somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বর্তমানে স্ত্রীর আদর থেকে বঞ্চিত হাজারো পুরুষ শুধুমাত্র মোবাইলের কারণে!

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৩:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্তমানে স্ত্রীর আদর থেকে বঞ্চিত
হাজারো পুরুষ শুধুমাত্র মোবাইলের কারণে!
পাশের বালিশে শুয়ে থাকা মানুষটার উষ্ণতার চেয়ে হাতের মুঠোয় থাকা শীতল যন্ত্রটা যখন বেশি আপন হয়ে ওঠে, তখন বুঝতে হবে সম্পর্কটা আর দুজনের নেই। হাজারো পুরুষ আজ স্ত্রীর আদর থেকে বঞ্চিত, কারণ তাদের এবং তাদের স্ত্রীর মাঝখানে এখন এক অদৃশ্য দেয়াল তুলে দিয়েছে ছোট্ট একটি যন্ত্র—স্মার্টফোন। এই দেয়াল কাঁচের মতো স্বচ্ছ, কিন্তু ইস্পাতের মতো কঠিন।
একটু ভাবুন তো সেই দৃশ্যটা। স্বামী সারাদিনের খাটুনির পর বাড়ি ফিরেছে একটু শান্তি আর ভালোবাসার খোঁজে। সে চায় তার প্রিয়তমা স্ত্রীর হাসিমুখ দেখতে, দিনের গল্পগুলো শুনতে। কিন্তু ঘরে ঢুকেই সে দেখল, স্ত্রী সোফায় বসে আছে ঠিকই, কিন্তু তার পৃথিবী জুড়ে তখন ফেসবুকের নিউজফিড। চোখ স্ক্রিনে আটকে আছে, আঙুল চলছে দ্রুতগতিতে। কোন সেলিব্রিটির ঘরে কী হলো, কোন নায়িকার নতুন পোশাক বা কার সাথে কার বিচ্ছেদ হলো—এইসব অপ্রয়োজনীয় তথ্য তার কাছে স্বামীর উপস্থিতির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্বামীর ক্লান্ত স্বরের "কেমন আছো?" প্রশ্নের উত্তরে সে হয়তো না তাকিয়েই একটা দায়সারা জবাব দেয়, "হুম, ভালো।" কিন্তু তার মনোযোগ কেড়ে নেয় অন্যের সাজানো সংসারের ছবি। অন্যের দামি উপহার, সুন্দর ঘোরার জায়গার ছবি দেখে নিজের অজান্তেই সে এক অদৃশ্য তুলনা শুরু করে দেয়। তার মনে হতে থাকে, "আমার জীবনে তো এসব নেই!" এই ভার্চুয়াল জগতের রঙিন মিথ্যার সাথে নিজের সাদামাটা বাস্তবের তুলনা করতে গিয়ে তার ভেতর জন্মায় এক চাপা অসন্তোষ আর হতাশা। এই হতাশার আগুনই পরে ঝগড়ার রূপ নেয়। সামান্য কথাতেই সে স্বামীকে বলে বসে, "তুমি আমার জন্য কী করেছো?" এভাবেই অন্যের সুখী সংসারের অভিনয় দেখতে দেখতে নিজের সাজানো সংসারকে সে অশান্তির আগুনে জ্বালিয়ে দেয়।
ব্যাপারটা কিন্তু একতরফা নয়। মুদ্রার অপর পিঠও আছে। যে স্বামী স্ত্রীর মনোযোগ না পেয়ে হতাশ, সে নিজেও কিন্তু একই অপরাধে অপরাধী। ঘরে ফিরে স্ত্রীর সাথে দুটো কথা বলার পরিবর্তে সেও ডুব দেয় তার মোবাইলের জগতে। তার স্ক্রিনে তখন ভেসে ওঠে বিভিন্ন স্বল্পবসনা নারীর ছবি আর উদ্দীপনা ভিডিও। এই ভার্চুয়াল জগতের সহজলভ্য উত্তেজনা তার মস্তিষ্কে এমনভাবে প্রভাব ফেলে যে, নিজের স্ত্রীর প্রতি তার স্বাভাবিক আকর্ষণটাই নষ্ট হয়ে যায়। উত্তেজনার পারদ ভার্চুয়াল জগতেই খরচ হয়ে যায়, ফলে বাস্তব জীবনে স্ত্রীর কাছে আসতে তার আর কোনো ইচ্ছেই কাজ করে না। স্ত্রী হয়তো নিজেকে সাজিয়ে, স্বামীর জন্য অপেক্ষা করে, কিন্তু স্বামী তখন হট মডেলদের ছবিতে লাইক দিতেই ব্যস্ত।
ফলাফল? একই ছাদের নিচে, একই বিছানায় শুয়ে থেকেও দুটি মানুষ যেন দুটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। তাদের মধ্যে কোনো কথার সেতু নেই, নেই কোনো স্পর্শের উষ্ণতা। ভালোবাসাটা এখন লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারের ডিজিটাল সংখ্যায় পরিণত হয়েছে। যে সময়টা একে অপরের চোখে চোখ রেখে কাটানোর কথা ছিল, সেই সময়টা কেড়ে নিচ্ছে মোবাইলের নীল আলো।
একবার ফোনটা পাশে রেখে আপনার সঙ্গীর দিকে তাকান। তার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখুন, সেখানে হয়তো একরাশ অভিমান আর একাকিত্ব জমে আছে। এই যন্ত্রটা আপনার বিনোদনের সঙ্গী হতে পারে, কিন্তু আপনার জীবনের সঙ্গী নয়। আপনার সঙ্গীর স্পর্শের উষ্ণতা, তার মুখের হাসি—এগুলোর কোনো বিকল্প ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম দিতে পারবে না। এই ডিজিটাল দেয়াল ভেঙে ফেলার সময় এখনো আছে। ফোনটা রাখুন। সঙ্গীর হাতটা ধরুন। দুটো কথা বলুন। দেখবেন, হাজারো নোটিফিকেশনের আওয়াজের চেয়ে প্রিয় মানুষটার গলার স্বর অনেক বেশি মধুর। সম্পর্কটাকে বাঁচান, কারণ একটা নষ্ট হয়ে যাওয়া সম্পর্ক কোনো অ্যাপ দিয়ে রিকভার করা যায় না।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৩:০৯
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মতভেদ নিরসন ছাড়া মুসলিম আল্লাহর সাহায্য পাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৩



