somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গ্রীক মিথ - কুমারী দেবী আর্তেমিসের প্রেম ও এপোলোর মিথ্যাচার। ১৮++

০১ লা ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গ্রীক দেবী আর্তেমিস হলো মৃগয়া, বন্য জন্তু, তেপান্তর, শিশু জন্ম, কুমারীত্ব, কিশোরীদের রক্ষাকারী, মেয়েদের রোগদাত্রী ও রোগ মুক্তি দানকারী। চন্দ্রদেবী সেলেনার পাশাপাশি চাঁদের দেবী হিসেবে তাকেও ভাবা হয়। হরিণ ও সাইপ্রেস বৃক্ষ ছিলো তার কাছে ঐশ্বরিক ও পূজনীয়।





আর্কেডিয়ানরা বিশ্বাস করতো আর্তেমিস হলো দেবী ডিমিটারের কন্যা। রোমানদের কাছে সে ডায়না হিসেবে পরিচিত। গ্রীক পুরাণের ক্লাসিক্যাল সময়ে আর্তেমিসকে দেবতা জিউস ও দেবী লেটোর কন্যা হিসেবে বর্ণনা করা হয়; সে ছিলো দেবতা এপোলোর জমজ বোন।





যখন দেবী হেরা দেখলো যে দেবী লেটো গর্ভবতী এবং সে সন্তানের পিতা তার স্বামী জিউস, তখন সে ক্ষিপ্ত হয়ে গেলো। হেরা গ্রীসের মূলভূমিতে লেটোকে সন্তান জন্মদানের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করলো। আর পাইথন নামের এক দৈত্যাকার সাপ ছেড়ে দিলো লেটোকে অনুসরণ করার জন্যে, যাতে করে সে মূলভূমির কোথাও সন্তান জন্ম দিতে না পারে।



অতঃপর লেটো একটি ভাসমান দ্বীপ খুঁজে পেলো, যার নাম ছিলো ডেলোস। এটি না ছিলো মূলভূখন্ড, আর না ছিলো পরিপূর্ণ দ্বীপ। ডেলোস রাজহাঁস ও পরীদের দিয়ে ঘেরা ছিলো, আর তার সুরক্ষার জন্য ছিলো চারটি থাম।



সেখানে দেবী লেটো প্রথমে আর্তেমিসকে এবং কিছু সময় পর জন্ম দিলো দেবতা এপোলোকে।



এপোলোর যখন চারদিন বয়স তখনই সে বলবান বালকে পরিণত হলো। দেবতা হেফায়েস্টাস এপোলোকে রুপার ধনুক ও স্বর্ণের তীর বানিয়ে দিলো যাতে করে সে দৈত্যাকার সাপ পাইথনের উপর প্রতিশোধ নিতে পারে।





এপোলো পাইথনের গুহার দিকে এগিয়ে গেলো, আর পাইথন এপোলোকে দেখে গোগ্রাসে গেলার জন্য সামনে এগিয়ে আসলো। অতি দ্রুততার সাথে এপোলো তীর নিক্ষেপ করতে থাকলো। অনেক চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত পাইথন মৃত্যুর কাছে পরাজিত হলো।









পাইথনের মৃত্যু এপোলোকে দারুণভাবে খুশি করলো, মনের সুখে গান গেয়ে উঠলো এপোলো। বিজয়ের গানের এই ক্ষণটিই এপোলোকে সুরের দেবতার আসনে অধিষ্ঠিত করলো।



যেহেতু এপোলো পাইথন হত্যা করে একটি অপরাধ করেছে, তাই অলিম্পাস পাহাড়ের নিয়ম অনুসারে তাকে শুদ্ধ হতে হয়েছিলো। এজন্য জিউস তাকে ডেলফিতে পাইথনিয়ান খেলা আয়োজনের আদেশ দিলো, যাতে করে সাঙ্গীতিক ও মল্লক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতে পারে।



এপোলো সে আদেশ মেনে খেলার আয়োজন করলো এবং নিজেও অংশগ্রহণ করলো। সেই থেকে প্রতি চার বছর পর পর এপোলোর সম্মানে পাইথনিয়ান খেলা অনুষ্ঠিত হয়।





