somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৮ দিনে সপ্তাহঃ ইহা শুধুই একটি ফান পোস্ট হওয়ার কথা ছিল,কিন্তু......

২৭ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি গল্পঃ

আমার এক বন্ধু আছে।নাম রাজু।তো আমাদের যত আড্ডা-আনন্দ আছে তার মধ্যমণি ওই রাজু সাহেবই।এত্ত হাসির কথা বলতে পারে যে তা না শুনলে বিশ্বাসই হয়না।ও যে টেম্পো রেটে কথা বলে তা শুনলেই মানুষ হাসতে হাসতে শেষ।ঈশ্বর প্রদত্ত ক্ষমতা নিঃসন্দেহে।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন পরে আমরা বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিচ্ছি।তো নির্বাচনের পরে যেটা হয় আর কী, মানে সবাই নির্বাচন এবং নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অসারশূন্য আলোচনা করছি।এমন সময় মুখে সেই চিরচেনা রহস্যময় হাসি নিয়ে রাজুর আগমন।

রাজুকে পেয়েই জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা দোস্ত, আওয়ামীলীগ তো জিতে গেল।এখন তোর কি মনে হয় কি হবে অবস্থা??
রাজু কিচ্ছু না ভেবেই বলল কী আর হবে,৮ দিনে সপ্তাহ হবে।
আমরা আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম কিভাবে কিভাবে?
রাজু মুচকি হেসে উত্তর দিল তাহলে বারগুলোর নাম শোন.........

সোমবার
মঙ্গলবার
বুধবার
বৃহস্পতিবার
শুক্রবার
শনিবার
রবিবার
মজিবর

আমরা শুনে তো হাসতে হাসতে শেষ।

কেন বললাম গল্পটিঃ

কারন আওয়ামী লীগের আগের টার্মে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে পরিমান কপচাকপচি করেছে তাতে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসার সাথে সাথেই মানুষ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কৌতুক করতে শুরু করেছে।অথচ বঙ্গবন্ধুর কিন্তু কোন ভূমিকাই নেই এখানে।তাঁর নাম আসার কথাও ছিলনা।অথচ এই আওয়ামী লীগের জন্যেই কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মানুষ কৌ্তুক করছে।কষ্ট হয় কারন বঙ্গবন্ধু এই জাতির পিতা।

হ্যা, বঙ্গবন্ধুকে আমি জাতির পিতা হিসেবে মানি।আমি যে দলের সমর্থকই হয়ে থাকি সেটা ব্যাপার না (নিশ্চিত থাকতে পারেন লীগের না)।আমি বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনক মনে করি, করব।মানি তাঁর অনেক ব্যর্থতা ছিল, বিশেষ করে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে।বাকশাল গঠন, নিজের সন্তানদের লুটপাট, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম সহ অনেক।এসবের জন্য হয়ত তাঁর চেয়ে তাঁর আশেপাশের চাটুকারদের অবদান বেশি ছিল।কিন্তু রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে সব দায়িত্ব তাঁর উপরেই বর্তায়।তাই আমি বলি এই ক্ষেত্রে তিনি ব্যর্থ। কিন্তু তার ব্যর্থতার জন্য কিন্তু তিনি মাফ পাননি।জীবন দিয়েই মূল্য শোধ করতে হয়েছে তাকে।যে বাঙ্গালীর উপর তাঁর অগাধ বিশ্বাস ছিল যে আর যেই হোক না কেন, কোন বাঙ্গালী তাকে কোনদিন হত্যা করতে পারেনা, সেই বাঙ্গালীরাই তাকে হত্যা করেছে তাঁর ব্যর্থতার জন্য।সুতরাং তাঁর চরম শাস্তি ওখানেই কার্যকর হয়ে গেছে।

আরেকটা কথা।আমি বি.এন.পি. সরকারের সময় যখন যাদুঘরে যাই তখন দেখি যে সবখানেই জিয়া এবং মুজিবের ছবি পাশাপাশি টানানো।জানি ছবি টানানোতে কিচ্ছু হয়না, বা আসে যায়ও না।কিন্তু এটা সন্মান প্রদর্শনের একটা মাধ্যমও।সারা বিশ্বেই এই নিয়মটা চালু আছে।বিশেষ করে জাতির জনকদের বেলায় তো বটেই, অবিসংবাদিত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতার বেলায়ও।
এখন কথা হচ্ছে কেন আমার খারাপ লেগেছিল দুটো ছবি পাশাপাশি দেখে?কারণ হচ্ছে জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা।পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি এবং স্বাধীনতার সময়ে স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে তিনি আরো উজ্জল।কিন্তু সেই ঘোষনাও ছিল বঙ্গবন্ধুকে নেতা হিসেবে মেনে এবং বঙ্গবন্ধুর পক্ষেই।এবং নিরপেক্ষ যে কেউই বলবেননা যে জিয়াউর রহমানের অবদান বঙ্গবন্ধুর চেয়ে বেশি ছিল ( অন্তত '৭১ এ)।কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর সমান এবং ক্ষেত্রবিশেষে বেশিও মর্যাদা পেয়াছিলেন কারন তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈ্তিক দলটি এদেশের অন্যতম সেরা একটি দল।যদি তাই না হত তাহলে তিনি এত বড় মর্যাদা কী করে পেতেন?
আমি জিয়াউর রহমানকে খাটো করছিনা।বরং বলছি যে তাঁর স্থান হওয়া উচিত হিল বঙ্গবন্ধুর পরে।হতে পারে একেবারে পরের স্থানটিই।আপত্তি নেই।কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সাথে একই লেভেলে মূল্যায়ন করাটা আমার মনে হয়না যে যৌক্তিক।

এদেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্বের জন্য শেখ মুজিবের অনন্য সাধারণ ভূমিকার জন্যেই তিনি এই জাতির পিতা।তাঁর ভুলের জন্য, ব্যর্থতার জন্য আমরা তাকে কঠিন এবং সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছি।তাঁর ভুলের জন্য যদি সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে পারি তবে তার গুনের জন্য কেন তাকে ন্যায্য মূল্যায়ন করবনা?

আমি নিতান্তই এক আমজনতা।নিজের কিছু উপলব্ধির কথা বললাম মাত্র।কেউ যদি আমাকে কোন রেফারেন্স দিতে বলেন বা চ্যালেঞ্জ করেন তার উত্তর দেয়ার যোগ্যতা আমার নেই।ইন্টারনেটের এই যুগে গুগল , বিং বা উইকিপিডিয়ার সৌজন্যে হয়তো অনেক তথ্যই যোগাড় করতে পারব।কিন্তু সে তথ্য বিশ্লেষন করে তার নির্য্যাস নিয়ে আপনাদের চ্যালেঞ্জের উত্তর দিতে আমি হিমশিম খেয়ে যাব, হয়তো পারবইনা।সুতরাং যাদের কাছে লেখাটি খারাপ লেগেছে (জানি অনেকের কাছেই লাগবে) তারা প্লিজ আমাকে কড়া কথায় যাই বলুননা কেন আপত্তি নেই, গালি দিবেননা।ব্লগটাকে আমার গালাগালির স্থান মনে হয়না।সুস্থ বিতর্ক হোক খুব ভালো, কিন্তু নো গালাগালি।

আর মন বেশি খারাপ হলে আঠেরোর্ধোরা ঘুরে আসতে পারেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০১৪ দুপুর ১২:৪২
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×