somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৮)

০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সূরাঃ ৮ আনফাল, ১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। লোকে তোমাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে; বল, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের।অতএব আল্লাহকে ভয় কর। নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন কর এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য কর, যদি তোমরা মুমিন হও।

সূরাঃ ৮ আনফাল, ৪৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৬। তোমরা আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য করবে ও নিজেদের মধ্যে বিবাদ করবে না।করলে তোমরা সাহস হারাবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে।তোমরা ধৈর্য ধারণ করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।

সূরাঃ ৮ আনফাল, ৪৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৫। হে মুমিনগণ! তোমরা যখন কোন দলের সম্মুখিন হবে তখন অবিচলিত থাকবে। আর অধিক আল্লাহর যিকির করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।

সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬। সত্য স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হওয়ার পরও তারা তোমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়।মনে হচ্ছিল তারা যেন মৃত্যুর দিকে চালিত হচ্ছে আর তারা যেন উহা প্রত্যক্ষ করছে।

সূরাঃ ৮ আনফাল, ৪৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৯। যখন মোনাফেক ও যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা বলে,‘এদের দীন এদেরকে বিভ্রান্ত করেছে’।(তখন এর জবাবে বলা যায়)কেহ আল্লাহর উপর নির্ভর করলে আল্লাহ তো (তাদেরকে সাহায্য প্রদানে)পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।

সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬0 নং আয়াতের অনুবাদ-
৬০। তোমরা তাদের মোকাবেলার জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও অশ্ব-বাহিনী প্রস্তত রাখবে। এর দ্বারা তোমরা সন্ত্রস্ত রাখবে আল্লাহর শত্রুকে, তোমাদের শত্রুকে, এছাড়া অন্যদেরকে যাদের সম্পর্কে তোমরা জাননা, আল্লাহ জানেন।আল্লাহর পথে তোমরা যা ব্যয় করবে এর পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।

সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজন উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে একশত জন থাকলে এক হাজার কাফিরের উপর জয়ী হবে।কারণ তারা বোধশক্তিহীন সম্প্রদায়।
৬৬। আল্লাহ এখন তোমাদের ভার লাঘব করলেন।তিনিতো অবগত আছেন যে তোমাদের মধ্যে দূর্বলতা আছে।সুতরাং তোমাদের মধ্যে একশত জন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজন উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে এক হাজার থাকলে আল্লাহর অনুমতিক্রমে তারা দুই হাজারের উপর বিজয়ী হবে।আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন।

সূরাঃ ৮ আনফাল, ৩৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩৯। আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকবে যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং আল্লাহর দীন সর্বত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।অতঃপর যদি তারা বিরত হয় তবে তারা যা করে আল্লাহতো এর দর্শক।
৪০। যদি তারা মুখ ফিরায় তবে জেনে রাখ যে আল্লাহই তোমাদের অভিভাবক। কত উত্তম অবিভাবক আর কত উত্তম সাহায্যকারী তিনি।

সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬১ ও ৬৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬১। তারা যদি সন্ধির দিকে ঝুঁকে পড়ে তবে তুমিও সন্ধির দিকে ঝুঁকে পড়বে।আর আল্লাহর উপর ভরসা করবে। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
৬৪। হে নবি! তোমার জন্য ও তোমার অনুসারী মুমিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।

সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান পরকালের কল্যাণ। আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
৬৮। আল্লাহর পূর্ব বিধান না থাকলে তোমরা যা গ্রহণ করেছ সেজন্য তোমরা মহাশাস্তিতে আক্রান্ত হতে।
৬৯। যুদ্ধে যা লাভ করেছ তা’ বৈধ ও উত্তম বলে ভোগ কর। আর আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।

