somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লাড ডোনেট সম্পর্কিত কিছু তথ্য

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইংরেজ চিকিৎসক ডাঃ উইলিয়াম হার্ভে ১৬১৬ সালে গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে মানবদেহের আভ্যন্তরে রক্ত প্রবাহিত হয়। এর অনেক পরে ডাঃ জেমস ব্লান্ডেল নামে একজন ইংরেজ ধাত্রীবিদ্যাবিশারদ ১৮১৮ সালে রক্ত পরিসঞ্চালনের জন্য একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন যা দিয়ে সর্বপ্রথম সফলভাবে একজন সুস্থ মানুষের দেহ থেকে আরেকজন মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের দেহে রক্ত পরিসঞ্চালন করে তাকে বাঁচিয়ে তোলা হয়।
এভাবেই মানুষের শরীরে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ার শুরু এবং এরপর থেকেই মানুষের দেহে রক্ত পরিসঞ্চালনের মাধ্যমে অসংখ্য অসংখ্য মানুষকে মৃত্যুর পথ থেকে ফিরিয়ে সুস্থ করা হয়ে আসছে।
কারা রক্ত দানের জন্য উপযুক্তঃ
১৮-৬০ বছরের সুস্থ সবল যে কোন ব্যাক্তির ওজন যদি ন্যুনতম ৪৮ কেজি হয় তবে তিনি রক্ত দানের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হন।
রক্ত দিলে শারীরিক কোন ক্ষতি হয় কি?
রক্তদানে শরীরের কোন ক্ষতি হয়না। ছেলেদের শরীরে ওজনের কেজিপ্রতি ৭৬ মিলিলিটার আর মেয়েদের শরীরে ওজনের ৬৬ মিলিলিটার করে রক্ত থাকে এবং সবারই কেজিপ্রতি ৫০ মিলিলিটার রক্ত সংবহনের জন্য প্রয়োজন হয়, বাকিটা থাকে উদ্বৃত্ত। অর্থাৎ ছেলেদের ওজনের কেজিপ্রতি ২৬ মিলিলিটার আর মেয়েদের ওজনের কেজিপ্রতি ১৬ মিলিলিটার রক্ত থাকে উদ্বৃত্ত। ফলে ৫০ কেজি ওজনের একটি ছেলের শরীরে উদ্বৃত্ত রক্তের পরিমাণ ৫০x২৬=১৩০০ মিলিলিটার আর একই ওজনের একজন মেয়ের শরীরে উদ্বৃত্ত রক্তের পরিমাণ ৫০x১৬=৮০০ মিলিলিটার । আর স্বেচ্ছা রক্তদানে একজন রক্ত দাতার কাছ থেকে মাত্র ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিলিটার রক্ত সংগ্রহ করা হয়। তাই রক্তদানে শারীরিক কোন ক্ষতি হবার সম্ভাবনাই নেই। আর একজন সুস্থ লোক প্রতি চারমাস পরপর রক্ত দান করতে পারেন। মানুষের শরীররে রক্ত উপাদান গুলি প্রতি চার মাস পর এমনিতেই নষ্ট হয়ে নতুন রক্ত উৎপাদিত হয়। তাই রক্ত দান করলে শরীরের ক্ষতি তো হয়ইনা বরং আছে অনেক উপকার।
স্বেচ্ছা রক্ত দানের মানসিক ভাবেও আছে অনেক উপকার এবং ধর্মীয় দিক থেকে অত্যন্ত পুন্যের।
শারীরিক উপকারিতাঃ
বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল এটাই যে রক্ত নিয়মিত রক্ত দান স্বাস্থের জন্যে শুধু উপকারিই নয় বরং নিয়মিত রক্ত দিলে একজন মানুষ মুক্ত থাকতে পারেন বেশ কয়েকটি মারাত্মক রোগের ঝুঁকি থেকে।
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমেঃ
মিলার-কিস্টোন ব্লাড সেন্টারের এক গবেষণায় দেখা যায় নিয়মিত রক্ত দিলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। বিশেষ করে ফুসফুস, লিভার, কোলন, পাকস্থলী ও গলার ক্যান্সারের ঝুঁকি নিয়মিত রক্ত দাতাদের ক্ষেত্রে অন্যান্য দের চেয়ে অনেক কম থাকে।
হৃদরোগ এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমেঃ
নিয়মিত রক্তদানে হৃদযন্ত্রের সামগ্রিক উন্নতি হয়। রক্তে যদি লৌহের পরিমাণ বেশি থাকে তাহলে তাহলে কোলেস্টেরলের অক্সিডেশনের পরিমাণ বেড়ে যায়, ধমনী ক্ষতিগ্রস্থ হয়, ফলাফল হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত রক্ত দিলে দেহে লৌহের পরিমাণ কমে যায় যা, হৃদ রোগের ঝুঁকিকেও কমিয়ে দেয় কার্যকর ভাবে।
যারা নিয়মিত রক্তদেন তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে ৮৮ ভাগ কমে যায় এবং স্ট্রোক সহ অন্যান্য হৃদ রোগের ঝুঁকি কমে যায় ৩৩ ভাগ।
অতিরিক্ত ক্যালরি ক্ষয়ঃ
নিয়মিত রক্তদানে শারীরিক ফিটনেস বাড়ে। ৪৫০ মিলিলিটার রক্ত দান করলে রক্ত দাতার দেহ থেকে ৬৫০ ক্যালরি পুড়ে। তাতে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে এবং ডায়বেটিসের ঝুঁকি কমে যায়।
