আগের লেখায় আজকের দিনের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল আর্জেন্টিনা – জার্মানী নিয়ে লিখেছিলাম এ লেখায় থাকছে আজকের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনাল প্যারাগুয়ে স্পেনের খেলার বিশ্লেষন।
প্যারাগুয়ে - স্পেন
প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার আনন্দে ভাসছে পুরো প্যারাগুয়ে। আর্জেন্টাইন কোচ মার্টিনেজের অধীনে তারা মিলিত হয়েছে এবারের বিশ্বকাপের লাতিন বিপ্লবে। ইতালিকে পেছনে ফেলে তারা এসেছে এতদূর।তাই তারাও খুব সহজেই স্পেনকে ছেড়ে দেবে না। জাপানকে বিদায় করে দেয়ার পর কোচ মার্টিনেজ নিশ্চয়ই আরও একবার কাঁদতে চাইবেন সুখের কান্না। আর সেজন্য তিনি নিশ্চয়ই প্রার্থনা করছেন সান্তা ক্রুজের কাছ থেখে গোল। আর ম্যাঞ্চেস্টার সিটির এই তারকাও নিজেও চেষ্টা করবেন স্পেনের ডিফেন্স ভাঙতে। তবে এটা মানতেই হবে যে স্পেনের কাছে প্যারাগুয়ে আন্ডারডগ। আর সেজন্য প্যারাগুয়ে ডিফেন্সিভ খেলাও খেলতে পারে যাতে ট্রাইবেকার পর্যন্ত টেনে নিয়ে দু’দলের সম্ভাবনা ৫০-৫০% করে নিতে পারে। কে জানে খেলার ফল তখন কেমন হয়।
অপরদিকে স্পেন এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন খেলা উপহার দিয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালের আগ পর্যন্ত তারা মাত্র একটি হলুদ কার্ড পেয়েছে যা সত্যিই বিস্ময়কর এবং সেটিও শেষ ম্যাচে। প্রথম ম্যাচের বিপর্যয়ের পর তারা ঘুরে দাড়িয়েছে। জাভি, ইনিয়েস্তা, আলোনসো সমৃদ্ধ মাঝ মাঠতো বিশ্বসেরা। তারাই এ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশী বল পায়ে রাখা দল। আর পুয়েলের নেতৃত্বে রক্ষনভাগও বেশ জমাট। কিন্তু তাদের সমস্যা আক্রমনভাগে। তরেস গোল পাচ্ছে না। ইনজুরি থেকে ফেরার পর সে তার ফর্ম খুঁজে ফিরছে। ডানদিকে উইং হিসেবে রামোস দারুন খেললেও গোলের দেখা পাচ্ছে না যেটা তার স্রেফ দূর্ভাগ্য। স্পেন এখন পর্যন্ত টিকে আছে শুধুমাত্র ডেভিড ভিয়ার অসাধারন পারফরমেন্সের জন্য। সত্যিই এ বিশ্বকাপে সে দূর্দান্ত খেলছে। স্পেন যে পাঁচটি গোল দিয়েছে তার মধ্যে চারটিই তার। যার ফলে সে হিগুয়েনের সাথে যৌথভাবে সোনার বুট জেতার দৌড়ে এগিয়ে আছে। তাই যদি কোন ম্যাচে ভিয়া ভাল খেলতে না পারে তখন স্পেনের কি হবে কে বলতে পারে? তাই গোলের খেলা ফুটবল ম্যাচ জিততে হলে স্পেনের আক্রমণভাগ আরো ধারালো হতে হবে। শেষ ম্যাচে তরেসের বদলী হিসেবে নেমে লরেন্তে সবাইকে দেখিয়েছে সে তার ভালো বিকল্প হতে পারে। আর একটা কথা সবাইকে মনে রাখতে হবে দলটার নাম স্পেন যাকে ক্রিকেটের দক্ষিন আফ্রিকা বলা হ্য়। অর্থাৎ সেই চোকার যারা চাপে ভেঙে পড়ে। প্রায় প্রতিবারই তাদের একটা সমীহ জাগানো দল থাকে কিন্তু (একবার ছাড়া তাও সেমিফাইনাল পর্যন্ত) প্রতিবারই তারা সর্বোচ্চ কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যায়। তাই স্পেনকে প্রমাণ করতে হবে ইউরো জেতার পর তারা এখন যে কোন শিরোপার যোগ্য দাবিদার। মুছে ফেলতে হবে তাদের চোকার অপবাদ।
দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি হয় তবে মন ভরে উপভোগ করুন বিশ্বকাপ যার আর মাত্র পাঁচটি ম্যাচ বাকী। ভালো থাকবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


