somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেদনা মধুর হয়ে যায়, তুমি যদি দাও || এ মনের কৃষ্ণ রাধায় কোনোদিনই হয় না ছাড়াছাড়ি || জগজিৎ সিং ও চিত্রা সিং শিল্পীদম্পতির কালোত্তীর্ণ গানগুলো

১৭ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজ শিল্পীদম্পতি চিত্রা সিং ও জগজিৎ সিং-এর জনপ্রিয় ও কালোত্তীর্ণ বাংলা গানগুলো (দুটো হিন্দিসহ) আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। সঙ্গীত ভুবনের কেউ এদের গান বা নাম শোনেন নি, এমন মানুষ পাওয়া খুব ভার। অসাধারণ গান ও গজল উপহার দিয়ে তারা আমাদের মনোরঞ্জন করেছেন, হৃদয়ে দোলা দিয়েছেন। আমার গানের পোস্টে শিল্পীদের জীবনী ও সাফল্য নিয়ে কখনো আলোচনা করি না, ওটা নূর মোহাম্মদ নূরু ভাইয়ের জন্য রেখে দিই। কিন্তু এই শিল্পীদম্পতির জীবনী নিয়ে উইকিপিডিয়া থেকে কিছু তথ্য শেয়ার করার ইচ্ছে দমন করতে পারছি না। তাদের জীবনে কত ট্র্যাজেডি ছিল, তা হয়ত আমরা অনেকেই জানি না, যেমন আমিও এদের জীবনের করুণ ঘটণাগুলো আগে জানতাম না, জানলাম মাত্র ৩-৪দিন আগে তাদের ব্যাপারে সামান্য স্টাডি করতে যেয়ে। উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট থেকে পাওয়া তথ্যের আলোকে সেই কাহিনির কিছু অংশ আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।




জগজিৎ সিং (জন্মগত নাম জগমোহন সিং, জন্ম ০৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪১, মৃত্যু ১০ অক্টোবর, ২০১১) ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভারতীয় গজল গায়ক, সুরস্রষ্টা, সংগীত পরিচালক, সমাজকর্মী ও শিল্পোদ্যোগী। তিনি "গজল-সম্রাট" নামে পরিচিত। তার স্ত্রী চিত্রা সিংও একজন বিশিষ্ট ভারতীয় গজল গায়িকা। ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে জগজিৎ এবং চিত্রা সিং ভারতীয় সংগীত জগতে প্রায় একই সঙ্গে খ্যাতনামা হয়ে ওঠেন। তাদের দুজনকে আধুনিক গজল সংগীতের পথপ্রদর্শক মনে করা হয়। ভারতের ফিল্মি গানের ধারার বাইরে থেকেও তারা ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী। অর্থ (১৯৮২) ও সাথ সাথ ছবিতে ব্যবহৃত তাদের গাওয়া গজলের সংকলন এইচএমভি থেকে প্রকাশিত হয়; এটি ছিল তাদের সর্বাধিক বিক্রিত অ্যালবাম। লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তিনি প্রকাশ করেন সাজদা (১৯৯১) অ্যালবামটি। তিনি পাঞ্জাবি, হিন্দি, উর্দু, বাংলা, গুজরাটি, সিন্ধি ও নেপালি ভাষাতেও গান গেয়েছিলেন। ২০০৩ সালে সংগীত ও সংস্কৃতি জগতে অবদানের জন্য তাকে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ দিয়ে সম্মানিত করা হয়।



গজল ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের একটি জটিল ধারা। সিং গজলের সঙ্গে "গীত" ধারার মিশ্রণ ঘটিয়ে এই ধারাটিকে সরল করে তোলেন। এরই ফলে গজল পুনরায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। প্রেম গীত (১৯৮১), অর্থ ও সাথ সাথ (১৯৮২) চলচ্চিত্রে এবং টিভিসিরিয়াল মির্জা গালিব (১৯৮৮) ও কহকশান (১৯৯১)-এ গজল গেয়ে তিনি জনপ্রিয়তা পান। বাণিজ্যিক দিক থেকেও তিনি ছিলেন একজন সফল গজল শিল্পী। প্রায় পাঁচ-দশকব্যাপী সংগীতজীবনে তিনি ৮০টি অ্যালবাম প্রকাশ করেন। তার নয়ি দিশা (১৯৯৯) ও সমবেদনা (২০০২) ছিল ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিশিষ্ট হিন্দি কবি অটলবিহারী বাজপেয়ীর লেখা গানের সংকলন।



