শরীফুল সাহেব ইদানিং বেশ কিছু দিন যাবৎ অদ্ভুদ স্বপ্ন দেখছেন।স্বপ্ন গুলো কখনোই তিনি বিচ্ছিন্ন সময়ে দেখেন না । একটি নিদিষ্ট স্বপ্ন তিনি একই প্রহরে দেখেন।স্বপ্ন গুলোকে তিনি দুঃস্বপ্নের তালিকায় ফেলবেন কিনা তা নিয়ে তার যথেষ্ট দ্বিধা রয়েছে। যখন তিনি স্বপ্ন দেখেন তখন তার মুখমন্ডলে আতঙ্কের বিষাদ নীলিমা ফুটে উঠে যদিও তিনি তখন তার অস্থিরতা লুকিয়ে রাখবার জন্য প্রানপণ চেস্টা করেন। প্রথম কয়েক দিন এই ঘটনাটি তার সহধর্মীনির চোখ থেকে এরিয়ে গেলেও পরে তিনি সেটা উপলব্দি নামক শব্দের মধ্যে উপলব্দিত রাখেন।
একরাতে হঠাৎ তিনি চিৎকার দিয়ে ঘুম থেকে উঠে এই বার তার সহধর্মীনি প্রথম বারের মত তার কাছ থেকে জানতে চান কি হয়েছে?
ও ইসমাইলের বাপ আফনের কি অইছে!!! আফনের কি অইছে !! দুঃস্বপন দেখছেন?কি দেখছেন আমারে কন? পানি খাইবেন?
পরক্ষনেই আয়শা বেগম এক গ্লাস পানি এগিয়ে দেয়।
শরীফুল সাহেব তার রকিং চেয়ারে বসে পত্রিকার পাতায় চোখ বুলাচ্ছেন।হঠাৎ তার চোখ একটি খবর আটকে যায়।
" এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষের শিকার "
খবরটি পড়ে তিনি কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়েন।
কাল রাতের স্বপ্নের কথা তার মনে পড়ে যায়।
তিনি তার সহধর্মীনিকে মৃদ্যু চাপা কন্ঠে ডাকেন
কহিনূর এ আম্মা
কহিনূর এ আম্মা
আয়েশা বেগম রসুই ঘড় থেকে তার শাড়ীর আঁচল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বের হয়ে তাৎক্ষনিক ভাবে ঘোমটা দিয়ে তার সামনে এসে দাড়ালেন।
বললেন
ডাকছিলেন আমাকে?
কৈই থাক ? ডাকলে এত দেরি হয় কেন?
না মানে নাস্তা বানাইতেছিলাম।
ও
তা আমার কহিনূর আম্মা কই?
মনে হয় ঘুমাইতাছে
বেলা ৮টা বাজে এহন সে ঘুমাইতেছে।।
রাত জাইগা পড়ে সামনে পরীক্ষা তো.
তাজ্জিব বিষয় কহিনূর কে তো পড়াশুনার বিষয়ে এতটা জোর দিতে কখনো দেখি নাই
ঘটনা কি?
দেহেন নাই । এহন তো দেখতেছেন
কিছু দিন আগেও কহিনূর এর গৃহ শিক্ষক কহিনূর এর পড়াশুনার অবনতি সম্পকে তাকে অবগত করেছেন।
কিন্তু হঠাৎ এই পরিবতনে তিনি কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত।
কাল ঐ দুঃস্বপ্ন দেখার পর থেকে সমস্ত কিছুই তিনি তার চিন্তা ভাবনা গুলোকে ঋণাতক ভাবেই নিচ্ছেন
কি জন্য ডাকছিলেন কইলেন না যে
না এমনি কিছু না.
আয়শা বেগম খানিক ক্ষন দাড়িয়ে থেকে চলে গেলেন ।
নাস্তা করার টেবিলে শরিফুল সাহেব,তার দুই কণ্যা,তার পুত্র বসে আছেন।
{আগামি পর্বে শরিফুল সাহেবের খবর আছে। বিঃদ্রঃ তিনি একাত্তুর সালে একজন রাজাকার ছিলেন। পরের পবে তা স্পস্ট হয়ে উঠবে}

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