বছর তিন বয়সে যখন আর্তেমিস জিউসের কোলে বসেছিলো তখন জিউস তার কাছে ছয়টি ইচ্ছা পূরণের দাবি করলো, যার মধ্যে একটি ছিলো সারা জীবন কুমারীত্ব অটুট রাখা। আর্তেমিস প্রার্থনা করলো কোন শহর তার নামে না দিতে, আর সে সন্তান জন্মদানকারী মায়ের কষ্ট লাঘবের ক্ষমতা চাইলো। শিকারের বর প্রাপ্ত তরুণী আর্তেমিস হাতে তুলে নিলো তীর-ধনুক।







তারপর সে সাক্ষাৎ করলো দেবতা প্যানের সাথে। বন দেবতা শিকারে সাহায্য করতে আর্তেমিসকে সাতটি কুকুর-কুকুরী উপহার দিলো। এরপর আর্তেমিস সেগুলো নিয়ে ছয়টি সোনালী শিং যুক্ত হরিণ ধরে ফেললো, যা সে তার রথ টানার কাজে ব্যবহার করতো।



যৌবন প্রাপ্ত অস্পর্শিত দেবী আর্তেমিস কোন পুরুষকে তার কাছে ঘেষতে দিতো না। একদিন একটায়োন নামের এক শিকারি এক পলকের জন্য আর্তেমিসকে নগ্ন অবস্থায় ঝর্ণায় স্নান করতে দেখে ফেলে। রূপে বিমোহিত একটায়োন পালিয়ে না গিয়ে সেখানে দাঁড়িয়েই অবলোকন করলো জলেভেজা পবিত্র অপরূপ দেবীর রূপ।







টের পেয়ে আর্তেমিস ক্রোধে ফেটে পরলো, আর মূহুর্তে একটায়োনকে পুরুষ হরিণে পরিণত করে দিলো। তারপর শিষ বাজিয়ে ডেকে আনে তার শিকারি কুকুরগুলোকে। কুকুরগুলো হরিণ রূপের একটায়োনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে অল্প কিছুক্ষণের ভেতরেই ছিন্নভিন্ন করে ফেলে তাকে।





কুমারী দেবী আর্তেমিসের প্রতি অনেক দেবতা ও মানুষ আকর্ষিত ছিলো। কিন্তু শুধুমাত্র তার শিকারের সঙ্গী ওরিয়ন আর্তেমিসের হৃদয় জয় করতে পেরেছিলো।





এপোলো প্রেমের এ খবর শুনার পর ক্রোধ দমন করতে পারলো না; কারণ আর্তেমিস প্রেমে পড়েছিলো একজন মরণশীল সাধারণ মানুষের। এপোলো সংকল্প করলো যে, সে এই প্রেমকে আর অগ্রসর হতে দেবে না। এপোলো একটি বৃশ্চিক বা বিচ্ছু পাঠালো ওরিয়নকে হত্যা করার জন্য। ওরিয়ন তার সমস্ত তীর দিয়ে এবং শেষ পর্যন্ত তরবারি দিয়ে দৈত্যকে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলো।



তারপর নিজেকে বাঁচাতে ওরিয়ন সাগরে ঝাঁপ দিলো এবং সাঁতার কাটতে থাকলো। এরপর আর্তেমিস তীর-ধনুক হাতে যখন সে স্থানে উপস্থিত হলো তখন দেবতা এপোলো তাকে বিভ্রান্ত করলো। সে আর্তেমিসকে বললো - তুমি সাগরে যে কালো বুদ্বুদ ডুবতে ও ভাসতে দেখছো ওটা একটা জঘন্য ব্যক্তির মাথা; সে তোমার একজন কুমারীকে ধর্ষণ করেছে, হত্যা করো তাকে। আর্তেমিস বিশ্বাস করলো এপোলোর কথা, তীর ছুড়লো জলে ভাসা মাথা লক্ষ্য করে।





তীর ছুড়ে হত্যার পর সে আবিষ্কার করলো - এ আর কেউ নয়, তার প্রিয় ওরিয়ন।





তারপর আর্তেমিস প্রিয় মৃত ওরিয়নকে আকাশের নক্ষত্রপুঞ্জে স্থান করে দিলো এপোলোর হিংসা ও মিথ্যাকে অমর করে রাখতে। এপোলোর সে বৃশ্চিকটিরও স্থান হলো আকাশে, এখনো সে তাড়া করে ফেরে ওরিয়ন বা কালপুরুষ নামের নক্ষত্রপুঞ্জকে। আকাশের দুই জায়গায় বা মেরুতে স্থান দেয়া হয়েছে তাদের, যাতে করে তারা কখনো আর যুদ্ধে লিপ্ত না হতে পারে।



আর ওরিয়নের শিকারী কুকুরকেও বানিয়ে দেয়া হয় সাইরাস নামের নক্ষত্রে, কুকুর নক্ষত্র।






Aleister Crowley আর্তেমিসকে নিয়ে লিখেছেন Pan to Artemis নামের অসম্ভব সুন্দর একটি কবিতা, হৃদয় ছোঁয়ে গেছে কবিতাটি।



Pan to Artemis
Uncharmable charmer
Of Bacchus and Mars
In the sounding rebounding
Abyss of the stars!
O virgin in armour,
Thine arrows unsling
In the brilliant resilient
First rays of the spring!

