somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আল্লাহর সাথে আমার দিদার কেমন ছিল?

২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি বিশ্বাসী মানুষ। আমার আল্লাহর দিদারে বিশ্বাস আছে। আল্লাহর সাথে আমার দিদার হয়েছে চার বার। প্রথমবার আমি স্বপ্নে দেখলাম হাসরের মাঠ। পূর্বে জাহান্নামের গভীর খাদ। খাদের উত্তর পাড়ে ট্যালির চালের বস্তি ঘরের বিশাল বস্তি এলাকা।লোকে লোকারণ্য মাঠের পশ্চিম দিকে একটা এলাকা খালি। ঐ এলাকার সবদিকে অদৃশ্য প্রতিবন্ধক। প্রতিবন্ধকের উত্তর পাশেই আমি দাঁড়িয়ে। আমি বুঝলাম খালিস্থানেই আল্লাহর আরশ এবং ফেরেশতা সব আছেন। সেই স্থানে এক দল লোককে ধরে আনা হলো। যারা ধ ের আনলো তাদেরকে দেখা যাচ্ছে না। যাদেরকে ধরে আনা হলো তারা খুব ভীত-বিহ্বল ছিল। আল্লাহ তাদেরকে বললেন, তোমাদের জন্য জাহান্নাম বরাদ্ধ। তবে জাহান্নাম পাড়ের বস্তি এলাকায় তোমরা থাকলে থাকতে পার।তারপর লোকগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হলো। তারা হুড়-মুড় করে বস্তি এলাকার ঘর সমূহে প্রবেশ করলো। তারপর বস্তি এলাকা জাহান্নামে নেমে গেল। আমি তখন বললাম, হে আল্লাহ আপনি এটা কি করলেন? তখন আল্লাহ বললেন, পৃথিবীতে এরা আমার সাথে তামাসা করতো, আমিও তাদের সাথে তামাসা করলাম। তারপর আমি জেগেগেলাম। আমি আরশ, ফেরেশতা ও আল্লাহকে দেখিনি, তবে আল্লাহর কথা শুনেছি।

আল্লাহর সাথে আমার দিদারের দ্বিতীয় বারে আমি স্বপ্নে দেখলাম, আল্লাহ বলছেন, আমি নূর এবং আমার পোশাক নূর, সেজন্য আমি নূরুন আলা নূর (আলোর উপর আলো)।কিন্তু আমার নবি নূর হলেও তার পোশাক নূর নয়, সেজন্য তাকে আনতা নূরুন ফাওকা নূরে (আপনি আলো আলোর উপর) বলা যাবে না। এখানেও আমি আল্লাহকে না দেখে তাঁর কথা শুনেছি। জেগে বুঝলাম যারা মীলাদ পড়ে তাদের কিছু কথায় আল্লাহ বিরক্ত।

আল্লাহর সাথে আমার দিদারের তৃতীয় বারে আমি দেখলাম, আল্লাহ বলছেন, আমি কিভাবে হয়েছি আমি সেটা জানি না। জেগে আমি বিষয়টা ভাবার চেষ্টা করলাম। আসলে কেউ জানে না সে কিভাবে হয়েছে। যারা কারো জন্ম দেখে তারা বলে কেউ কিভাবে হয়েছে।আল্লাহর পূর্বে কেউ না থাকায় তাঁর হওয়া দেখে তিনি কিভাবে হয়েছেন এটা বলার মত কেউ ছিল না। প্রথমত আল্লাহ দেখেছেন তিনি ছাড়া আর কিছু নাই। তারপর তিনি দেখেছেন তিনি ছাড়া আর কিছু হচ্ছে না। তারপর সব কিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন বিধায় তিনি জানেন অন্যরা কিভাবে হয়েছে।

আল্লাহর সাথে আমার দিদারের চতুর্থ বারে আমি দেখলাম, আরশে আজিমে বিশাল বড় শূন্যস্থান পর্দায় আমার আল আসমাউল হুছনা সনেট কাব্যের কবিতা সমূহ প্রদর্শিত হচ্ছে। আমি মাউস নাড়িয়ে কবিতা স্ক্রল করতে চাইলাম। তখন আমি দেখলাম আমার স্ক্রলে কাজ হচ্ছে না। তথাপি কবিতা স্ক্রল হচ্ছে। তখন আমি বুঝলাম আল্লাহ নিজেই স্ক্রল করে আমার কবিতা পড়ছেন।এবার আমি আল্লাহকে দেখিনি এবং তাঁর কথাও শুনিনি তবে তাঁর কাজ অনুভব করেছি। যাদের আল্লাহ বিশ্বাস নাই তারা এটাকে অন্যভাবে ব্যখ্যা করে। সেটা তাদের বিষয়। আমার আল্লাহতে বিশ্বাস আছে। সুতরাং তাদের অবিশ্বাসের সাথে আমার বিশ্বাস মিলে না।

