রাত ঠি্ক ৯.১ । মিরাজ ভাইয়ের ফোন
ফাইজুল ভাই আপনি রেডি ,
উত্তর দিলাম … হম রেডি।
যা বলছি মনে আছে তো?।
আছে ।
আচ্ছা হোটেল নুরজাহানের (হোটেল নুরজাহান ,পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড,কুমিল্লা) সামনে আসেন ,
আচ্ছা আসতেছি, আপনি দাড়ান।
আমার সম্বল একটি টিভিএস মটরসাইকেল । আমি দেলোয়ার ভাই মিরাজ ভাই সহ অচেনা আরো ৩ জন মোট ৬ জন ২টি গাড়িতে , নুরজাহান হোটেলের সামনে থেকে হাইওয়ে রোডে (ঢাকা চট্রগ্রাম রোড)কিছুক্ষন চললাম, বামের একটা সরু রাস্থায় নামলাম, চিপা বাকা গ্রামের মধ্যে একটা রাস্থায় চলতে চলতে জন মনবহীন একটা বাজারে এলাম বাজারটার নাম কালী বাজার , বাজার থেকে হাতের বামে সরু একটা রাস্তা পেলা্ম, এটাকে ঠিক রাস্তা বলা যায় না ।প্রায় ৫৫ মিনিট গাড়ি চালালাম,সামনের গাড়ির একজন হাতের ইসারা দিলো,গাড়ি থামালাম হেড লাইট বন্ধ , সামনে ঘন জংগল, হুক্কা হুয়া হুক্কা হুয়া শব্দ পাচ্ছি , কোনো এক শিয়াল মামা আমাদের দেখে ফেলেছে , কিছু দূর উজ্জ্বল আলো জলছে, জন কয়েক বিএসএফ জওয়ান টহল দিচ্ছে, গায়ের রক্ত ঠান্ডা হয়ে গেলো।
এরাই দেখামাত্র গুলি করে !!! নেংটো করে পেটায় , খাইছে আমারে !!! একজন অভয় দিলো ভয় নাই , আমিও চুপ … ভয়ে কাপতে লাগলাম। আহ মশায় কামরাচ্ছে !!!
যাই হোক… আমদের পরিকল্পনা হল, গাড়ী জংগলের মধ্যে রেখে, জংগলের ভিতর থেকে ইন্ডিয়ার বর্ডার পার হতে হবে…
মাথার মধ্যে প্রশ্ন… একজনকে জিগাইলাম- আমাদের বিজিবি কই তাদের দেখলাম না কেন?
একজন বলল - এখান থেকে চোরা কারবারিরা মাল পাচার করে তাগো লগে বিজিবি গো লেনদেন আছে তাই এই সময় তারা এই খানে নাই ।
অহ বুঝছি!!! বিজিবি আর চোরাকারবারি মামু ভাইগনার সম্পর্ক !!!
আমার সাথে অচেনা ৩ জনের সবাই রে দেখতে ভদ্দরলোক মনে হয় , এই হালারাও কি চোরা কারবারি ? এই প্রশ্নটা মাথার মধ্যেই রইলো কাউরে জিগাইতে সাহস পাইলামনা।
এবার জংগল জাত্রা শুরু হইলো। বাহ জংগলের মাঝেও দেখি সুন্দর চিকনা রাস্তা। হঠাৎ থেমে গেলাম।খাইছে সামনে হালার ১০০ হাতে মধ্যে বিএসএফ !! ভাগ্য ভালো আমাগো দেখে নায়। জংগলের মাঝে ঢুকে গেলাম, ওরা চলে যাবার পর আবার চলা , একজন বলল আমরা এসে গেছি , এখন আমরা ভারত মাতার পেটের মধ্যে ।একটা মাটির ঘরে ঢুকলাম , ঘরের মধ্যে অনেক গুলা ড্রাম আর মটকি(মটকি হল মাটির তৈরি বড় পানি রাখার পাত্র)।
ক্যামিকেলের উৎকট গন্ধ । এইটা একটা মদের কারখানা । এখানে ফেন্সিডিল, হান্টার, হোয়াইট ম্যাজিক, টেংগু, মাস্টার৯০০০, সিবস রিগাল, ১০০ পাইপ্স, সহ নাম নাজা আরো গোটা কুড়ি ব্রান্ডের নকল মদ বানানো হয়। শুধু মাত্র আমার দেশে পাঠানোর জন্য।
মহিলা-শিশুরা ক্যামিকাল, চিনি, রঙ, পারফিউম আর পানি মিশিয়ে তৈরি করে এইসব ।
আমাকে একজন বলল- দাদা চলবে নাকি?
আমি সরাসরি না বলে দিলাম । আমার সাথের পাবলিকরা পুরা টাল । তারা যতপারে খেয়ে নিবে সাথে আনা যাবেনা । ৩০ মিনিটের মত ছিলাম আমরা। এবার দেশের পানে চলা।আবার জংগল ,আবার মশার কামর, বোনাস হিসেবে একজন একটু পর পর বমি করে যাচ্ছে । ভয় পেয়ে গেলাম। এদের বোঝালাম এই নকল মাল খেয়ে লিভার কিডনি সব শেষ হয়ে যাবে।একজনের ফাফরে চুপ মেরে গেলাম। “ধুর মিয়া গাড়ি চালান, কথা কম, এই জন্যেই আউল ফাউল লোক সাথে আনবার চাইনা, আহ দেখার কি সখ !!!”
আমি পুরা চুপ , নিজেকে ড্রাইবার ড্রাইবার লাগছে। যাইহোক জীবনে নতুন এক অভিজ্ঞতা হলো । বিএসএফের দাবরানি খাইনাই এটাই ভাগ্য। আর বিজিবি মামুগোতো পামুনা এইটা আগেই একজন বলছে।
প্রিয় পাঠক , এতক্ষন আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ,
(মানব জীবনে এমন কিছু ঘটে যা সে মনে রাখতে চায় না । এটাও তেমন একটা গল্প, নাম গুলো কাল্পনিক, ধরে নিবেন এই ঘটনাটাও কাল্পনিক।পাঠকের মন্তব্যের জন্য লেখক দায়ি নয়

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



