প্রতি বিশ্বকাপে যখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় তখন আমার মনে হয় এই ম্যাচটা খেলার উদ্দেশ্য কি? এটা কি শুধুই তৃতীয় বা চতুর্থ স্থান নির্ধারনের জন্য? নাকি সেমিফাইনালে হেরে গেলেও আমাদের আরো ভালো কিছু করার কথা ছিল- এই কথা প্রমাণের ম্যাচ? আমরা ফাইনাল না খেলে এই ম্যাচ কেনো খেলছি- সেই আফসোস বাড়ানোর ম্যাচ? কারণ যাই হোক আগামীকাল(বাংলাদেশ সময় রাত ১২.৩০ মিনিট) সেই ম্যাচ মানে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ যাতে অংশগ্রহন করছে এই বিশ্বকাপে দূর্দান্ত খেলা জার্মানী এবং অনেককেই বিস্মিত করা উরুগুয়ে। আসুন এবার দেখা যাক এই দুটি দলের এবারের বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স কেমন ছিলো।
জার্মানী
বিশ্বকাপ শুরূ হওয়ার মাত্র কয়েকদিন আগে এফএ কাপের ম্যাচ খেলতে গিয়ে তৎকালীন জার্মান অধিনায়ক মাইকেল বালাক যখন ইনজুরিতে পড়ে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকেই বাদ গেলেন তখন জার্মানীর অভিভাবকহীন(বালাকের অনুপস্থিতিতে) তরুণ দলটিকে নিয়ে খুব বেশী মানুষ বাজি ধরেনি। মুলার, ওজিল, বোয়াটেংদের মতো তরুণ আর ক্লোসা, পোডলোস্কি, শোর্টজনাইগার, লাম, ফ্রেডরিখদের মতো অভিজ্ঞদের নিয়ে গড়া দলটি কোচ জোয়াকোম লোর অধীনে চমকে দিল সবাইকে। তারা তাদের গতি, স্কিল আর কৌশল দিয়ে মুগ্ধ করলো সবাইকে আর বিদায় করে দিল ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনার মতো অনেক বড় বড় ফেভারিট দলকে। সেই দলটি যখন সেমিফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হল তখন অনেকেই তাদেরকে ফেভারিট ভাবছিলো। কিন্তু তারা স্পেনের বল ধরে রাখা কৌশলের কাছে এতোটাই অসহায় ছিল যে সত্যিই বিশ্বাস হচ্ছিলো না। বিশেষ করে আর্জেন্টাইন দর্শকরাতো রীতিমতো প্রমাদ গুনছিলেন যে এই দলটি আমাদের সাথে এতোটা ভালো কেন খেলেছিলো। যাই হোক বিস্ময় আর হতাশার সেমিফাইনালের পর তারা এখন গতোবারের মতো এবারও তৃতীয় হওয়ার জন্য লড়বে। অর্থাৎ তাদের সামনে পরপর দু’বার তৃতীয় হওয়ার হাতছানি। তবে আমি নিশ্চিত এটা যতোটা না তাদের গৌরবের তার থেকে বেশি হতাশার। তবু স্থান নির্ধারণের এই ম্যাচে জেতাটা অবশ্যই মর্যাদাপূর্ন। পুরো টুর্ণামেন্টের পারফরম্যান্স বিবেচনায় অবশ্যই কালকের ম্যাচে জার্মানী ফেভারিট।
উরুগুয়ে
এবারের আসরে সবচেয়ে বিস্ময় জাগানো পারফরম্যান্স হচ্ছে উরুগুয়ের। লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে তারা পঞ্চম হলে খেলতে হয় কোস্টারিকার সাথে প্লে-অফ। তাতে জিতে তবেই তারা টিকেট পায় দক্ষিন আফ্রিকার। আর বিশ্বকাপের স্বাগতিক দক্ষিন আফ্রিকা, গত আসরের রানার্স আপ ফ্রান্স, মেক্সিকোকে পেছনে ফেলে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে অবাক করে অনেককেই। আর ফোরলান এবং সুয়ারেজের হাত ধরে তারা যখন দ্বিতীয় রাউন্ডে দক্ষিন কোরিয়া, পরে কোয়ার্টার ফাইনালে ঘানাকে হারিয়ে উঠে যায় সেমিফাইনালে তখন বিস্মিত করে সবাইকে। বিশ্বকাপের আগে তারা নিজেরাও ভাবেনি তারা এতোদূর আসবে। তাদের সেই স্বপ্নযাত্রা শেষ হয় টোটাল ফুটবলের জনক নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরে তবে সেখানেও ছিল উরুগুয়ের প্রত্যয়ী এবং লড়াকু খেলা, যা প্রশংসা কুড়িয়েছে সবার। তাদের তারকা স্ট্রাইকার ফোরলানতো এই আসরে মন-প্রাণ উজার করে খেলে নিজেকে প্রমাণ করেছে। তার গোলগুলো ছিল দেখার মতো। জাবুলানি বল নিয়ে এতো সমালোচনা হলেও তাকে দেখে মনে হয়েছে তিনি এটা ভালোই বশে আনতে পেরেছেন। যাই হোক কালকের ম্যাচে তারাও জিতে মাথা আর উঁচু করে দেশে ফিরতে চান। কালেকের ম্যাচে ফিরছেন কোয়াটার ফাইনালের নায়ক সুয়ারেজ। তাই তাবারেজের দল এই ম্যাচেও তাদের হার না মানা মনোভাবের প্রমাণ দিয়ে ভালো কিছু নিয়ে দেশে ফেরার ব্যাপারে বদ্ধ পরিকর।
দেখা যাক শেষ পর্যন্ত জার্মানী কি তৃতীয় হয়েই আবারও সান্ত্বনা খুঁজবে নাকি উরুগুয়ে নিজেদেরকে এই আসরে আরো উচ্চতায় তুলে দেশে ফিরবে!! ২০১০ বিশ্বকাপের শেষ দুই ম্যাচ সবাই উপভোগ করুন এবং ভালো থাকুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