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বপ্নের শঙ্খচিল’ কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা….

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬



আজ সকালে ল্যাপটপ খুলেই উপরের চিত্রটা দেখলাম। দেখে মনটা প্রথমে একটু খারাপই হয়ে গেল! প্রায় একুশ বছর ধরে লক্ষাধিক ব্লগারের নানারকমের বৈচিত্রপূর্ণ লেখায় ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ আমাদের সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনু গল্প

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



(এক)
দশম শ্রেণির ছেলে সাদমান সারাদিন ফোনে ডুবে থাকত। বাবা-মা বকাঝকা করলে প্রায়ই অভিমান করে ভাত খেতো না। একদিন রাতে ঘরের দরজা বন্ধ। ভোরে দরজা ভেঙে সবাই স্তব্ধ। খবরের কাগজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প - ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫



আমার সাথে একজন সাবেক সচিবের পরিচয় হয়েছে।
উনি অবসরে গেছেন, ১০ বছর হয়ে গেছে। এখন উনি বেকার। কোনো কাজ নাই। বাসায় বাজার করেন অনেক বাজার ঘুরে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডিপস্টেট তাহলে সসস্র বিপ্লবের গোলা বারুদের সরবরাহকারী! জঙ্গি আসিফ’কে কেউ প্রশ্ন করেনি ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



বাংলাদেশে একটা ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট-এর বিরুদ্ধে যখন জুলাই-আগস্ট মাসে তথাকথিত “মুভমেন্ট” চলতেছিল, তখন এটাকে অনেকে খুব ইনোসেন্টভাবে “পিপলস আপরাইজিং” বানানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রশ্নটা খুবই সিম্পল—এইটা কি আসলেই স্পনটেনিয়াস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×