আমার এক বন্ধু ছিলো "মিসকল রাজা"। মিস কল দেয়াতে পিএইচডি এবং ধরতেও পারদর্শী। কোন নম্বর পাইলেই হইছে কথা নাই। আর মাইয়া মানুষ হইলে তো আর কইলাম না।
যাই হোক আমরা দুই বন্ধু লুকাল বাসে ঝুলতে ঝুলতে যাচ্ছি সায়েদাবাদ টু গাবতলী। হঠাত ধান্ধাবাজী করে লেডিস সীটে বসলাম। কি আনন্দ! মনে হইলো বেহেশতে ঝপাং কইরা পড়লাম। আশেপাশের লোক জনের কেমন জানি ঈর্ষা দৃষ্টি, ফাটাফাটি। এমন সময় হঠাত করে চোখ আটকালো সিটের কভারে, লেখা, "আমি সুমি (আমাগো ব্লগের সুমি না), বড্ড একা, কথা বলতে চাই, ফোন দিবা?" লেখার নিচে ফোন নম্বর। আমার পড়া শেষ হ্য় নাই ওর মিসডকল দেয়া সাড়া। ওর মিসড কলের ব্যাপারে কিছু প্রটোকল আছে, অনেকটা দরজায় টোকা মারা টাইপ। প্রথম মিস কলটা মারা হয় একটু বেশী সময় ধরে। তার প্রায় ২.৫ মিনিট পর একটু দীর্ঘ সময় মিসড কল। তারপর ১ মিনিট অন্তর অন্তর ৩টি খুবই ক্ষুদ্রতম মিসড কল। যে ঐ পাড়ে থাকে মিসড কল ধরতে না পাইরা মেজাজ টাই বিলা হইতে থাকে ডিম ভাজা তাওয়ার মতো। যাই হোক বাস থিকা নামার পরই উক্ত নাম্বার থিকা কল। সে তো কি খুশী! নাচতে নাচতে মাথার চুল ঠিকা ঠাক কইরা গলায় দুই একটা খাকারী দিয়া কোকিলা কন্ঠে বললো, "হ্যালো, কে বলছেন?" কিন্তু ঐ পাড়ের উত্তরটা শুনার পর মুখটা কালা হইয়া গেল। কিছুক্ষণ পরপর আমার দিকে আড়চোখে তাকাইতে লাগলো আবার আকাশের দিকে তাকাইয়া হু হা করতে লাগলো। কল কাটার পর মনে হইলো ভরদুপুরে ওর মুখে আমাবষ্যার রাত নাইমা আসছে। ও কইলো," দুস্ত আমি আর বাসায় যামু না, আমি দেশের বাড়ী যামু অহন, বাসায় জানাইয়া দিস আর হাতে মালপানি থাকলে দিয়া যা।" আমার পকেট হাতড়াতে টাইম লাগছিলো কারন আমি বারবার জিজ্ঞেস করছিলাম কি হইছে, কেডায় ফোন ধরছে? ও টাকাটা কোনমতে হাতে পাইয়া কইলো, "দুস্ত, নম্বর খান র্যাব-৪এর কোন ক্যাপ্টেনের বলে। হ্যায় বলে অহনই আমারে স্যাটেলাইটে খুইজা বাইর করবো। আমি আমার মুবাইল বন্ধ রাখলাম আর তুইও এইহানে বেশী ঘুরঘুর করিসনা।" এইটা বইলা ও ভো লৌড়। ওর লুড় দেইখা আমি টাস্কি খাইয়া গেলাম।
তয় উল্লেখ্য ও এখন নতুন নম্বরে মিসড কল খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। আগে বাইরে থেকে কল করে শিওর হয়ে নেয় তারপর "মিসকল রাজা" তার মিসড কল শুরু করে।
[এই ব্লগে আমার ব্য়স ৩-৪ মাস হলো বোধ হয়। ভালোই দিন গুজরান হয়। আগে বাংলা টাইপের জটিলতা দেইখা আমি ভয়ে নাক সিটকাইতাম। কিন্তু এখন অফিসের আনঅফিসিয়াল কাজে আমার ব্লগ লেখার আগ্রহ দেইখা অনেক কলিগ সাইন ইন করে বাংলা টাইপে অফিসিয়াল টাইপ করছে। ধন্যবাদ ফোনেটিক আর সামহোয়ার ব্লগ দুটোকেই ।]
এখন আরো কিছু উড়াধুড়া বান্দরের গল্প করি!
