উপরের প্রশ্নের উত্তর পাবার জন্যে জামাত এবং তার নেতাদের অতীত পর্যালোচনা করা জরুরী। আমরা দেখেছি - যখন প্রয়োজন তখন কোরান আর হাদিস থেকে উধৃতি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার প্রয়াস পেলেও তারা নিজেরা ব্যক্তি জীবনে সততার ধার ধারেন না।
এই বিষয়ে কিছু প্রসংগ উল্লেখ করা যায় -
১) জামাতের বর্তমান আমীর এবং সেক্রেটারী জেনারেল ১৯৭১ সালে বাঙালী নিধনে পাকিস্থানী বাহিনীকে সহায়তা করেছেন - এটা যেমন সত্য আবার তারা ক্রমাগত মিথ্যাচার করে সেই সত্যটাকে আড়াল করে একটা চমৎকার চেহারা নিয়ে মানুষের সামনে হাজির হয়েছে সেটাও সত্য। যদি এরা ১৯৭১ সালের তাদের অপকর্মের কথা স্বীকার করে মাফ চাইতেন, তা হলো একটা কথা ছিল - তা না করে ক্রমাগত মিথ্যাচার করে নতুন প্রজস্মকে একটা মিথ্যার জালে জড়িয়ে নিজেরা একটা মিথ্যার জগত তৈরী করেছে। এটা কি কোরান বা হাদীস কোন ভাবে সমর্থন করবে?
২) একবার নারী নেতৃত্ব হারাম বলে ফতোয়া দিয়ে আবার নারী নেতার সাথে কঠিন বন্ধনে আবদ্ধ থেকে নিজেরা কি মানুষকে প্রতারিত করছে না?
৩) সেপ্টেম্বর ১১ (৯/১১) এর আগে জামাত-শিবির শ্লোগান দিতো - “আমরা হবো তালেবান, বাংলা হবে আফগান”। তারা তালেবানদের সহায়তার জন্যে প্রচুর অর্থ সংগ্রহ করেছে। কিন্ত্ত সেই মাত্র আমেরিকা আফগানিস্থানে বোমাবর্ষন শুরু করেছে - জামাত নেতারাও আপাতত আফগান বানানোর শ্লোগান আলমারীতে তুলে রেখেছে। ইসলামের এতো বড় খাদেম জামাত - ইসরায়েলের মুসলমান বা আফগানে আমেরিকান হামলা বা ইরাকে গনহত্যার বিষয়ে একটা কথাও বলে না। উল্টা আমেরিকান রাষ্ট্রদূত থেকে গনতান্ত্রিক দল হিসাবে সার্টফিকেট নিয়ে বগল বাজাতে থাকে। তাদের এই দু-মুখি চরিত্র কি কোন ভাবে তাদের মুখের কথার সাথে মিলে?
৪) জীবনে যারা একবার রাজাকার (দালাল) তারা সব সময়ই রাজাকার। ইংরেজ শাসন থেকে ভারত বর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে এখন বিএনপির দালালী করা ছাড়া জামাতের প্রাপ্তি বা অর্জন কি খুব বেশী?
এবার আসা যাক একটা জরুরী কথায় - যারা জামাতের বিরোধীতার কথা বলে ইসলাম এবং মুসলমানদের বিরোধীতা করেন তাদের একটু ভাবা দরকার জামাত কি আসলে ইসলামের মূল ধারার প্রতিনিধি কি না? উপরের আলোচনা আর জামাতের সাম্প্রতিক কার্যকলাপ কি প্রমান করে না যে, শুধু ক্ষমতায় যাওয়া আর নিজেদের মতো করে সমাজটাকে তৈরী করার চেষ্টা ছাড়া কি জামাত আর কিছু করছে?
যারা জামাতের বিরোধীতার নামে বাংলাদেশের সকল মুসলমানদের মৌলবাদী ভেবে বসে আছেন তাদের উচিত ১৯৭৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরী একটা দল আজ কেন শতকরা দশভাগের বেশী ভোট পায়না সেই বিষয়ে গবেষনা করা। একাউন্টিং এর হিসাবে জামাত হলো একটা দেউলিয়া প্রতিষ্ঠান - যারা শতশত কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও একদল ভাল কর্মী তৈরী করতে পারেনি। দরিদ্র বাংলাদেশের মানুষকে টাকা দিয়ে কিনতেও তারা সমর্থ হয়নি। অন্যদিকে জামাতের আজ যতটুকু সাফল্য - আসলে তা হলো মূল রাজনীতির ধারার ব্যর্থতা। বলতে অসুবিধা নেই - যেখানে জামাতের সদস্যরা ভোটে জয়ী হয়েছে (অবশ্যই বিএনপির ভোট যোগ করে) সেখানে অন্যদলগুলির প্রাথীদের ব্যক্তিগত যোগ্যতা এবং সততার অনেক ঘাটতি ছিল।
তাহলে জামাত কি প্রবল ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মতা দখলের দিকে? উত্তর সহজ ভাবে দেওয়া যায় - না। বাংলাদেশে কিছু বাঙলাভাই জাতীয় সন্ত্রাসী সুষ্টি ছাড়া তাদের কোন সাফল্য আসবে না। কারন প্রতি বছর আসবে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ২১শে ফেব্রুয়ারী আর পহেলা বৈশাখ। মানুষ বারবার স্মরন করবে দেশের বীর সন্তানদের এবং গর্বিত হবে তাদের স্বাধীনতা সঙগ্রামের ইতিহাসে। সাথে সাথে প্রবল ঘৃণার সাথে প্রত্যাখ্যান করবে অন্ধকারে হাতছানিওয়ালা রাজাকারতন্ত্রকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


