somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রেম ছেড়ে দেওয়া যায়, সংসার নয়

৩১ শে জুলাই, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রেম ছেড়ে দেওয়া যায়, সংসার নয়—বিশেষ করে যখন ভুল মানুষের সঙ্গে জীবন জড়িয়ে যায়।

ভুল মানুষকে ভালোবেসে ফিরে আসা যায়, কিন্তু যদি তার সঙ্গে সংসার বাঁধা পড়ে—তাহলে সেই বাঁধন ভাঙা এতটা সহজ হয় না। সমাজ, সন্তানের ভবিষ্যৎ, মা-বাবার সম্মান—এইসব ‘দায়’ এতটাই ভারী হয়ে ওঠে যে অনেকেই ভাঙা বিশ্বাস, নিঃস্ব মন নিয়েই সারাজীবন কাটিয়ে দেন। অথচ সেই ভুল মানুষটা বুঝতেই চায় না, সে কতটা বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে।

শুধু খাবার আর শরীরের ছায়ায় মানুষ প্রিয় হয়ে ওঠে না।

একসাথে থেকেও যখন মনের টান থাকে না, তখন প্রতিটা মুহূর্তেই বোঝা বাড়ে। প্রিয় হওয়ার জন্য প্রয়োজন বোঝার অনুভূতি লাগে—না হলে সে শুধু ‘সহবাসে’ থাকা এক অপরিচিত মুখ। যার পাশে হাসলেও মন খালি থাকে, যে স্বার্থের বাইরে কিছুই দেখে না—তার সঙ্গে বেঁচে থাকাটা নিছক সহ্য করার নামান্তর।

একটা সম্পর্ক তখনই বিষ হয়ে ওঠে, যখন সেখানে সম্মান হারিয়ে যায়।

দুঃখে কেউ পাশে থাকে না, খারাপ সময়ে কেউ হাত ধরার মানুষ হয়ে ওঠে না—তখন সংসারের ভিতরেও মানুষ একা হয়ে যায়। কথাগুলো আর কাউকে বলা যায় না, চোখের জল আর কেউ মুছে দেয় না, তখন মানুষ নিজের মধ্যেই একটা দেয়াল তুলে ফেলে। ভালোবাসার নামে এই নিঃসঙ্গতাই সবচেয়ে নির্মম।

যে সম্পর্ক বাঁচায় না, বরং ধীরে ধীরে মেরে ফেলে—সেই সম্পর্ক ছেড়ে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সমাজ যাই বলুক না কেন, নিজেকে হারিয়ে ফেললে, নিজের আত্মবিশ্বাস মরে গেলে, জীবনের কোনো মানে থাকে না। তখন মানুষ দাঁড়ায় দুটো পথের সামনে—একটা হলো সমস্ত স্বপ্ন শেষ করে দেওয়া, আরেকটা—নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলা।

যারা নিজেকে ভেঙে আবার গড়তে পারে, তারাই আসল সাহসী।

ভুল মানুষের ভালোবাসা কেবল প্রলোভন—যেটা শেষে ক্ষত আর দুঃখ ছাড়া কিছু দেয় না। তাই প্রিয়জন আর প্রয়োজনের তফাতটা বুঝতে শিখতে হবে। কে পাশে থাকবে, কে মাঝপথে ছেড়ে দেবে—এই যাচাইটা সময় থাকতেই করতে হয়।

কারণ সুখের দিনে সবাই থাকে, কিন্তু দুঃখের দিনে যে হাত ছাড়ে না, সেও তো একরকম দেবতা।

জীবন বারবার ভাঙে, আবার গড়েও। চোখের জল দিয়ে মাটিতে বীজ ফেললে তবেই নতুন সুখের বৃক্ষ গজায়।
আশার ছায়ায় বাঁচা যায়, যদি মনের ছায়াটাও পাশে থাকে।

শেষ কথা একটাই—সুখ শুধু শরীরের নয়, মনের সংযোগেই জীবন জ্বলে ওঠে।
আর সেই জ্বলন্ত জীবনের মাঝেই এক টুকরো শান্তি খুঁজে নিতে হয়—নিজের জন্য।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুবাই কি দুর্নীতিবাজদের গন্তব্য হয়ে উঠেছে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩০

কয়েক বছর আগে, কানাডার বেগম পাড়ার কথা ব্যারিস্টার সুমন ভাই বেশ ফলাও করে প্রকাশ করেছিলেন। বাংলাদেশী দূর্নীতিবাজদের আখড়া হয়ে উঠেছিলো কানাডার ঐ অঞ্চল। আজ পুসিলশের সাবেক প্রধান বেনজির দুবাইয়ে ধরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্ব দ্বীন হাসপাতাল ও বাংলাদেশ ফেসবুক বিচারক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৫৪



সম্প্রতি আদ্ব দ্বীন হাসপাতালের ঘটনা কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ফেসবুক বিচারকগণ রায় দিয়েছেন “আদ্ব দ্বীন হাসপাতাল লাইসেন্স বাতিল করা যাবে না”।




...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×