somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"নিকোটিনের শেষ টান"

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সহজে কারো উপর রাগ করিনা, কারণ রাগ করলে নিজেকে সামলাতে পারিনা। মাথা অনেকটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে, কি করবো ভেবে পাচ্ছিনা। সাথে সাথে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে পাশে থাকা একটা ঢং এর দোকানে গিয়ে বললাম একটা নিকোটিন দেও তো মামা?
--- দোকানদার - নিকটিন এটা কি মামা, নতুন কোনো সিগেরেটের নাম নাকি?
--- আরে মামা যেটার শেষ টানে খুব ফিলিংস আসে সেইটা দেও একটা?
--- ওওওও মামা সিগেরেট, তা কয়টা দিব?
--- একটা দেও।
,
নিকোটিন হাতে নিয়ে, হাতটা মুখের কাছে নিয়ে এই প্রথম নিকোটিন ঠোঁটের সাথে লাগিয়ে উপরের ঠোঁট দিয়ে চাপ দিলাম। ম্যাচ হাতে নিয়ে একটা কাঠি বের করে ম্যাচের সাথে লাগিয়ে উপরের দিকে টান দিতেই কাঠির মাথায় আগুন জলে উঠলো, কাঠিটা ঠিক নিকোটিনের সাথে লাগিয়ে অনেক গুলো ফিলিংস নিয়ে একটা টান দিতেই নিকোটিন জলে উঠলো। এবার নিকোটিন তার কিছু ম্যাজিক আমাকে দেখাচ্ছে। টান দিচ্ছি একটু আগুনে পুরলো আবার টান দিচ্ছি আবার একটু আগুনে পুরলো। টানের সাথে সাথে আমার মুখের মধ্যে কিছু ধুয়া ছেড়ে দিল নিকোটিনটা। ঠোঁট থেকে নিকোটিন সরাতেই কিছু ধুয়া বের হয়ে আসলো মুখ থেকে আরোও কিছু ধুয়া মুখের মধ্যেই রয়ে গেল । হঠাৎ পিছন থেকে কে যেন আমার কাধে হাত দিল। আমি পিছে ঘুরতেই আমার দিকে প্রশ্ন ছুরে দিল ---
,
--- কি ব্যাপার তুমি এখানে দাঁড়িয়ে কি খাচ্ছো এটা?
--- আম খাচ্ছি!
--- কি! এটা আম, নাকি সিগেরেট?
--- চোখেই যখন দেখছো এটা নিকোটিন তাও আবার কেন জানতে চাচ্ছো?
--- এত রাগ দেখাছো কেন !
--- রাগ অনেক জমা আছে তাই দেখাচ্ছি !
--- আগে তো কখনো দেখিনি তুমি সিগেরেট খেয়েছো?
--- আগে কখনো খাইনি তাই দেখনি,এখন খাচ্ছি তাই দেখছো।
--- বাহ! বাহ! খুব ভাল, আগের থেকে অনেক অনতি করেছ। এটা খেতে কেমন?
--- টান দিয়ে দেখ?
--- কি! তুমি আমাকে সিগেরেট খেতে বলছো? তোমার লজ্জা করলো না এই কথা বলতে?
--- লজ্জা থাকলে তো আর প্রেম করা যায়না। খেয়ে দেখ এটার সাধ কেমন ।
,
এ কথা শুনে পিছু ঘুরে হণহণ করে চলে গেল। আমি ওর পায়ের দিকে ওর আকা-বাকা হাটা দেখছি। ও মেয়েটার সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেই। ও হল কিউট পেত্নি। না না ভূত-পেত্নি মনে করেন না। আমি ওকে ভালবেসে কিউট পেত্নি বলে ডাকি। ওর এই নামটা আমিই রেখেছিলাম। ওকে আমার খুব ভাল লাগে বিশেষ করে গাল দু'টো। কারণ ও যখন হাসি দেয় তখন ওর গালে টোল পরে। তখন ওকে দেখতে সেই লাগে। ওর উপর কেউ যেন নজর না দেয়, সেই জন্য আমি ওকে কিউট পেত্নি বলে ডাকি। কিন্তু এখন এমন অবস্থা দুনিয়াতে আমার এই পেত্নির দিকেও অন্য কেউ নজর দিয়েছে।
,
