somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পকণিকা : নিষ্কৃতি

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওদের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক নেই, কিন্তু বোধটা রক্তসম্পর্কের। ব্যাপারটা অন্তর্যামীয়, কিংবা মনোসংক্রামক, এমনকি দুর্বোধ্যও।
ওরা একজোড়া প্রেমিক-প্রেমিকা, যাদের মধ্যে গভীর ভালোবাসা ছিল, ছিল তীব্র কামাকর্ষণ। কিন্তু কী এক কারণে ছেলেটির মনে এক অস্বস্তি দানা বেঁধে ওঠে; ছোঁয়াচে ব্যাধির মতো মেয়েটাও অনুরূপ অনানুভূতপূর্ব যন্ত্রণায় কাতর হতে থাকে।

একদিন মেয়েটি মুখ খুললো। ইতস্তত করে বললো, মনে হয় আমরা পাপ করছি।
গাঢ় চোখে একটা শুভ্র গোলাপের দিকে তাকিয়ে ছিল ছেলেটি। ফুলকে ছুঁয়ে দিতে নেই, বোঁটা ছিঁড়তে নেই, ওটা নষ্ট হয়ে মরে যায়। সে যতবার প্রেমিকার কাছ ঘেঁষে বসেছে, মনে হয়েছে এ তার প্রেমিকা নয়, একটা নির্মল, নিষ্কাম ফুল- আমৃত্যু অনাঘ্রাত থেকে পবিত্র গন্ধ ছড়ানোই যার ব্রত।
ছেলেটি সংক্রমিত; কপালে সুক্ষ্ম ভাঁজ। সে মেয়েটির দিকে তাকায়। তারপর চোখ মাটিতে নামিয়ে এনে বলে- আমিও অনেকদিন ধরে কথাটা বলতে চেয়েছি, কিন্তু মুখ আটকে গেছে।
- আমাদের ব্রেকাপ করা উচিত।
- যতবার তোকে চুমু খেয়েছি, মনে হয়েছে তুই আমার প্রেমিকা নস। আমার বোন।
- এমনটা আমারও হয়। তোর চোখের দিকে তাকালেই মনে হয় তুই আমার আদরের ছোটো ভাই।
- ভাইবোনের মতো ফিলিংস। ভাইবোনে এসব হয় না। চল, আমরা হারিয়ে যাই- যার যার পথে।

তারপর মেয়েটি উদাস চোখে চারদিকে তাকালো। চোখ ফেটে কয়েক ফোঁটা পানি বাষ্প হয়ে উড়ে গেলো।
ছেলেটাও ফ্যাল ফ্যাল করে কাঁদছে। তারপর দুহাতে মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে কানের কাছে মুখ এনে ফিশফিশিয়ে বললো, ভালো থাকিস বোন। আর যেন দেখা না হয়।
এরপর নিজেকে ছাড়িয়ে নিল।
এরপর দুজনে দুদিকের পথে পা বাড়ালো।
কিছুদূর যেয়ে, যেতে যেতে দুজনে ঘাড় ফিরিয়ে পেছনে তাকালো। হাত নাড়িয়ে বিদায় জানালো। ওদের বুকে অতীতের একদঙ্গল দুঃখ আর অনুশোচনা; কিন্তু তার চেয়েও অনেক গভীর স্বস্তি আর প্রশান্তি। সব দ্বিধা ছিঁড়ে-ফেরে ছুঁড়ে ফেলে ওরা আজ নিজেদের নিষ্কৃতি দিয়েছে।

রক্তসম্পর্কে সেক্স হয় না, অবৈধ এবং পাপ; এমনকি রক্তসম্পর্ক না থাকলেও সম্পর্কের বোধটা রক্তের টানের মতো হলে সম্পর্কের দাম দিতে হয়। এটাই মাহাত্ম্য।

এ দুটো ছেলেমেয়ে এদ্দিন প্রেমিক-প্রেমিকা ছিল। প্রেমিক-প্রেমিকা হিসাবে ওদের আজ ব্রেকআপ হলো।

৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫

******

ফুটনোট

ব্লগে আমার 'নাট্যশালা : সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু' গল্পটা পড়ে ইমন ভাই/সোমহেপি বললেন, 'ধ্যাত পুরান।' কারণ গল্পটি ২০০৫ সালে লেখা। কেবল তাঁর উদ্দেশে অনেকদিন ধরে মাথায় ঘুরপাক খাওয়া এই কনসেপ্টটা ইনস্ট্যান্টলি ব্লগেই লিখে ফেললাম। ইমন ভাইয়ের প্রতি ঋণ ও কৃতজ্ঞতা।

ইমন তোফাজ্জল

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১:১৮
২১টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মতামত পোস্ট: বাহাদুর পাকিদের আসল চেহারা (রিপোস্ট)

লিখেছেন অর্ক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



‘খুব ভালো জঙ্গ চলছে। একের পর এক নাপাক হিন্দু সেনা হালাক (মৃত্যু) হচ্ছে। রাজাকার আলবদরদের নিয়ে পাকিস্তানের বীর সেনা যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে। দুয়েক দিনের মধ্যেই হিন্দুস্থান হাঁটু গেড়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×