আমার এক বন্ধু ছিলো নাম শিট রফিক। নামের প্রথমটুকু আমরাই দেই কারণ ও কথায় কথায় শিট বলে। এমনকি ঘুমের মধ্যে বিশেষ মুহুর্তেও শিট বলে (ওর রুমমেটের ধারাভাষ্য মতে)। ওকে নিয়া একটা বিশেষ গল্প প্রচলিত ছিলো আমাগো সার্কেলে। ওর বাবা ছিলো তাবলীগের-খুবই পরহেজগার বান্দা অনেকটা আলেমের ঘরে লাদেন। পরকালে পাড়ি জমিয়েছেন বহুদিন আগে। গল্পটা এই পিতা পুত্র ঘিরেই।
অনেকটা এরকম: একদিন রফিক খালি মাঠে পুল খেলছে আর প্রতি ষ্ট্রোকে হোলে বল ফালাইতে না পাইরা বলতাছে, " শিট! এইবারও মিস!" ওর শিট শিট শুইনা ওর পিতা আর সহ্য করতে পারলো না, বইলা উঠলো, " বাবা, মাথার স্ক্রু কি দুই-একটা ঢিল হইছে, এত শিট শিট বলো কেন? বলো হে খোদা, হে খোদা। তুমার কথা শুইনা তো আল্লায় গজব দিবো।" ও মনোযোগ দিয়া শুনলো এবং নিজেকে শুধরানোর জন্য আশ্বস্ত করলো এবং আবারও খেলায় মনোযোগ দিলো। কিন্তু কপাল ছিলো অভাগার, আবারও মিস! এবং মনের ভুলে বইলা উঠলো," শিট! এইবারও মিস!" কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে খেয়াল করলো, আকাশ হঠাত কালো হইয়া গেল, চারিদিকে বইতে শুরু করলো দমকা হাওয়া। আকাশে থোড়া-বহত বিদ্যুতও চমকাইতে লাগলো। রফিক ভয়ে পুলের টেবিলের নীচে পলাইলো জপ করতে লাগিলো," আর কমু না, ভুল হইয়া গেছে" এবং এমন সময় হঠাত একটা ঠাডার আওয়াজ। ও টেবিলের নীচ থিকা বাইর হইয়া দেখে ওর বাপ মাটিতে শুইয়া আছে ঠাডা খাইয়া আর এমুন সময় হঠাত উপর থিকা কে জানি বইলা উঠলো, " শিট! এইবারও মিস!"
অবশ্য এ গল্প শোনার পর বহুত ক্যাচাল হইছিলো এবং ইদানিং তো ওরে দেখিই না।
এই ব্লগে একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম কেউ যদি জ্ঞানী জিনিস নিয়া তর্ক করতে গিয়া দিলে হার্ট খায় তাহইলে তার পরের পোষ্টটা হ্য় মারাতক। ঐ খানে তার বক্তব্যের অন্তরালে অনেক রেফারেন্স অনেক বই ঘাটাঘাটি পুরা তুলাকালাম অবস্হা! আসলেই এখানকার ব্লগ বাসী অনেক জ্ঞানি অনেকটা আমাগো ইয়াজউদ্দিনের মতো, খালি সিটে বইসাই হম্বিতম্বি মাগার কিছুই করতে পারে না, পুতুল সরকার। তয় চট্টগ্রামের জন্য ব্লগবাসীর অবদান অবিস্মরনীয়- সাধারন লোকে না জানুক, আমরা লিচুজনতা তো জানি!
