হঠাত কষ্টের ঠাসবুননে আঠালো এক পরিবারের গল্প শুনাই এবার।
গল্পটা পারিবারিক, যে পরিবারে একজন অগাধ দুঃখী মানুষ বাস করে।
তুমি হয়তো ভাববে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তোমার জন্য বলি,আসলেই কিছু কিছু মানুষ আছে যারা অসম্ভব রকমের দুঃখ নিয়ে পৃথিবীতে জন্মায়।
স্টোরিটা জমানোর জন্য আসুন আমরা মানুষটার দুটো চোখ অন্ধ বলে ধরে নেই, যদিও ধরে নেয়াটা অনেক সহজ একটা কাজ, যদি না নিজের জীবনে না হয়।
এরকম শুধু রূপকথার দৈত্যরা হয়, দৈত্য হয়েও তাদের ধোপা শ্রেণীর মানুষের কাছে পরাজিত হতে হয়, অন্ধ ও বধির বলে। তাই বলছিলাম, কোনো মানবীয় শিশু এরকম হলে তা হয়ে উঠে প্রকৃতির এক অসভ্য রসিকতা।
তুমি যে অন্ধ তা আমি ক্যামনে টের পাই? তোমাকে তো প্রমাণ দিতে হবে। তোমার খিদে পেলে তুমি কাঁদো, দ্যাটস ওকে। ইতি উতি তাকাও, কাকে যেন খোঁজো। তাহলে আমি কিভাবে ধরে ফেলি তোমার অন্ধত্ব? তোমার মা তার জৈবিক বোটাটা তোমার মুখে পুড়ে দিলে তুমি অফ যাও। প্লাস্টিকে তোমার বড্ড এলার্জি, থু দিয়ে ফেলে দিয়ে তারস্বরে চেঁচাতেই থাকো যতখ্খন না আবার জৈবিকতার স্বাদ তোমার ঠোটে লাগে।
আমি বান্দর হই, শাকচুন্নি ভুত হই, ওলেলেলে আওয়াজ তুলি- তোমার বিরক্তি বাড়েই, তুমি কাঁদো। আমি কি করে বুঝবো, যে চোখ দিয়ে অমন টসটসে শিশির ফুটে সেই চোখে তুমি শুধু চেয়ে থাকো, দেখো না কিছুই। ক্যামনে কি?
তোমার জননী কিন্তু কোনো এক মুখপোড়া মুহুর্তে ঠিকই ধরে ফেলে তোমার চালাকি।
কিংবা ভুল বললাম, মায়ের আগে ধরে ফেলে তোমার ডানপিঠে ভাইটা। হুলোবিড়ালটার লেজে অহর্নিশ বাধা যার ছুটোছুটি।
তুমি কি মুচকি হেসেছিলে, যখন তোমার পাড়া দাবড়ানো ভাই গত রমজানের ঈদে কিনে দেওয়া মিলিটারি পোষাক পড়ে বিড়াল পায়ে তোমার দোলনার কাছে এসে হঠাত্গর্জন করে উঠেছিল, তোমাকে আচানক কাঁপিয়ে দেবে বলে।
তুমি নিশ্চিন্ত মনে তাকিয়ে ছিলে তার দিকে, হয়তো বা তাকে নয়, তার মাথার পেছনে কিছুটা দূরে দেয়ালের গায়ে সাপটে থাকা কালো মাকড়শার দিকে। কোনদিকে তাকিয়েছিলে তুমি? কারদিকে?
তুমি কি শুনেছিলে তারস্বর?
তারপর গল্পটা আর গল্প থাকে না। আবিস্কার কাহিনী হয়ে উঠে।
কিংবা এ.আই. এর মতন ভিন্নধর্মী কোনো ফিকশন মুভি হয়ে যায়, যার শেষ দৃশ্যে একটি পরিবারের ছয়টি অবাক চোখকে দৃষ্টির আলো খোঁজে ফিরতে দেখা যায় বাকী দুটি চোখে গভীরে।
ক্রুর বিধাতা ছাড়া এখন পর্যন্ত কেউ জানেনা মেয়েটি শুধু অন্ধই নয়, বধিরও।
তার বয়স কম,যতটা সময় একটা শিশু কানে শুনতে পায় না এই মর্মান্তিক ব্যাপার তার বাবা-মার আবিষ্কার করতে লাগে- ঠিক ততটাই। ব্যাপারটা শকিং, স্পেশালি যদি তা কোনো অন্ধ মেয়ের বাবা-মার বেলায় ঘটে।
আমাদের দুঃখী মানুষটা কি কারনে যেন হেসে উঠে। সবাই বলে, ওটা নাকি ফেরেশতার হাসি!
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০০৭ সকাল ১০:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




