আগের লেখায় আজকের দু’টো কোয়ার্টার ফাইনাল নিয়ে লিখেছিলাম। আসুন দেখা যাক আগামীকালের দু’টো কোয়ার্টার ফাইনাল কেমন হতে পারে। এই দু’টো কোয়ার্টার ফাইনালের লাইন-আপটা এমন,
আর্জেন্টিনা জার্মানী (বাংলাদেশ সময় রাত ৮.০০)
প্যারাগুয়ে স্পেন (বাংলাদেশ সময় রাত ১২.৩০)
আর্জেন্টিনা জার্মানী
এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দু’টো দলের ১০০% সাফল্য আছে যারা তাদের সব ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। দল দুটি হচ্ছে আর্জেন্টিনা এবং নেদারল্যান্ডস। আর এ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশী গোল দেয়া দলের নাম আর্জেন্টিনা যারা এখন পর্যন্ত মোট গোল দিয়েছে ১১টি। তাই শুধুমাত্র কাগজে-কলমে নয় মাঠেও আর্জেন্টিনার আক্রমনভাগ খুবই শক্তিশালী। হিগুয়েন, তেভেজ গোল করলেও আর মেসি গোল না করলেও এরা তিনজনই খেলছে অসাধারন। বিশেষ করে মেসি গোল না পেলেও আর সব কিছুই করছে অসাধারনভাবে। তাই এখন পর্যন্ত মেসিই আছে গোল্ডেন বল পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে। তবে এ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সব কিছু ঠিকমতো হলেও শুধু বাকী আছে মেসির গোল পাওয়া। দলসহ সমগ্র আর্জেন্টাইন সমর্থকরা তাই এখন আশা করছে তার গোল পাওয়ার মধ্য দিয়েই তারা পার হবে কোয়ার্টার ফাইনালে আর চলে যাবে সেমিফাইনালে। তাই অন্য দলগুলোর মতো জার্মান কোচ জোয়াকিম লোকেও মেসির উপর রাখতে হচ্ছে বিশেষ নজর। আর মিডফিল্ডে শক্তি বাড়ানোর জন্য আমার মতে ম্যারাডোনার উচিৎ পাস্তোরকে খেলানো। বদলি হিসেবে কিছুক্ষনের জন্য নেমেই সে তার গতি এবং পাসিং দিয়ে নজর কেড়েছে। তবে ম্যারাডোনার জন্য দুশ্চিন্তার নাম তার ডিফেন্স। প্রায় প্রতিটি খেলায়ই এই দূর্বলতা ফুটে উঠেছে। মনে রাখতে হবে কোয়ার্টার ফাইনালেই বড় এবং শক্তিশালী প্রতিদন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। তাই আমি মুখিয়ে আছি ম্যারাডোনা কিভাবে এটা মোকাবিলা করে।
অপরদিকে জার্মানী এবার তাদের তরুণ দলটির খেলা দিয়ে মুগ্ধ করেছে সবাইকে। বালাকের ইনজুরির জন্য বাদ পড়ার পর খুব কম লোকই ভেবেছিল জার্মানী এতোটা ভালো খেলবে। কিন্তু ওজিল, মুলার, বোয়াটেং সবাইকে দেখিয়েছে তারা কতোটা পারদর্শী। আর বিশ্বকাপের আগে ফর্মহীন ক্লোসা, পোডলস্কি দেখিয়েছে তাদের কার্যকারিতা। সাথে অধিনায়ক লাম, শোর্টজনাইগারতো আছেই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জার্মানী ছিল অসাধারন বিশেষ করে কাউন্টার এটাকে। তাই আর্জেন্টিনা সাবধান!! মেসি, তেভেজ, হিগুয়েইনরা সব মিলে আক্রমনে যাওয়ার আগে জার্মানীর কাউন্টার এটাকের কথা মাথায় রাখতে হবে দেমিকিলিস, মাসচেরানো, স্যামুয়েলদের। তবে ফাইনালের আগেই একটা জমজমাট লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হয়ে যান সবাই। আর ট্রাইব্রেকারে খেলা গড়ালে জার্মানীকে কিন্তু ফেভারিট মানতেই হবে। কারণ বিশ্বকাপের ইতিহাসে তারাই একমাত্র দল যারা এখন পর্যন্ত ট্রাইব্রেকারে হারেনি। দেখা যাক গতবারের কোয়ার্টার ফাইনালের ফল এবার উল্টাতে পারে কিনা আর্জেন্টিনা, ৮৬’র পর ২৪ বছরের শিরোপা বন্ধাত্য ঘোচাতে আরও একটু এগোতে পারে কিনা ম্যারাডোনার দল।
পরের লেখায় থাকছে প্যারাগুয়ে স্পেন এর বিশ্লেষন। ততোক্ষন উপভোগ করতে থাকুন বিশ্বকাপ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


