
ফেসবুক খুললেই চেনা-জানা আপন লোকদের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। অথচ সেটাই এখন বন্ধ। এ আপদকালিন সময়ে অতীতের কত কথা মনে পড়ছে, যেমন- নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ; উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে; গরু মেরে জুতো দান ইত্যাদি। বেলোয়াড়ি টোপ নামে একটা গল্প পড়ে ছিলাম। কে লিখেচে মনে নাই। কিপারের বেওয়ারিশ ছেলেকে টোপ বানিয়ে রাজা বাহাদুর একটা বাঘ শিকার করেছেন, যার চামড়ার এক জোড়া জুতো গল্পের নায়ক উপহার পেয়েছিলেন।বড়ই চমৎকার ছিলো সে উপহার।কালে কালে এমন কত গল্প রচিত হয়। মানুষ মরে গিয়ে গল্পগুলো লোক মুখে থেকে যায়।
স্বপ্নে দেখে ছিলাম বঙ্গবন্ধুকে জান্নাতুল ফেরদাউচের সুউচ্চ প্রাসাদে। তিনি আমাকে বুকে জড়িয়ে আদর করে দিলেন। আর সিসটারকে দেখলাম পাশের একটা টিনসেট ঘরে চিন্তিত অবস্থায়। জেগে বুঝেছি তাঁকে কেউ মারতে পারবে না। সেজন্য বাবার মত শহীদ হয়ে তিনি জান্নাতুল ফেরদাউসে যেতে পারবেন না। তবে মডেল মসজিদের কারণে তিনি হয়ত জান্নাতে যাবেন। তাঁর বিরোধীরা হয়ত বলবেন, আপনার স্বপ্ন সত্য হবে না। এটা ঠিক স্বপ্ন সব সময় সত্য হয় না। তবে আমার অনেকগুলো স্বপ্নই সত্য হয়েছে।
সিসটারকে বলব, আপনি আল্লাহর উপর ভরসা রেখে ফেসবুক খুলে দিন। যারা শহীদ হয়েছে তাদের ক্ষতি হয়নি, মুমিন জনগণকে এটা বুঝতে হবে। মরতে যখন হবেই তখন শহীদের মরণ হলে মমিনের আফসুস হওয়ার কথা নয়। যারা মুমিন নয় তাদেরকে আমি আর কি কইতাম। তারা আমাকে কিছু না কইলেই বেঁচে যাই।
ফাদারের শোকে কাতর সিসটার আমৃত্যু ক্ষমতায় থাকতে চান। বিম্পি-জামাত সেটা চায় না। তারা তাঁকে টেনে হিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামাতে চায়। এটা কি কোন কথার মধ্যে পড়ে? মানুষ মাত্রই ভুল আছে এবং মানুষ মরণশীল। মরণশীল মানুষের জন্য ভুল করা মানুষকে কেন ক্ষমতা থেকে নামাতে হবে? ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখলেই তো লেঠা চুকে যায়। পরের কারণে মরণেও সুখ, সুখ সুখ করে কেঁদো না আর। পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি এজীবন-মন সকলি দাও! তার মতসুখ কোথাও কি আছে আপনার কথা ভুলিয়া যাও। এ আপনার কথা ভুলে যাওয়ার মাঝেই মহাশান্তি। এ বোধ যার আছে সে অবশ্যই সিসটারকে সম্মান করবে। আর যারা পুস্তকের পড়া ভুলে গেছে তারা বল বীর, বল চির উন্নত মমশীর বলে গন্ডোগোল করবে। আর যারা সেই শীরে হেলমেট পরবে হেলমেটের ভারে তাদের শীর নত হবে। তখনই ঘটবে বিপত্তি। আর ঘটেছে সেটাই। আফসুস!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুলাই, ২০২৪ ভোর ৫:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



