প্রথম ম্যাচের অপ্রত্যাশিত ধাক্কার পর ৩-১ এ সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ। তাই অভিনন্দন টিম বাংলাদেশ।
টসে হেরে বোলিং করতে যাওয়া বাংলাদেশের পেস বোলাররা বল করেছে দুর্দান্ত। মাশরাফি, শফিউল লাইন-লেংথ বজায় রেখেই শুধু বল করেনি তুলে নিয়েছে কিছু উইকেটও। মাশরাফি মোটামুটি তার ছন্দ ফিরে পেয়েছে। তাই বিশ্বকাপেও পেস বোলারদের জ্বলে ওঠার আশা করতেই পারি। তবে রুবেলকে যে এই সিরিজে দেখে নেয়া গেল না এটা একটু সমস্যাই হলো। পুরনো বলে ওর রিভার্স সুইং আমাদের উইকেটে খুব কাজে দিবে বলে মনে করি।
স্পিনাররা তাদের স্বভাবসুলভ কাজ করেছে আবারও। রান আটকে দিয়ে সব সময়ই চাপে রেখেছে জিম্বাবুয়েকে। আর এই চাপে থাকা জিম্বাবুয়ে তাই আর ২০০ রান পার করতে পারেনি। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ১৮৮ রান সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়েছে। মনে হচ্ছে রাজ্জাককে আজ উইকেট না দেবার পণ করে নেমেছিল জিম্বাবুয়ে। তাই রাজ্জাক আর রেকর্ডটি করতে পারলো না। পুরো সিরিজে রাজ্জাক অসাধারন বল করেছে, নিয়েছে সিরিজ সর্বোচ্চ ১৩ টি উইকেট। আর তারই পুরষ্কারস্বরুপ রাজ্জাক হয়েছে ম্যান অব দি সিরিজ।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের মত প্রথম ওভারেই উইকেট হারায়। ইমরুল কায়েসের বিদায়ের পর তামিম এবং জুনায়েদের ১৩৬ রানের জুটি বাংলাদেশকে নিয়ে যায় সহজ জয়ের দ্বারপ্রান্তে। ইনজুরি থেকে ফেরার পর যারা তামিমের ফর্ম নিয়ে সন্দেহ পোষন করছিলেন তাদেরকে আজ আজ আশ্বস্থ হওয়ার মতই ব্যাটিং করেছে তামিম। তার অসাধারন স্বভাবসুলভ মারকুটে ব্যাটিং জিম্বাবুয়ের বোলারদের একদম অসহায় করে ছাড়ে। ৫ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করা এই ব্যাটসম্যান ৯৫ রানের পথে ৫টি চার এবং ৭টি দর্শনীয় ছয় মারেন। বিশ্বকাপে এমন মেজাজের বড় ইনিংসই দরকার আমাদের। ওপেনারের এমন রানে ফেরার দিনে আবারও ব্যর্থ ৪ নম্বর পজিশনের ব্যাটসম্যান। ৩ ম্যাচে খেলা রকিবুলের মোট রান ৭৭ রান যার গড় ২৫.৭। আর ৩ নম্বর পজিশনে খেলা জুনায়েদের ৪ ম্যাচে মোট রান ১২১ রান যার গড় ৪০.৩ এবং স্ট্রাইক রেট ৫৩.৩। তাই এই দুই পজিশনের ব্যাটসম্যান নিয়ে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা না কমে বাড়ল বৈকি। বিশ্বকাপে মিডল অর্ডারের এই গুরুত্বপূর্ন দুটি পজিশনে ব্যাটসম্যানরা ভালো না করলে দল হিসেবে ভালো কিছু করা অনেক কঠিন হয়ে যাবে। তাই মিডল অর্ডার নিয়ে আরেকবার ভাবা দরকার।
পুরো সিরিজে বাংলাদেশের স্পিনাররা জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের উপর কেমন ছড়ি ঘুরিয়েছে তা নিচের পরিসংখান দেখলেই বোঝা যাবে।
ওভার রান উইকেট ইকোনমি রেট
১৪১.২ ৫৪৮ ২৬ ৩.৯
তাই স্পিনাররা এই নিয়ন্ত্রিত বোলিং বজায় রাখতে পারলে বিশ্বকাপে আমরা ভালো কিছু আশা করতেই পারি।
ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিকতার অভাবটাই দূর করতে হবে। তাদেরকে নিয়মিত দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে হবে তবেই আমরা টিম বাংলাদেশ যে একটি ভয়ংকর ওয়ানডে দল তা বিশ্বকাপে প্রমাণ করতে পারব।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৫:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


