somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাবাকে নিয়ে লেখা

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খাটলিতে বাবা শুয়ে,মাথার কাছের সাদা কাপড় রক্তে লাল হয়ে আছে,টোপে টোপে রক্ত কান নাক দিয়ে বের হয়ে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি খাটলির পাশে দাড়িয়ে একনজরে বাবার দিকে তাকিয়ে আছি।
-
আমার বাবা সাদামাটা একজন মানুষ মা ছিলো একটু চড়া মেজাজের বাবা মায়ের একটুতেই ঝগড়া লেগে যেত।
যখন বাবা মা ঝগড়া করতো বাবা আগে দেখে নিতো পাশের রুমে আমি আছি কিনা?
যদি থাকতাম মা সেদিন হাজারো গালি দিলেও বাবা কোন উত্তর করতেন না।
শুধু একটা কথাই বার বার বলতেন পাশের রুমে ছোট ছেলেটা আছে আস্তে কথা বলো।
আমি ছিলাম বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান আমার বড় বোন ছিলো বিয়ে হয়ে গেছে আমি তখন চতুর্থ শ্রেনীতে পড়ি।
তখন থেকে বাড়িতে বাবা মা আর আমি।
ছোট পরিবার,, সুখের অভাব ছিলো না আমাদের।
বাবা মা উভয়েই আমাকে অনেক আদর করতেন।
পরিবারের একমাত্র সন্তান বড় বোন শুশুর বাড়িতে আদরের কমতি ছিলো না আমার।
বাবার একটা ছোট মোটর সাইকেল ছিলো আমি যখন নবম শ্রেনীতে পরি বাবা তখন আমায় মোটর সাইকেল চালানো শিখিয়েছিলেন।
নবম শ্রেনীতে প্রায় বাবার সমান হয়ে গেছিলাম পাড়ার লোকে হাসতো আমাদের বাপ বেটার কান্ড দেখে।
মা বলতো তুই আমাদের সব তোকে নিয়েই আমাদের সব আশা ভরসা তুই বড় হবি ভালো একটা ভর্সিটিতে পড়বি আর বড় এক অফিসার হবি ।
আমার উদ্যেশ্য ছিলো বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরন করা আর বাবা মায়ের স্বপ্ন ছিলো আমাকে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।
বাবা তেমন কিছুই করতো না দাদার দেওয়া কিছু জমি আর ঠিকাদারির আয় দিয়েই চলত আমাদের সংসার।
আমি যখন এস,এস,সি পাশ করে এইচ এস সি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তখন হটাৎ একদিন বাবার সেই ছোট মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে এক্সিডেন্ট করে হাত পা ছিলে বিছানায় পড়েছিলাম প্রায় ১৫ দিন বাবা তখন সবসময় আমার পাশে বসে থাকতো হাতে ব্যান্ডেজ থাকায় মা আমাকে খাইয়ে দিতো।
বিদ্যুৎ চলে গেলে গড়মে ছিলে যাওয়া শরীরের অংশ গুলো প্রচন্ড জ্বালাপোড়া করতো বাবা তখন পাখা দিয়ে আমাকে বাতাস করতো।
তখন আমার লজ্জা লাগতো এত বড় হয়েছি অথচ বাবা মা আমাকে সেই ছোট বেলার মত করে আমার যত্ন নিতেছে।
লজ্জার আরেকটা কারন ছিলো আমার পরনের ফুল প্যান্ট টা ডাক্তার চেন্জ করাতে পারে নি হাটুর উপরে কাচি দিয়ে কেটে কেটে প্যান্ট টাকে আমার পরনের থেকে খুলেছিলেন, সেই ডাক্তারের বানানো ছোট প্যন্ট পরেই থাকতে হয়েছিলো ১৫ টা দিন।
যাখ অবশেষে সুস্থ হলাম বাবা মায়ের সস্থি ফিরলো।
এইচ এস সি তে ভালো একটা রেজাল্ট করলাম, তখন বাকি ভার্সিটিতে চান্জ!
-
দূর্ভাগ্য আমার কোন ভার্সিটিতেই আমার জাযগা হলো না বাবার তখন নতুন ইচ্ছে আমিকে প্রাইভেট ভার্সিটি থেকে পড়াবেন।
আমি খুব ভালো করেই জানতাম বাবার সেই সামর্থ নেই।
অনেক বুঝালাম বাবাকে মা ও বুঝানোর চেষ্টা করলেন, কিন্তু বাবা নাছোর বান্দা।
অবশেষে ৩ বিঘা জমি বাবার সেই ছোট মোটর সাইকেল বিক্রি করে আমাকে ভর্তি করালেন।
ভর্তির পর দিনে দিনে বাবার চিন্তা বারতেই থাকলো প্রতি মাসে আমাকে মোটা অংকের টাকা পাঠাতে হতো ,
এভাবে কেটে গেলো কিছুদিন আমি তখন ২য় সেমিস্টারে সেমিস্টার ফি বাবত আবারো মোটা অংকের অর্থের প্রয়োজন।
এক রাতে বাবাকে কল করে বল্লাম বাবা আমি বাড়িতে যাচ্ছি আমার ইক্সাম দেওয়া লাগবে না আমি ছোট কোন চাকরি করেই আমাদের পরিবারকে টিকিয়ে বাখবো।
বাবার এক উত্তর ছোট কিছু করার জন্যে আমি তোকে জন্ম দেই নি,যত টাকা লাগে পেয়ে যাবি বলেই ফোন কেটে দেয়।
দুই দিন পর ঠিকই টাকা পেয়ে গেলাম।
টাকাটা হাতে নেওয়ার সময় বুকটা ধুকপুক কররতেছিলো আমি জানতাম বাবা অনেক কষ্টে টাকাটা ম্যানেজ কররেছে।
চললো কিছুদিন।
বাবার বয়স তখন ৫০ এর কাছকাছি হবে কিন্তু বাবা তখনও তাগড়া ছিলেন।
হটাৎ মায়ের ফোন বাবা নাকি হাসপাতালে ছুটে বাড়ড়িতে চলে গেলাম দেখলাম বাবার কিছু কাপর পড়ে আছে উঠায় নিয়ে ব্যাগে নিয়ে হাসপাতালে চলে গেলাম বাবাকে তখন এক হাসপাতাল থেকে শহরের ভালো হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
পথে ভাবছিলাম আমার সেই এক্সিডেন্টের মত আমিও বাবার সেবা কররবো বাবার পড়নের কাপর চেন্জ করে দিবো মা খাইয়ে দিবে আমি বাতাস করবো।
হাসপাতালে ঢ়ুকেই সাদা কাপড়ে মোরানো একটা লাশ তিনিই আমার বাবা।
প্রনবন্ত সেই মানুষটা লাশে পরিননত হয়েছে,মা পাশে বসে কাদছেঁ।
------
ডাক্তারের ভাষ্যঃ অতিরিক্ত চিন্তার কারনে ব্রেইন স্টোক করে বাবার মৃত্যু হয়েছে।
--
প্রতিটা বাবার কাছেই তার ছেলে মেয়ে আলাদিনের চেরাগ। বাবারা মনে করেন চেলেমেয়েদের যত ঘসে যাবেন একদিন সেই সন্তান তাদের সন্মান মান মর্যাদা আরো বাড়িয়ে দিবেন আর তার সন্তান হয়ে উঠবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব, এরকম স্বপ্ন নিয়েই বাচেঁ প্রত্যেকের বাবা।
ঘসা=আদর,ভালোবাস।

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১:০৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা-গান-খেলাধুলা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:১৭

আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×