বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স অনেককে চমকে দিলেও আমি কিন্তু বিন্দুমাত্র অবাক হইনি। আমি জানতাম এ দলটি দ্বারা এমন ভালো সম্ভব। কেননা এই দলটি গত বারো মাস ধরে খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে (যদিও মাঝে এশিয়া কাপ এবং আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডের সাথে পারফরম্যান্সটা খুব হতাশাজনক ছিল)। তারা অনেকগুলো ম্যাচে জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েছিল কিন্তু ম্যাচগুলো জয় দিয়ে শেষ করতে পারতেছিলো না। কিন্তু বেশ কিছু ক্ষেত্রে পারফরম্যান্স ছিল খুবই আশাব্যঞ্জক। মনে হচ্ছিলো কিছু ক্ষেত্রে উন্নতি করতে পারলেই এরাই একদিন অন্য দলগুলোর জন্য হয়ে উঠবে সত্যিকারের হুমকি, যাকে বলে কয়ে হারানোর দিন হবে শেষ।
হ্যাঁ, তারা পেরেছে। পেরেছে নিজেদেরকে কিছুটা হলেও প্রমাণ করতে। তারা যেভাবে নিউজিল্যান্ডকে হারালো এখন পর্যন্ত (৫ম ওয়ানডের আগ পর্যন্ত) তাতে তারা এটুকু প্রমাণ করতে পেরেছে যে, দেশের মাটিতে তাদেরকে হারানো আর আগের মতো সহজ নেই। তারা জানে তাদের দেশের পিচ ও আবহাওয়ার সাথে মিলিয়ে কিভাবে খেলতে হয়। তাই এই মুহুর্তে হয়তো তারা এশিয়ার দলগুলোকে খুব বেশী সমস্যায় ফেলতে পারবে না কিন্তু এশিয়ার বাইরের দেশগুলোর জন্য এখন তারা প্রবল প্রতিপক্ষ।
এই সিরিজে সাকিবের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। তবে তারপরও মাশরাফি, তামিম, আশরাফুল ছাড়া যেভাবে খেললো তাতে মনে হচ্ছে দলটি এখন একটা দল হিসেবে খেলতে শুরু করছে। কারও একক পারফরম্যান্সের উপর আর জয় নির্ভর করে না। এই টিম বাংলাদেশকেই চাই আমরা দেখতে।
সাকিবের ক্যাপটেন্সি নিয়ে কিছু না বললেই নয়। তার সামনে থেকে বলিষ্ঠভাবে নেতৃত্ব দেয়া সত্যিই অসাধারন। ৪র্থ ওয়ানডেতে তার শতরান ছিল ক্রিকেটের সত্যিকারের ক্লাসিক। এতো দায়িত্ব নিয়ে আমি সাকিবকে কখনও ব্যাটিং করতে দেখিনি। আর প্রতিটি জয়ের পর আরো উন্নতি করার কথা বলতে শুনে মনে হয়েছে অনেক পরিনিত এবং বড় দলের অধিনায়কের অতৃপ্তির কথা, যাকে পাড়ি দিতে হবে বহুদূর, যার লক্ষ্য অনেক দূর। এমন ক্যাপ্টেনই দরকার আমাদের(মাশরাফির প্রতি সম্মান রেখেই বলছি)।
অনেক সীমাবদ্ধতা আর ব্যর্থতার মধ্যে বিসিবিকে সাধুবাদ জানাই এ কারনে যে, দেরিতে হলেও তারা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিশেষজ্ঞ বোলিং ও ফিল্ডিং কোচের ব্যাবস্থা করেছে বলে। এই অল্প কয়েক দিনে তার সুফল আমরা দেখতে পেয়েছি বাংলাদেশ দলের এই সিরিজে অসাধারন ফিল্ডিং দেখে যা এই সিরিজ জেতার অন্যতম প্রধান নিয়ামক।
বাংলাদেশের এই উন্নতির স্বীকৃতি হতে পারে যদি আমরা ৫ম ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজটি ৪-০ তে শেষ করতে পারি। তবেই আমরা ওয়েষ্ট ইন্ডিজকে হটিয়ে র্যাং কিংয়ের ৯ নম্বর থেকে ৮ নম্বরে উঠতে পারবো। আর তা হবে আমাদের কাগজে কলমের স্বীকৃতি। আর যদি তা নাও হয় তবু ক্ষতি নেই। এই দলটি এখন পর্যন্ত যা করেছে তাও অনেক আশার, অনেক গর্বের।
এগিয়ে চলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, নিয়ে যাও নিজেদেরকে আরো উচুঁতে। আমরা আছি তোমাদের সাথে। তোমরা কঠিন সময়ে খারাপ করলেও আমরা অন্তর থেকে সমর্থন দিয়ে যাবো যেমনটা আমরা করি তোমাদের এমন সাফল্যের পর। সামনে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ। আর তাতে আমরা আমাদের স্বপ্নের ঘুরি উড়াই আরো উচুঁতে। নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে দিবে সেই স্বপ্নকে সার্থক করতে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


