somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লতিফ সিদ্দিকী ও আমরা

০১ লা অক্টোবর, ২০১৪ রাত ৩:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি কট্টর ভাবে ধর্মীয় মৌলবাদ বিরোধী, ধর্ম কর্ম খুব একটা না করলেও নাস্তিক হবার যোগ্যতা বা সাহস অর্জন করিনি, কোনো ধর্মকে কটুক্তি করাকে কখনই সমর্থন করিনা।
ইসলামী মৌলবাদীদেরকে যেভাবে যতটুকু সম্ভব সবসময়েই তুলোধুনা করি। তালিবান, আইএস আইএস, জামাতে ইসলাম টাইপের টেররিস্ট দলগুলোকে তীব্রভাবে ঘৃনা করি। এমনকি প্যালেস্টাইনের,গাজার হামাসকেও আমি দুই চোখের কোনায় দেখতে পারিনা।

আজকের যুগের পলিটিক্যাল ইসলামের কল্যানে শান্তির ধর্ম ইসলামকে পশ্চিমা বিশ্ব "সহিংস" ধর্ম হিসেবেই চিনছে। অনেক কিছুতেই মতভিন্নতা আছে, সেই মতভিন্নতা থেকে মুসলমানদের মধ্যেই সহিংসতা হয়। মানুষকে জবাই করার দৃশ্য ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করে, মানুষের মাথা কেটে সেই খন্ডিত মস্তিস্ককে সাজিয়ে রেখে ফটোশুট করে, ইয়াজিদী সম্প্রদায়ের মেয়েদেরকে ধরে এনে নির্মম যৌন নির্যাতন এবং সেইসব মেয়েদের মা বাবাকে ফোন করে নির্যাতনের বর্ণনা শুনাতে বাধ্য করা হচ্ছে, আর এই সবই করা হচ্ছে.... In the name of Allah, In the name of Islam.. . কিন্তু আমি বুঝি এটা ইসলাম বলেনি, এটা জেহাদ নয়, এটা ফিৎনা। কারন, এরা কেউই আমিরুল মুমিনুন নয়।
এতসব বিভক্তি সত্বেও কিন্তু আমরা ইসলামের বেসিক ৫ টা জিনিস দেখি, এগুলোকে ইসলামের মূল ৫ স্তম্ভ বলা হয়। এগুলো হচ্ছে .... কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ্ব ও যাকাত। এই ৫ টার মধ্যে যাকাত ও হজ্ব সামর্থবানদের জন্য। ৫ টাই ফরজ বা অবশ্যই পালনীয়।

এই ৫ টার যে কোনো একটার সমালোচনা করার মানেই হচ্ছে ইসলামের সমালোচনা করা, এটাকে কোনভাবেই প্রচলিত জঙ্গিবাদের সমালোচনা বলে চালিয়ে দেবার সুযোগ নেই।

আধুনিক কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে বাকস্বাধীনতা স্বীকৃত অধিকার, কিন্তু সেই স্বাধীনতার প্রয়োগ ঘটাতে গিয়ে বিশাল সংখ্যক মানুষের ধর্ম বিশ্বাসকে আঘাত দেয়া কোনো ভাবেই কাম্য নয়।