পুতুল সরকারের কথা শুইনা আমার আবার একটা কোচিং সেন্টারের কথা মনে পইড়া গেল। আমাগো পাড়ার one of the successful and hit কোচিং সেন্টার। একে গইড়া তুলছিলো পাড়ার দুই মানিক-রতন: বেলাল ভাই আর শামীম ভাই। যাই হোক তারা বান্দর তাড়াইতে আবার উস্তাদ।
তো একবার বেলাল ভাই ক্লাস নিতে আসলেন ৯ম শ্রেনীর ব্যাচে। দরজায় ভিতরে ঢুকতেই দরজায় অমোচনিয় কালিতে লেখা দুই লাইনের অমর কবিতা:
যে লাল লাল নয়: বেলাল
যে শিম শিম না: শামীম
একটা খুটা আরেকটা বীম!
ক্লাসে সব চুপচাপ। সবাই ভাবছে ঘূর্নিঝড়ের পূর্বাভাস। ক্লাস রীতিমত শেষ হলো। ক্লাস শেষে একটা চমক: ঘোষনা এল যে একাজটা করেছে তার কপালে রয়েছে কঠিন শনি! ব্যাস এত টুকুই। কারণ সবাই ভাবলো কে করছে এইটা বাইর করা কখনই সম্ভব না। দু'দিন পর দেখা গেল বেলাল ভাই ক্লাসে ঢুকেই মোবাশ্বেরকে ডাকলেন। এখানে একটা কথা মোবাশ্বের হচ্ছে ক্লাসের সবচেয়ে ইচড়ে পাকা বান্দর। তাকে এনে বললেন," যা কালি দিয়ে লেখাটা মুছে ফেল।" সে সুন্দর নাচতে নাচতে মুছে ফেললো। মুছা শেষে ক্লাসে এসে দেখে দু'দুটি জোড়া বেত সাথে একটা চিকনা বেত। বেলাল ভাই কেমনে জানি ধইরা ফালাইছে মোবাশ্বেরই হইতাছে কালপ্রিট। ব্যাস আর যায় কৈ, ওর পশ্চাদদেশ লালে লাল (তবে ঐটা হিডেন ছিলো)। ওর মাইর দেইখা পুলাপানের মন পর্যন্ত কাইপা না উঠলেও বেতের মন কাইপা উঠছিলো, তাই সেই দুঃখে মনে লয় বেতও আস্ত আছিলো না। সেমি বান্দর পুলাপান একটা হিট কবিতাও বানাইলো:
আমার একটা শখের দুকান
বেতের মাইরে খান খান।
এইখানে "দুকান" বলতে ওর পশ্চাদ্দেশকে বুঝানো হইছে!
__________________________________
আমার একটা পইলা দুস্তর কথা বলি:
ওর গল্প: "ও নয়া মুবাইল কিনছে। আমি কছমে কইতাছি আমি তহনও কুনো মুবাইল দেখি নাই। যাউকগা ওর চিকনা কালা কোট থিকা মুবাইলটারে বাইর কইরা দেহি কি তমসা! বাদ্য বাজে, কথা কয়। আমি তো তাজ্জুব! তয় মনে একটা প্রশ্ন জাগলো, জিগাইলাম, "দুস্ত, মুবাইলটারে কুট পড়াইছ কেন?" উই কয়," শীত লাগে তো এইলিগা।" আমি কইলাম," দুস্ত, তর পাছাতো এমনেই গরম, ঐখানে রাখলেই পারছ।" উই কইলো," মাঝে মধ্যে গরম বাতাস বাইর হইলে গন্ধ সইতে পারে না।" আমি কইলাম,"হক কথা।""
যে আমাকে উপরোক্ত গল্পখানা বললো, তার গালে একটা থাপ্পর লাগায়া কইলাম,"পাবনা থিকা এত তাড়াতাড়ী আসলি কেন?"
ও কইলো, "ওগো নাকি রাইতে ঘুম হ্য়না আমার লিগা। তাই কইলো পাড়ার ঘুম নষ্ট করোগা!"
আমি তার চোখে দেখলাম আগামীর হাসিনা!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১০:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