ইসলাম বিষয়ে আমি চার হাজারের বেশী পোষ্ট দিয়েছি। হয়ত সেজন্য আল্লাহ আমাকে দিদার প্রদান করেন। কারণ ইসলাম বিষয়ক পোষ্ট দিতে গিয়ে আমি প্রচুর খাটা-খাটনি করি। আমার স্ত্রী ও কন্যগণ রাসূলকে (না.) স্বপ্নে দেখেছে। রাসূলকে (সা.) আমিও চারবার স্বপ্নে দেখেছি। আমার ছোট কন্যাও একবার আল্লাহর দিদার পেয়েছে। আমার লেখালেখিতে তাদের অনেক ডিস্টার্ব হলেও তারা আমার বিরোধীতা করে না। আল্লাহ আমাকে অনেক রহমত করেছেন সেটার ভাগ তারাও পেয়েছে। তারা আশায় আছে আল্লাহ আমাকে আরো রহমত করবেন এবং সেটার ভাগও তারা পাবে। এখন আমি দৈনিক বিশ-ত্রিশটা বড় গ্রুপে পোষ্ট দিয়ে থাকি। এক গ্রুপে আমার পয়েন্ট ছয় লক্ষের বেশী এবং এক গ্রুপে আমার পয়েন্ট চার লাখের বেশী্ সেই গ্রুপে আমি আবার মডারেটর। আমার লেখা কেউ পড়ুক বা না পড়ুক সেটা বিষয় নয়, আমি ইসলাম বিষয়ে কি রকম ভেবেছি সেটা অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত।আল্লাহ তাদেরকে বলবেন তারা আমার মতকরে ইসলাম বুঝার চেষ্টা করেনি বলেই তারা ইসলাম বুঝেনি। কেউ ইসলাম না বুঝলে সেটা আল্লাহর সমস্যা না, সেটা তার সমস্যা। যারা ইসলাম বুঝলো এবং মানলো আল্লাহ তাদেরকে জান্নাত দিয়ে দিবেন এবং যারা ইসলাম বুঝলো না এবং মানলো না তাদের জন্য জাহান্নাম বরাদ্ধ। তাতেই বুঝা যায় কেউ ইসলাম না বুঝা ও না মানায় মূলত আল্লাহর কোন সমস্যা না।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:১২
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

উপরোধের আগে

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



একটা ক্ষণ,
ক্ষীণ, তবুও অবয়,
আমাকে হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখবে সবুজ অটবীর আলেখ্যে,
তুমি এলে,
সেই পুরোনো মায়া হয়ে।

কতকাল পরে সম্মুক্ষে দু জোড়া চোখ?
সে প্রশ্নের প্লাবনে আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি আধুনিক যুগের জন্য প্রস্তুত।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২৩

২০০৯ সাল থেকে সম্ভবত সকল সরকারি কর্মচারীদের ব্যাংকে বেতন হয়। এবং এই বেতন দেওয়ার পক্রিয়া ১০০% কম্পিউটার বেইস। সরকারি কর্মচারীদের বেতন সিজিএ অফিস হ্যান্ডেল করে। আর সম্ভবত আইবিবিএএস+ সার্ভার বেতন... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫৫ বছরে কেন আরেকটা রিফাইনারি হলো না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৪


রাশিয়া থেকে তেল আনতে হলে আমেরিকার অনুমতি লাগবে। এই একটা বাক্য পড়লে অনেকে ভাববেন এটা কোনো রাজনৈতিক ভাষণের অংশ, কিংবা অতিরঞ্জন। কিন্তু এটা ২০২৬ সালের বাস্তবতা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ লেগেছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আছছে পিনু ভাই

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০২


ঘরের ছোল নাকি ঘরত আছছে
পুটি, বওল, টেংরা মাছ কুটিরে?
পাতিলত ভরে পুরপুরি ছালুনের
বাসনা যেনো আকাশত উরে-
কি সখ ছোলপল নিয়ে হামি এনা
যমুনাত যামু গাওধুমি, সাতরামু;
কে বারে শুন শুন হামাগিরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিকতা, দ্বিচারিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কি আছে?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২০



নৈতিকতা, দ্বিচারিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কি আছে?

এখানে ছবি আছে ক্লি করে দেখতে হবে, যেহেতু আমাকে ছবি আপলোডে ব্লক করেছে এডমিন।

দেশের রাজনীতিতে একটি পুরোনো প্রবণতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠছে- জনগণের বাস্তব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×