লোকালয় থেকে অনেক দূর, বহু দূর। এই বনে গাছ আর গাছ। ছোট গাছ, বড় গাছ_ফুল ও ফলের গাছ। সেখানে শুকনো পাতার মচমচ শব্দ শোনা যায়। এই বাগান থেকে এক মাইল দূরে একটি গ্রাম আছে। এই গ্রামের মানুষ এই বাগানে আসে না। কারণ এই বাগানে নাকি ভূত আছে। ভূতরা সব জায়গায় হাঁটাচলা করে। এই গ্রামের তিন সাহসী মেয়ে বন্ধু এই সত্যি জানার জন্য বাগানে বেড়াতে যায়। এই তিন মেয়ের নাম ছিল_তুরসা, তাসমিয়া, শাম্মি। তারা বাগানের দিকে দুপুরে রওনা হলো। তারা যখন বাগানটির মাঝখানে যায়, তখন তাদের সঙ্গে একজন অসহায় গরিব চাষির দেখা হয়। শাম্মি চাষিটিকে বলল, আপনি এখানে কী করছেন? আর এই বাগানে তো কেউ আসে না। তখন চাষি বলল, আমি অনেক বছর আগে থেকে এখানে থাকি। কারণ আমার কেউ নেই। গাছপালাই আমার সব। তখন তাসমিয়া অন্যদের থেকে একটু দূরে গিয়ে একটি আপেলগাছ দেখল। সে যখন গাছ থেকে একটি আপেল পারল তখন তুরসা ওঠে বলল, এই তুই কী করছিস? দেখতেই তো পারছিস, কী করছি। তারপর তাসমিয়া ওঠে বলল, এই তোরা আপেল খাবি। তখন চাষি বলল, এই তুমি আপেলটা খেয়ো না। কিন্তু তাসমিয়া চাষির কথা না শুনে আপেলটা খেয়ে ফেলল এবং সঙ্গে সঙ্গে তাসমিয়া জ্ঞান হারিয়ে ফেলল। তারপর তুরসা ও শাম্মি অবাক হয়ে গেল। তুরসা চাষির কাছে গিয়ে বলল, ওর কী হয়েছে? তখন চাষি বলল, সর্বনাশ হয়ে গেছে। শাম্মি বলল, কী সর্বনাশ হয়েছে? তখন চাষি বলল, এখানে ফল ও ফুলের গাছে ভূত আছে। শাম্মি বলল, মানে কী? তখন চাষি বলল, আজ থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগে এই গ্রামের রাজা সাজ্জান সিং এই গাছের আপেল খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে মারা গিয়েছিল। সেদিন অমাবস্যার রাত ছিল। আমি সন্ধ্যার সময় যখন গাছের দেখাশোনা করতে এসেছিলাম_দেখি রাজা সাজ্জান সিং পড়ে আছেন। আমি ভয়ে চলে যাই। সম্ভবত রাজা সাজ্জান সিং প্রতি অমাবস্যার রাতে এই গাছের নিচে হাঁটাচলা করতেন। তখন তুরসা বলল, তাসমিয়ার জ্ঞান কি ফিরবে না? চাষি বলল, রাজার পোশাক ও গয়না মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে শাম্মি বলে, চল, আমরা তাড়াতাড়ি মাটি খনন করি। চাষি বলে, তোমরা যদি কাপড় ও গয়না বের করতে পারো তবে রাজা এবং তোমাদের বন্ধু তাসমিয়া বেঁচে যাবে। শাম্মি আর তুরসা মাটি খনন করতে লাগল এবং খনন করতে করতে পোশাক ও গয়না খুঁজে পেল। তারা পোশাক ও গয়না তাসমিয়াকে পরাতেই তার জ্ঞান ফিরে এল। আর রাজাও বেঁচে উঠল। এই বাগানে আর ভূত থাকল না। এই তিন বন্ধু চাষিকে ধন্যবাদ দিয়ে বাড়ি ফিরে গেল। এর পর থেকে গ্রামের মানুষের বাগানে আসা-যাওয়া শুরু হলো। তারা সুখ-শান্তিতে বসবাস করতে লাগল।
যাচ্ছে তাই ...........তিন বন্ধু আর এক চাষি
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ পাখির জগত

টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।
টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।
বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মোহভঙ্গ!

পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।