বাংলাদেশ পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। মনেপ্রাণে এইদেশের সামান্য সংখ্যক লোকই নাস্তিক, আর ধর্মকে কটুক্তিকারী নেই বললেই চলে। বামপন্থী দলগুলোর অবস্থান এখানে খুবই দুর্বল। এখন আওয়ামীলীগের নেতৃত্ত্বে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ধর্ম নিরপেক্ষ ১৪ দলীয় জোট ও আরো কয়েকটা দলের মহাজোট সরকার ক্ষমতায়। আবহমান কাল ধরে এই দেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক হলেও এখানে ইসলামী মৌলবাদী শক্তিও রাস্তার সহিংসতায় যথেষ্ঠ শক্তিশালী। এরা সবসময়েই ইসলাম গেলো বলে রব তুলে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলে।
দেশের মানুষ ধর্মভীরু, ধর্মকর্ম যারা খুব একটা বুঝেনা বা পালন করেনা, তারা কেউই হজ্ব বা মহানবীকে নিয়ে কটুক্তি কোনভাবেই মেনে নেবেনা, না নেয়ারই কথা। লতিফ সিদ্দিকী হজ্ব এবং মহানবী সম্পর্কে যা বলেছেন সেটা তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি হলেও এটাতে বাংলাদেশের প্রায় সব মুসলমানরাই আঘাত পেয়েছেন। তার এই বক্তব্যর দায় এসে পড়েছে আওয়ামীলীগের উপর।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ একটা গণসংগঠন, জনগনের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলনই দলের নীতি হওয়া উচিৎ, কোনো নেতা বা মন্ত্রীর কান্ডজ্ঞানহীন বক্তব্যর দায় সরকার বা দলের নেয়ার কোনো কারণ নাই।
সরকার যেভাবে গুছিয়ে উঠেছিলো, বিরোধীদলের হাতে বলতে গেলে কোনো ইস্যুই ছিলোনা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদাকে ৪০ বার সময় দেয়ার পর আর সময় না দিয়ে মামলার কার্যক্রম শুরু করার কারনে আমি আশা করেছিলাম কিছুদিনের মধ্যেই বেগম জিয়াকে জেলের ভিতর আবিস্কার করবো।
কিন্তু আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী সে আশায় গুড়েবালি ঢেলে দিলো।
যতটুকু জেনেছি লতিফ সিদ্দিকিকে এই ব্যাপারে কেউই কোনো প্রশ্ন করেনি, তিনি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে হজ্ব, তাবলিগ জামাত এবং মহানবীকে নিয়ে কটুক্তি করেন। দেশে যখন রাজনৈতিক স্থিতাবস্থা বিরাজ করছে, তখন তিনি অত্যান্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে অগ্রহণযোগ্য কথা বলে কাদের হাতে অস্র তুলে দিলেন ?
তাকে মন্ত্রীসভায় না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমি মনেকরি তাকে দল থেকেও বহিষ্কার করা দরকার। এতে জনগনের কাছে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামীলীগের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।

আমার অনেক প্রগতিশীল বন্ধুরা লতিফ সিদ্দিকীর সমর্থনে বলছেন, লতিফ সিদ্দিকীর বহিস্কারের ব্যাপারকে তারা জঙ্গিবাদী হেফাজতিদের কাছে সরকারের আত্মসমর্থন হিসেবেই দেখছেন। তাদেরকে আমি বলবো ব্রাদাররা তিনি জঙ্গিবাদ বা মৌলবাদ নয়, ইসলামের ভিত্তিমুলকেই আঘাত করেছেন। আপনাদের জন্য তার বক্তব্য নিচে দিলাম ....পড়ে বলুন, এটা কোন এঙ্গেলে ইসলামের বিরোধিতা নয় ?

‘আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী। তবে তার চেয়েও হজ ও তাবলিগ জামাতের বেশি বিরোধী। এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার (জনশক্তি) নষ্ট হয। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাম নাই। এদের কোনো প্রডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে। আব্দুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ খুব বুদ্ধিমান ছিল। সে চিন্তা করল এ জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কিভাবে চলবে। তারা তো ছিল ডাকাত। তখন একটা ব্যবস্থা করলো যে আমার অনুসারীরা প্রতিবছর একবার একসাথে মিলিত হবে। এর মধ্য দিয়ে একটা আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে।গড়ে যদি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ লোক হজে যায়; প্রত্যেকের পাঁচ লাখ টাকা করে ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়। তাবলিগ জামাত প্রতিবছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদের তো কোনো কাজ নেই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।’
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়ার সেলফ্‌

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×