জগজিৎ ও চিত্রা সিং প্রথম ভারতীয় সুরস্রষ্টা যিনি ডিজিটাল মাল্টি-ট্র্যাক রেকর্ডিং পদ্ধতিতে গান রেকর্ড করেন। এই পদ্ধতিতে রেকর্ড করা তাদের প্রথম অ্যালবামটি ছিল বিয়ন্ড টাইম (১৯৮৭)। রবিশঙ্কর ও অন্যান্য সংগীতশিল্পী ও সাহিত্যিকদের সঙ্গে তিনি ভারতীয় শিল্প ও সংস্কৃতির রাজনীতিকরণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন। শাস্ত্রীয় ও লোকশিল্পীদের তিনি নানাভাবে সাহায্য করতেন। মুম্বইয়ের সেন্ট মেরি স্কুলের লাইব্রেরি নির্মাণ, বম্বে হসপিটাল গঠন এবং ক্রাই, সেভ দ্য চিলড্রেন ও আলমা প্রভৃতি সংগঠনের কাজকর্মেও তিনি প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করেন।

বয়সজনিত কারণে জগজিৎ সিং প্রায়ই হৃদরোগের চিকিৎসা নিতেন। এছাড়াও উচ্চ রক্তচাপেরও সমস্যা ছিল তার। মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণজনিত গুরুতর সমস্যায় তাকে ভারতের মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। ১০ অক্টোবর, ২০১১ইং, সোমবার, সকাল ৮ টা ১০ মিনিটে ঐ হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭০ বছর বয়সে মারা যান এই গজল শিল্পী।

চিত্রা সিং সোম বাঙালি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার কোনো আনুষ্ঠানিক বাদ্যযন্ত্র প্রশিক্ষণ ছিল না, কিন্তু তিনি তরুণ বয়স থেকে গান গেয়েছিলেন। তিনি স্কুলে নামমাত্র ছাত্রী ছিলেন এবং তার শিক্ষা সম্পন্ন করার পর কলকাতার একটি সাচিবিক কাজ নেন। (পরের অংশ উইকিপিডিয়া থেকে সরাসরি তুলে দিচ্ছি।) After completing her education, Chitra met and married Debo Prasad Dutta, an executive in a leading advertising agency. The match met with the full approval of Chitra's parents because Debo Prasad was a Bengali like herself, belonged to her own community, and hailed from a similar family. The wedding was held in the mid-1950s, and the couple became the parents of a daughter, Monica, in 1959.

While still married to Debo Prasad, Chitra met the dapper and highly talented Jagjit Singh, at that time a struggling singer. They first met at a recording studio in 1967, by which time the marriage of the Duttas was already under strain for unknown reasons. Chitra found solace in Jagjit, and says she was much taken by his 'caring' personality. In 1968, Chitra finally left her husband, took her 9-year-old daughter with her, and began living in a separate residence. In 1969, she divorced her husband, secured custody of Monica, and married Jagjit Singh.

Chitra and Jagjit became the parents of a son, Vivek. Chitra Singh formed a ghazal singing duo with her husband Jagjit Singh, and the couple achieved great success. Vivek died in a road accident on 27 July 1990, which was a humungous and terrible shock to his parents. Chitra has never sung in public, or recorded any song, since the day her son died.

More suffering was in store for Chitra. Her daughter from her first marriage, Monica, had two unhappy marriages and committed suicide in 2009 aged 50. Monica fell in love with Jehangir Chowdhary, an award-winning cinematographer by profession, and married him in 1988. The couple became the parents of two sons, Armaan and Umair. In 2005, she divorced him and married British national Mark Houghton Roger Atkins, who was working as managing director of a firm based in Vikhroli, Mumbai. In 2007, she filed a case of harassment against her second husband. In 2008, a magistrate issued a non-bailable warrant against Atkins, who had already left the country. In 2009, Monica committed suicide, aged 50. She was survived by her two sons, Armaan (17) and Umair (12).