* আল্লাহ নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন করতে আদেশ করেছেন। তারজন্য নিজেদের মতভেদ নিরসন করতে হবে। কারণ মতভেদ বিবাদের কারণ। আর বিবাদ সাহস হা্রানো ও শক্তি বিলুপ্ত হওয়ার কারণ।যাতে মুসলিম অমুসলিমের তাবেদার হয়ে পড়েছে। আর অমুসলিম মুসলিমকে অমুসলিম না বানিয়ে শান্তি পায় না।তখন অমুসলিম প্রভুর সন্তুষ্ঠির জন্য ঈমান হারা হতে দেখা যায়। অমুসলিম প্রভুর তাবেদারকে মোনাফেক হিসাবে বিদ্যমাণ থাকতে দেখা যায়। আর মুমিন ও মোনাফেকের বিভেদ সুনিশ্চিত বিষয়।মতভেদ নিরসন ও বিভেদ রোধে অভিন্ন ফিকাহ লাগে। সেজন্য আখারিনের শুরায় ইমাম আবু হানিফার (রা.) নেতৃত্বে অভিন্ন ফিকাহ সংকলিত হয়। ইব্রাহীম (আ.) বংশিয় আব্বাসীয় আহলে বাইত আমির খলিফা হারুনুর রশিদ আখারিনের শুরার অভিন্ন ফিকাহ পরিশোধন করে হানাফী মাযহাব নামে অনুমোদন করলে দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম এর অনুসারী হয়। যা এখনো অব্যাহত আছে। এরা আল্লাহর অধিক যিকির করে বিধায় সূরাঃ ৮ আনফাল, ৪৫ নং আয়াত অনুযায়ী এরা সাফল্য লাভ করবে। সাফল্য হলো নাজাত। সংগত কারণে মুসলিমদের একমাত্র নাজাত প্রাপ্ত দল হানাফী। তাদের সাথে যারা বিবাদে লিপ্ত তাদের জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত। জাহান্নামী মোনাফেক মুমিন হানাফীদেরকে বিভ্রান্ত বললেও পরাক্রান্ত আল্লাহর সাহায্য তারাই পায়। তারা একাধারে প্রায় এগারশ বছর মুসলিম বিশ্বের শাসক ছিল। এখনো মুনলিমদের অধিকাংশ অঞ্চল ও দেশ হানাফীদের। নিজের শত্রুকে সন্ত্রস্ত রাখার পরমাণু অস্ত্র হানাফী পাকিস্তানের আছে। অমুসলিমদের ১০% এর বেশী শুধুমাত্র তারাই আছে। তাদের এক তৃতীয়াংশ হতে হানাফী তাবলীগ জামায়াত সারা বিশ্বে দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মুসলিম বিরোধী ফিতনা দূরীভূত করতে হানাফীরা অবিরাম যুদ্ধ করে। কিছুকাল পূর্বে আফগান হানাফী আমেরিকা, রাশিয়া, বৃটিশ ও নেটোর সাথে জয়ী হয়েছে এবং পাক হানাফী জয়ী হয়েছে ভারতের সাথে। অমুসলিমদের সাথে সন্ধির ক্ষেত্রেও হানাফীরা অন্যদের থেকে এগিয়ে।হিন্দুস্থানে মুসলিম গণহত্যার গযওয়ায়ে হিন্দে তাদের জয়ী হওয়ার কথা।সংগত কারণে তাদের পরকালিন কল্যাণও অপেক্ষমাণ আছে। তাদের বিরোধীরা ইহকালে অমুসলিমের তাবেদার এবং পরকালে তাদের জন্য আছে জাহান্নাম। সৃষ্টির মধ্যে মহানবির (সা.) স্থান সবার উপরে। তাঁর কোন কোন কাজে আল্লাহ আপত্তি তোলায় আল্লাহর কাজের পরিবর্তে রাসূলের (সা.) কাজ বাতিল হয়। হানাফী এ বিধি পালন করায় অজ্ঞলোকেরা তাদের অহেতুক বিরোধীতা করে নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:২৮
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং: বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫


মার্চ ২০২৬-এর ক্যালেন্ডার বলছে, বাংলাদেশের কূটনীতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে । একই সময়ে বাংলাদেশের তিনজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব আমেরিকার মাটিতে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিউ ইয়র্কে ব্যস্ত নিজের ক্যাম্পেইনে। সেনাপ্রধান জেনারেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ থেকে ২০০৬ / ২০২৬শে এসে আবারও দেশ ফিরে গেলো খাম্বার খপ্পরে ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৪

তারেক জিয়া “ ২০০১ থেকে

২০০৬ পর্যন্ত যা করে গিয়েছিলেন। তিনি ঠিক সেখান থেকেই ২০২৬ শুরু করলেন। অনেকেই তার অনেক ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা বলছেন। ছোট ছোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে AI, গণমাধ্যম, এবং জনস্বার্থের প্রশ্ন

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৩২

বাংলাদেশে AI নিয়ে আলোচনা এখন আর শুধু “নতুন প্রযুক্তি” নিয়ে উত্তেজনা বা ভয় নয়। এখন বিষয়টা অনেক বড়। AI ধীরে ধীরে গণমাধ্যম, সরকারি কাজ, জনবিশ্বাস, ভাষা, এবং নীতিনির্ধারণের অংশ হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাল্যবিবাহে আমারও আপত্তি নেই, তবে…(একটু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০



১. প্রথমেই সেসব ফেসবুক যোদ্ধাদের কাছে প্রশ্ন, যারা লুবাবা‘র বাল্যবিবাহ নিয়ে খুব উৎসাহ দিচ্ছেন, তেনারা নিজেদের ১৪/১৫ বছরের কন্যা সন্তানকে বিয়ে দিবেন কিনা। বিয়ে মানে কিন্তু শুধু জীবনসঙ্গীর সাথে এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন ওরফে সংবিধান সালাহউদ্দিন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০


ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন যিনি দীর্ঘসময় ভারতের তত্ত্বাবধানে শিলংয়ে সংবিধানের ওপর পিএইচডি করেছেন ফলে উনি এখন সংবিধান সালাহউদ্দিন যার সুফল এখন আমরা পেতে চলেছি। ইতোমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×