এছাড়াও নিয়মিত রক্ত দান করলে কোন দুরারোগ্য ব্যাধি শরীরে দানা বাঁধতে পারে না তাই উচ্চরক্তচাপ সহ যে কোন কঠিন রোগ থেকে থাকা যায় নিরাপদ।
প্রাণবন্ততা এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিঃ
রক্ত দান করার সাথে সাথে আমাদের শরীরের ব্যোন ম্যারো নতুন কনিকা তৈরির জন্য উদ্দীপ্ত হয়। রক্ত দান করার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই দেহে রক্তের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে যায়। আর লোহিত কনিকার ঘাটতি পূরণ হয়ে যায় ৪ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যেই। আর এই প্রক্রিয়া আমাদের শরীরের সার্বিক সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা কেই বাড়িয়ে দেয়।
নিজের সুস্থতা পরীক্ষাঃ
রক্ত দান করার মাধ্যমে একজন রক্ত দাতা তার সার্বিক সুস্থটাকে যাচাই করে নিতে পারেন । হেপাটাইটিস বি, সি, সিফিলিস, ম্যালেরিয়া এবং এইডস এই পাঁচটি রোগের স্ক্রিনিং রিপোর্ট পাওয়া যাবে বিনামুল্যে যা করতে যে কোন সাধারণ মানের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কমপক্ষে কয়েক হাজার টাকা খরচ হবে। এভাবে বছরে তিনবার রক্তদান আপনার সার্বিক সুস্থতার নিশ্চয়তা প্রদান করে।
রক্ত শারীরিক উপকার ছাড়াও আছে মানসিক উপকার ও অত্যন্ত পুন্যের কাজ
চারজন রোগীর জীবন দানঃ
রক্তের অপরিহার্য চারটি উপাদান হচ্ছে লোহিত কনিকা, শ্বেতকনিকা ,অণুচক্রিকা ও প্ল্যাটিলেট। একজন রক্তদাতার দেহ থেকে রক্ত সংগ্রহের পর এই চারটি উপাদান পৃথক করে চারজন রোগীকে প্রদানের মাধ্যমে চারজন রোগীর প্রান রক্ষা করা হয়।
অত্যন্ত পুন্যের কাজঃ
রক্ত দান ধর্মীয় দিক থেকে অত্যন্ত পুন্য বা সওয়াবের । পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে “ যে ব্যাক্তি একজন মানুষের জীবন রক্ষা করল সে যেন সমগ্র মানব জাতির জীবন রক্ষা করল” ( সূরা মায়েদাঃ ৩২)।
মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন একজন খারাপ মহিলাকে শুধুমাত্র পিপাসারত মৃত্যু পথযাত্রী কুকুরকে পানি পান করানোর মাধ্যমে প্রান রক্ষা করার জন্য ক্ষমা ও জান্নাত দান করতে পারে তবে, রক্তদানের মাধ্যমে চারজন মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য আপনাকে আমাকে আরো বড় পুরস্কার অবশ্যই দিতে পারেন
কার্টেসি গুগল

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:৫৩
৯টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে-----

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৪



জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় ..।

দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে
যেদিন মানুষ নিজের কাছে
মিথ্যে বলা বন্ধ করবে
অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে
সত্যের পথে দৃঢ় পায়ে চলবে।

যেদিন বিবেক জাগবে মনে
লোভ হারাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধু মাসে বিয়া

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৫৮


সকাল থেকেই মেঘলা আকাশ অথচ রাতের বেলা দেখেছিলাম অনেক তারার মেলা আকাশে। একটুখানি অরোরার আলো ও ঝিলিক দিয়েছিল। রাত ভোরের দিকে অনেকটা সময় আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলাম। জরুরী কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার কি ইউনূস সাহেবকে ভয় পাচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৩


ব্যাপারটা এখন আর কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না। বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বর্তমান সরকার, সবাই যেন একজন কমন করফাঁকিদাতা খুঁজে পেয়েছে। সেই করফাঁকিদাতার নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×