার ভুলেছে তারা, সমাজ ভুলেছে, যে পরকাল আমরা চিনি, সেই পরকাল ভুলেছে। তাহলে জীবন থেকে কি চায় তারা? জীবনই বা কি দিয়েছে তাদের?
তারা হাঁটতে থাকে পথে। আর গান গায়-
মন তোমারি ভাঙ্গা তরী বাইতে জানোনা/ সময় থাকতে কল চিনিয়া পাড়ি দাওনা…
পথেপথে আমিও হাঁটি খুব। জীবন কে দেখার ইচ্ছায়। আমি মায়ার কাঙ্গাল, মায়া মুক্তি আমি চাইনা কখনো। তবু মাঝে মাঝে মন উতলা হয়। মনকে বলি, পথের মায়া আমার মতো সাধারণ মানুষের জন্য বড়ো কিছুনা।
তবু পথ কোনকোন নিশীরাতে জানালার ওপাশ থেকে ডাক দেয়। যেন বলতে থাকে আয় আয়…
তখন মনের খুব গহীনে কেও গেয়ে ওঠে-
জল তরঙ্গে কোন বিহঙ্গ আঁধারভঙ্গ দ্বারে/ সেযে কার তরেতে কার তরেতে/ বলবো আমি কারে!…
--------------------
এনামুল রেজার গল্প
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