By the force of the fashion
Of love, when I broke
Through the shroud, through the cloud,
Through the storm, through the smoke,
To the mountain of passion
Volcanic that woke ---
By the rage of the mage
I invoke, I invoke!

By the midnight of madness: -
The lone-lying sea,
The swoon of the moon,
Your swoon into me,
The sentinel sadness
Of cliff-clinging pine,
That night of delight
You were mine, you were mine!

You were mine, O my saint,
My maiden, my mate,
By the might of the right
Of the night of our fate.
Though I fall, though I faint,
Though I char, though I choke,
By the hour of our power
I invoke, I invoke!

By the mystical union
Of fairy and faun,
Unspoken, unbroken -
The dust to the dawn! -
A secret communion
Unmeasured, unsung,
The listless, resistless,
Tumultuous tongue! -

O virgin in armour,
Thine arrows unsling,
In the brilliant resilient
First rays of the spring!
No Godhead could charm her,
But manhood awoke -
O fiery Valkyrie,
I invoke, I invoke!


"প্রথম প্রেমের মতো, প্রথম কবিতা এসে বলে - হাত ধরে নিয়ে চলো, অনেক দূরের দেশে................"


অসাধারণ একটি কবিতা সম্বলিত সাধারণ পোস্টটি বিশেষভাবে আমার ব্লগ বন্ধু অনাহূত ভাই এর জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১২:৩২
৫৭টি মন্তব্য ৫৫টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চিলেকোঠার প্রেম- ১৩

লিখেছেন কবিতা পড়ার প্রহর, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:২৫


দিন দিন শুভ্র যেন পরম নিশ্চিন্ত হয়ে পড়ছে। পরীক্ষা শেষ। পড়ালেখাও নেই, চাকুরীও নেই আর চাকুরীর জন্য তাড়াও নেই তার মাঝে। যদি বলি শুভ্র কি করবে এবার? সে বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নগ্ন দেহের অপূর্ব সৌন্দর্যতা বুঝেন না! বলাৎকার বুঝেন?

লিখেছেন মুজিব রহমান, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:৩৫


শৈল্পিক প্রকাশের সর্বোচ্চ রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয় নগ্নতাকে৷ ইউরোপে অন্ধকার যুগ কাটিয়ে রেনেসাঁ নিয়ে এসেছিল আধুনিক ও সভ্য ইউরোপ৷ রেনেসাঁ যুগের শিল্পীরা দেদারছেই এঁকেছেন শৈল্পিক নগ্ন ছবি৷... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নবীকে ব্যঙ্গ করার সঠিক শাস্তি সে ফরাসি শিক্ষক কি পেয়েছে?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:৫৩



গত কয়েকদিন আগে ফ্রান্সে কি হয়েছিল? একজন শিক্ষক ক্লাসে আমাদের নবীর ব্যঙ্গচিত্র দেখিয়েছিলেন, বলা হয়েছিল তার উদ্দেশ্যে ছিল বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার বিষয়ে বুঝানো। এটার পর এক মুসলিম যুবক তার ধর্মীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবি ও পাঠক

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:৩১

কবিদের কাজ কবিরা করেন
কবিতা লেখেন তাই
ভেতরে হয়ত মানিক রতন
কিবা ধুলোবালিছাই

জহু্রি চেনেন জহর, তেমনি
সোনার পাঠক হলে
ধুলোবালিছাই ছড়ানো পথেও
মাটি ফুঁড়ে সোনা ফলে।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

***

স্বরচিত কবিতাটির ছন্দ-বিশ্লেষণ

শুরুতেই সংক্ষেপে ছন্দের প্রকারভেদ জেনে নিই। ছন্দ... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রিয় খাবার সমূহ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৩:৩৪



আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)।
প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যেসব খাবার গ্রহণ করেছেন, তা ছিল সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। নবীজি (সা.) মোরগ, লাউ, জলপাই, সামুদ্রিক মাছ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×