এ লেখা যখন লিখছি তখন প্রথম সেমিফাইনাল শেষ। আর তাতে নেদারল্যান্ডস উরুগুয়েকে ৩-২ গোলে হারিয়ে তৃতীয় বারের মতো উঠে গেছে ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে। এবারের বিশ্বকাপের আরো একটি হাই ভোল্টেজ ম্যাচ হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে যাতে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্পেন - জার্মানী। যেটাকে বলা হচ্ছে আরো একটি ধ্রুপদী লড়াইয়ের প্রদর্শনী।
জার্মানী
বিশ্বকাপ শুরূ হওয়ার মাত্র কয়েকদিন আগে এফএ কাপের ম্যাচ খেলতে গিয়ে তৎকালীন জার্মান অধিনায়ক মাইকেল বালাক যখন ইনজুরিতে পড়ে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকেই বাদ গেলেন তখন জার্মানীর অভিভাবকহীন(বালাকের অনুপস্থিতিতে) তরুণ দলটিকে নিয়ে খুব বেশী মানুষ বাজি ধরেনি। কিন্তু সেই জার্মানী যখন একের পর এক দলকে নাকানি-চুবানি খাইয়ে ছাড়ছে তখন তারাই এখন সবচেয়ে ফেভারিট এই বিশ্বকাপ জেতার। জোয়াকিম লো ওজিল, মুলার, বোয়াটেংদের মতো তরুণদেরকে এক সূত্রে বেঁধে গড়ে তুলেছে অসাধারণ জার্মান ইঞ্জিন যার পদতলে পিষ্ট হচ্ছে বড় বড় দলগুলো। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলেও হেরে যায় সার্বিয়ার কাছে। তখন তরুণ দলটিকে কিছুটা মনোসংযোগহীন মনে হলেও তারপর থেকে তারা ঘুরে দাঁড়ায়। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই তারা দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ৪-১ গোলে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দেয়। আর কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় আরেক ফেভারিট আর্জেন্টিনার। লড়াইটা আপত দৃষ্টিতে দারুণ জম্বে মনে হলেও জার্মানী ৪-০ গোলে তাদের রীতিমতো বিদ্ধস্ত করে। জার্মানী আরো প্রমাণ ক্রে তারা শুধু বয়সেই তরুণ নয় তাদের গতিতেও রয়েছে দূর্বার তারুন্য, বয়সের তূলনায় তাদের মাথা অনেক অভিজ্ঞ। বর্ষীয়ান স্ট্রাইকার ক্লোসাতো আর মাত্র একটি গোল করলেই ছুঁইয়ে ফেলবে রোনালদোর করা সর্বোচ্চ ১৪ গোলের রেকর্ড। আর সাথে থাকছে পোডলস্কি, খেদিরা, শোর্টজনাইগার। আর লাম, ফ্রেড্রিখের জার্মান রক্ষনদূর্গ। তবে দুই হলুদ কার্ডের কারণে মুলার খেলতে পারবেনা আজকের ম্যাচে। তবু স্পেনের বিপক্ষে তাদের একটু এগিয়ে রাখতেই হবে।
স্পেন
এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ফুটবল উপহার দেয়া এপেনের শুরুটা কিন্তু হয়েছিল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ০-১ গোলের অপ্রত্যাশিত হার দিয়ে। তারপর থেকেই তারা ঘুরে দাড়ায়। তারা গ্রুপ এইচের শীর্ষ দল হিসেবেই খেলতে আসে দ্বিতীয় রাউন্ডে। ডেভিড ভিয়ার গোলে তারা পর্তুগালকে হারিয়ে জায়গা করে নেয় শেষ আটে। আবারো ভিয়ার গোলে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে উঠে আসে সেমিফাইনালে। জাভি, ইনিয়েস্তা, আলোনসোর মাঝমাঠ এই মুহূর্তে বিশ্বসেরা। আর পুয়েল, পিকে, রামোসের রক্ষনভাগতো দূর্ভেদ্য স্প্যানিশ দূর্গ। তবে তাদের দুশ্চিন্তা হচ্ছে ভিয়া(যিনি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাঁচটি গোল করে গোল্ডেন বুট পাবার দৌড়ে এগিয়ে আছে) ছাড়া আর কেউ গোল পাচ্ছেনা। তোরেস ইনজুরি থেকে ফিরে তার ফর্ম খুঁজে ফিরছে। তাই জার্মানী যদি ভিয়া বোতল বন্দী করে রাখে আর ভিয়া যদি গোল করতে ব্যর্থ হয় তবে কিন্তু স্পেন খুব বিপদে পড়ে যাবে। তাই তাদের শুধু গোলের সুযোগ তৈরি করলেই হবে না সেগুলো গোলেও পরিণত করতে হবে। আর একটা ব্যাপারে স্পেঙ্কে একটু পিছিয়ে রাখছি আর তা হচ্ছে স্পেন অনেকটা আর্জন্টিনার মতোই ছোট ছোট পাসে খেলে আর জার্মানীর তুলনায় একটু মন্থর। আর এক্ষেত্রে জার্মানী যে কতোটা ভয়ঙ্কর তাতো তারা আর্জেন্টিনার বিপক্ষেই দেখিয়েছে। তাই দেল বক্সকে সতর্ক হয়েই রণকৌশল সাজাতে হবে। এই বিশ্বকাপে স্পেনের এটাই প্রথম অগ্নিপরীক্ষা, প্রথম বড় ধরনের চাপ।
তবে কি অপ্রতিরোধ্য এবং দূর্দান্ত জার্মানীই এগিয়ে যাবে তাদের চতুর্থ শিরোপা জয়ের দিকে নাকি স্পেন তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাস নতুন করে লিখবে প্রথম বারের মতো ফাইনাল খেলার গৌরব অর্জন করে। তবে যেই জিতুক এবারের ফাইনাল কিন্তু অল ইউরোপীয়ানই হচ্ছে। ভালো থাকবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