অন্যো কেউ নজর দিয়েছে মানে বোঝেন নাই। না বুঝলে আর আপনার বোঝার দরকার নাই। একটা রিলেশনশিপে অন্যের নজর বোঝেন না আবার লাভ স্টোরি পড়তে আসছেন? অন্যের গালফ্রেন্ডের দিকে যখন তাকান, তাকাবেনই, কারণ নিজের টা দেখে দেখে তো বিরক্ত হয়ে গেছেন তাই না। সরি বস্/ আপু মাথা ঠিক নাই কি বলতে কি লিখে ফেলেছি ।
,
পেত্নি এখানে এসেছিল আমার সাথে কিছু কথা বলতে, আর সেই কথা শুনেই আমি এই নিকোটিন হাতে এবং ঠোঁটে লাগিয়ে টান দিয়েছি। ওর কথা গুলো শুনে এত কষ্ট পেয়েছি যেটা বলার ভাষা নেই। ওদের বাসায় আজ ছেলে এবং ছেলের মা-বাবা ওকে দেখতে এসেছে। দেখা শেষ চলে যাবি কিন্তু মেয়েকে পছন্দ করার কি দরকার। পছন্দ হবেনা আমার পেত্নি বলে কথা। আর অন্যের প্রেমিকাকে সব লুতুপুতু ছেলেরাই পছন্দ করে এটা নতুন কি। পছন্দ হয়েছে ভাল কথা তাই বলে কি বিয়ে ঠিক করতে হবে নাকি। কেন বোঝেনা মেয়ের অন্য ছেলের সাথে রিলেশন আছে। কিছু ছেলেদের মা-বাবা কেন যে এমন করে আল্লাহ ভাল জানে। সুন্দর মেয়ে পেলে ছেলের সাথে বিয়ে করানোর জন্য পাগল হয়ে যায়। মনে হয় ওনার দাদার গোডাউনের জিনিষ। পাওয়া মাত্রই নিয়ে গেল। দাদার গোডাউনের জিনিষ মনে করে আমার ভালবাসার মানুষটাকে তার ঐ গাধা মার্কা ছেলের সাথে বিয়ে করে নিয়ে যাবে এটা আমি কিভাবে সহ্য করি।
,
কিন্তু আমারেই বা কি করার, আমি একটা ছেলে যার আসল জিনিষই নেই। না না ঐ জিনিষ মনে করেন না ? আমি বোঝাতে চেয়েছিলাম চাকরির কথা। একটা চাকরি থাকলে ওকে বিয়ে করে আমার বাসায় রাখতাম কিন্তু আমিই তো থাকি অন্যের বাসায়। পেত্নিকে আবার কই রাখবো। ভাবছি আলমারিতে ডুকিয়ে রাখবো, কিন্ত বাস্তব এত কঠিন কিছুনা চাইলেই মেরে বল বানিয়ে রাখতে পারি। আমারে সবাই পাগল বলবে। কি আর করবো নিকোটিন টানছি আর হাটছি।
,
২ দিন পর কল দিয়ে বলল দেখা করতে--
"সেই রেস্টুরেন্টের সামনে, বিকাল চারটার সময় "
,
আমি এসে দাঁড়িয়ে আছি বিকাল চারটার আগে। কারণ জানেননি তো ছেলেদের সব সময় আগে এসে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, আর মেয়েরা ঠিক টাইমে তো আসে না। টাইমের অনেক পর আসে। তখন আমার মত প্রতিটা ছেলেরেই মাথা খুব গরম হয়ে যায়। গরম হলেও কি করার,যখন মনের মানুষটা লেট করে কাছে এসে বলে ''আচ্ছা বাবু আমি কি লেট করে ফেলেছি" এই কথা বলে সেই মাপের একটা রহস্যময় হাসি দেয় আর প্রতিটা ছেলের মনের মাঝে লাড্ডু ফুটে যায়। এই হাসি দেখলে কঠিন শক্ত পাথরও লজ্জা পেয়ে গলে শরবত হয়ে যাবে?
,
কি আর করার আমি তো আর কোনো ছেলের উল্টো দিকে যেতে পারিনা। আমারও তাই হল। তো রেস্টুরেন্টের ভিতরে গিয়ে বসে পেত্নীর কথা শুনছি। তার কথা গুলো অনেক সুন্দর আপনারও মনোযোগ দিয়ে শোনেন --
,
পেত্নী--- বাসা থেকে আমার বিয়ে কনর্ফাম করেছে। আমি এখন কি করবো। তুমি একটা কিছু কর প্লিজ?
--- অনেক কিছু করতে চাই, কিন্তু তুমি তো বললা ওসব বিয়ের পর?
--- কি বললা তুমি? (রেগে গিয়ে)
--- না না কিছুনা।
--- আমি না তোমার জি এফ তাহলে নানা কেন বলছো? (আরো রেগে)
--- ও ও ও সরি সরি সোনা বউ!!