চিত্রা সিং-এর বর্তমান বয়স ৭৫ বছর।

এবার আপনাদের জন্য তাদের গাওয়া গানগুলো নীচে শেয়ার করলাম। শেয়ারকৃত গানগুলোর প্রায় সবকটারই সুর করেছিলেন জগজিৎ সিং।

ইউটউবে গিয়ে গানগুলো শোনার জন্য লিংকে ক্লিক করুন। ব্লগেই শুনতে চাইলে বক্সে ক্লিক করুন। ভিডিওগুলো আমার বানানো। মুড-ডেপিক্টিং ছবিগুলো ইন্টারনেট ও ফেইসবুক পেইজ/গ্রুপ থেকে সংগৃহীত।

গানের লিংক


বাঁকা চোখে বলো না - চিত্রা সিং




বেদনা মধুর হয়ে যায় তুমি যদি দাও - জগজিৎ সিং




তুমি এসে আমার মনে আগুন জ্বালালে - চিত্রা সিং




নদীতে তুফান এলে - জগজিৎ সিং




আমাকে দেখছো কেমন - চিত্রা সিং




বুঝি নি তো আমি - জগজিৎ সিং




দুটি মন আর নেই দুজনার - চিত্রা সিং


কত বেদনা দিলে - জগজিৎ সিং


কথা ছিল দেখা হবে - চিত্রা সিং



১০
বেশি কিছু আশা করা ভুল - জগজিৎ সিং



১১
কী দিলে আমায় তুমি - চিত্রা সিং



১২
Tum Itna Jo Muskura Rahe Hoby by Jagjit Singh - Movie 'Arth' - Jagjit Singh



১৩
এ মনের কৃষ্ণ রাধায় - চিত্রা সিং



১৪
Tum Itna Jo Muskura Rahe Hoby by Jagjit Singh - Movie 'Arth' - Jagjit Singh - Video-Photomix



১৫
কোথাও যদি হারিয়ে আমি যাই কোনোদিন - চিত্রা সিং

১৬
মনে করো যদি সব ছেড়ে হায় - চিত্রা সিং



বিশেষ সংযোজনী - বিষাদে আনন্দ প্রবাহ - শেষ গানটি আনন্দেই শেষ হোক

চাঁদের সাথে আমি দেব না তোমার তুলনা - রুনা লায়লা ও এন্ড্রু কিশোর





জগজিৎ সিং-এর সব গান এক সাথে পেতে এই লিংকে ক্লিক করুন - জগজিৎ সিং

চিত্রা সিং-এর সব গান এক সাথে পেতে এই লিংকে ক্লিক করুন - চিত্রা সিং

সোনাবীজের চ্যানেলের সব গান একসাথে পেতে ক্লিক করুন এখানে - Channel Sonabbej - আমার প্রিয় গানের সংগ্রহশালা



সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:২৯
২১টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দত্ত পরিবার(পর্ব-০১)

লিখেছেন মি. বিকেল, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ৮:৪৯




রাজবাড়ি। আমার প্রাণের শহর। কিন্তু এখন এখানে টিকে থাকাটা একরকম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আমার জন্য। কিছুদিন পূর্বে গ্রামের বাড়ি থেকে মা ফোন দিয়েছিলেন কিছু টাকা পাঠানোর জন্য। চাকুরী নেই, আবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিমানে রেস্টুরেন্ট ।। সমবায় ভাবনা

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১০:৪১





সকালের খবরে দেখছিলাম বেশ কিছু বিমান পরিত্যাক্ত অবস্থায় ঢাকা বিমান বন্দরের হ্যাঙ্গার এরিয়ায় পড়ে আছে । এগুলো আর কখনো উড়বেনা । এগুলোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনলাইনের কিছু বাজে অভিজ্ঞতা, একা বসে কান্না ছাড়া আর উপায় দেখি না!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১:৫৭

আমাদের দেশের প্রায় সব বয়সি নারীরা এমন একটা অভিযোগ করেন যে, তিনি অনলাইনে নানাভাবে উত্যাক্ত হয়ে থাকেন। বলা নাই কয়া নাই হঠাত করে তিনি একম কিছু মেসেজ বা কল পান... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনধারণ খুব ব্যয়বহুল হয়ে যাচ্ছে। নূন্যতম খাবারের দামও ধরা ছোয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে...........

লিখেছেন নীল আকাশ, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ২:২৪



যারা কাঁচাবাজারে যান তারা তো জানেনই, তারপরও বলছি। দেশে এখন জীবনধারণ খুব ব্যয়বহুল হয়ে যাচ্ছে।
নূন্যতম খাবারের দামও ধরা ছোয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে।
বাজারের কাঁচা শাক সবজির আগুন মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ছেড়ে যাবেন না; ব্লগ ছাড়লে আপনাকে কেহ চিনবেন না।

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪০



আজকে, আমার একটা পোষ্টে ব্লগার জাহিদ হাসান কমেন্ট করে জানায়েছেন যে, তিনি ব্লগ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন; আমি না করেছি। উনাকে সম্প্রতি জেনারেল করা হয়েছে, সেটা হয়তো উনাকে হতাশ করেছে;... ...বাকিটুকু পড়ুন

×