--- হুম ঠিক আছে! কিন্তু তুমি আমাকে বিয়ে করলা কোনদিন?
--- কই বিয়ে তো এখনো করিনি তোমাকে।
--- তাইলে বউ বললা কেন? আমি কি তোমার বিয়ে করা বউ নাকি যে মন চাইলে আর ডাকবা?
--- ও ও ও সরি সরি গালফ্রেন্ডকে বউ ডাকাও নিষেধ!!
--- হ্যাঁ নিষেধ।
--- তাহলে কি ডাকবো?
--- কেন তুমি জানোনা আমাকে কি বলে ডাকবা?
--- হ্যাঁ! হ্যাঁ! মনে পরছে, শুধু সোনা ময়না নো লক্ষি কারণ লক্ষি হিন্দুদের মরতির নাম তাই তো।
--- হুম! এখন বল কি করবা?
--- কি করবো?
--- কি করবে মানে? তুমি বুঝতেছোনা কি করতে হবে?
---হুম কিন্তু আমার তো আসল জিনিষ নেই।
--- মানে কি?
--- না মানে আমার তো চাকরি নাই যে! তোমাকে কই রাখবো?
---তুমি কি আমাকে চাও না?
--- চাইলেই কি সব পাওয়া যায়!
--- তবে কি আমাদের এতদিনের ভালবাসা মিথ্যে ছিল?
--- একদমি না!
--- তাহলে?
--- জানিনা!!
,
পেত্নী চোখের কোনে এক চিমটি পানি, পানিটা তার গাল গড়িয়ে মাটির উপর ফ্লোরে পড়লো। সাথে সাথে পেত্নী চেয়ার থেকে উঠে চলে যাচ্ছে। আমি কি করবো বুঝতে পারছিনা। আমিও উঠে গিয়ে ওর হাতটা ধরলাম। ওকে থামতে বললাম। ও থামলো। পেত্নীকে সাথে নিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হলাম। বের হয়ে সামনের ঢংয়ের দোকান থেকে একটা নিকোটিন নিলাম। মুখে লাগিয়ে আগুন দিয়ে পুরিয়ে নিকোটিন টানছি আর ভাবছি কি করবো। ওকে নিয়ে পালিয়ে যাব। নাকি অন্য কারো হাতে ওকে তুলে দিব।
,
অনেক ভাবনা আসলো মাথায়,,,,
অন্য কারো হাতে তুলে দিলে ওকে টাকার অভাব দেখতে হবেনা। দিন রাত অভাবের চিন্তা করতে হবেনা। ভাল মন্দ খেতে পারবে। যখন যেটা চাইবে সেটাই পাবে। হয়তো মনের মাঝে এখন শান্তি থাকবে না কিন্তু একটা সময় ঠিক আমাকে ভুলে গিয়ে ওকে নিয়ে সুখে থাকবে। কষ্টের মাঝে যেমন একটা সময় মানুষকে হাসতে বাদ্ধ করে, তেমনি ওকে সুখে থাকতে বাদ্ধ করবে। এক সময় সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। আসতে আসতে সব সৃতি ভুলে যাবে খানিক সময়ের জন্য। কিন্তু আজীবনের জন্য ভুলতে পারবেনা। আবার ওর মা-বাবাও খুশি হবে। ছেলেও ভাল একটা জব করে। সব ভাবনা চিন্তা করে ওকে পাঠিয়ে দিলাম ওর পরিবারের কাছে।
,
ও চলে যেতে চাইনি তাও ওকে জর করে আমি পাঠিয়ে দিলাম। থাকনা আমার ভালবাসাটা ভাল অন্য কারো । ও সুখে থাকলেই তো আমার সুখ। ও ভাল থাকলেই তো আমি ভাল থাকবো। ও হেঁটে যাচ্ছে আর কান্না করছে । আমার চোখের কোনেও জল এসে খেলা করছে। ওকে হারাতে চাইনি কিন্তু কি করবো সব কিছু যে এখন টাকা। নিকোটিন খাচ্ছি, পেরায় শেষের দিকে নিকোটিন। আমার মনের মানুষটা চলে যাচ্ছে। আমার ভিতর কষ্ট হচ্ছে কিন্তু কাউকে দেখাতে পারিনা আর হয়তো দেখাতে পারবো না। নিকোটিন টা মুখে নিয়ে শেষ বারের মত এক টান দিলাম। আজ এখানেই এই নিকোটিন খাওয়া শেষ করে দিব। তাই এই নিকোটিনের শেষ টান।

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:৩০
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা-গান-খেলাধুলা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:১৭

আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×