somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উচ্চ মানের কাগুজে মুদ্রার নোট মুদ্রাস্ফীতি ব্যবস্থাপনার জন্য সহায়ক, ঘুষ চাঁদার আদান প্রদানের সহায়কও বটে !

১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জাতিসংঘ বলছে, সারাবিশ্বের ১শ’ ২০ কোটি মানুষ অতি দরিদ্র মানুষদের ৫,৩ শতাংশের বাস বাংলাদেশে। তাদের প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ২৫.৬% দরিদ্র, ১২,৪% অতি দরিদ্র। ঠিক এমন একটি দেশের অর্থমন্ত্রনালয় জানেনা যে বাংলাদেশে এখনও ১-৪ টাকায় পন্য পাওয়া যায়। এই না জানার জন্য গ্রামীন বাচ্চাদের চকলেট থেকে শুরু করে শহুরে গরীবদের বিড়ি প্রতি ইউনিট নূন্যতম পাঁচ টাকায় কিনতে হবে। আবুল বিড়ি, আকিজ বিড়ি সেবকদের কথা বাদ দিলেও, প্রান্তিক কিন্তু অভিজাত শ্রমজীবী যারা ১, ২, ৩ কিংবা ৪ টাকা মূল্যমানের সিগারেট টানেন উনাদেরকেও আমাদের মুদ্রানীতি অযৌক্তিক ও অযাচিত খরচে বাধ্য করতে চান। মানে বাংলাদেশে ১ থেকে ৪.৯৯ টাকা পর্যন্ত সকল মুদ্রার ক্রয় ক্ষমতা শূন্য হতে যাচ্ছে!

১ এবং ২ টাকার নোট বাদ দিলে, বাকী নোট গুলো (৫,১০,২০,৫০,১০০,৫০০,১০০০) দিয়ে শুধু মাত্র ৫ এর গুনিতক ভিন্ন বাকি সকল মুদ্রা মান মিলানো যাবে না। সাত, আট, নয়, এগারো, বার, তের এই জাতীয় হাজার হাজার মূদ্রা মান এর ক্যাশ ইকুইভালেন্ট অসম্ভভ। এই জাতীয় লেনদেন কিভাবে হবে? অর্থ ব্যবস্থাপনার লোকেরা কিভাবে এরকম একটা জ্ঞানহীন প্রস্তাবনা করতে পারে? এমন লজ্জা কোথায় লুকাই?

"পুরোনো এক ও দুই টাকার নোটগুলো বাজার থেকে তুলে নিয়ে ধ্বংস করা হবে। এগুলো ধ্বংস করতে ৩০০ কোটি টাকার মতো ব্যয় হবে।" পুরোনো এক ও দুই টাকার নোট এবং কয়েন কি পরিমান বাজারে রয়েছে এবং সেই সব নোট ছাপাতে এবং কয়েন বানাতে রাষ্ট্রের কি পরিমান অর্থ ব্যয় হয়েছিল এই তথ্য অর্থমন্ত্রনালয়ের জানা আছে কিনা সন্দেহ রয়েছে। রাষ্ট্রের সেই অর্থ খরচের সময় ধাতব মুদ্রা এবং কয়েন গুলোর লাইফ সাইকেল কি ভাবে নির্ধারন করা হয়েছিল, আদৌ হয়েছিল কিনা? বাংলাদেশ ব্যংক মুখপাত্র বলছেন, দুই টাকার নোট ছাপানোর জন্য আজকেই (১৮-১-২০১৫) অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলা দেশ ব্যাংকে একটি চিঠি এসেছে। কিছুদিনের মধ্যে যখন তুলেই নেয়া হবে, এই বেহুদা খরচ কার স্বার্থে! দৃশ্যত ৩০০ কোটি টাকার আরেকটি অতিস্ফিত ব্যয়ের রাজনৈতিক দুরবিত্তায়িত প্রকল্প আসছে (খরচ ৩০০ কোটি টাকা হবার জাস্টিফিকেশন কি?), পুরানো নোট ফিরিয়ে নেয়ার একটি প্রসেস এতিমধ্যেই বিদ্যমান।

কথা থেকে যায়, অর্থমন্ত্রনালয় চাইলেই ক্ষুদ্র বিনিময়ের পন্য সমূহ কে উচ্চ মূল্যে ক্রয় করতে বাধ্য করতে পারে কিনা? দেশের মুদ্রানীতি বলে কি রয়েছে? এই সব কোর বিষয় নিয়ে বিস্তর নাগরিক আলোচনা আশা করছি।

মুদ্রাস্ফীতি টাকার নূন্যমান (ইউনিট) বাড়িয়ে পাঁচ টাকায় নামিয়েছে। এই সাময়িক হিসেবের বাইরেও ভেবে দেখতে হবে আসলে মুদ্রাস্ফীতি জনিত কারন দেখিয়ে বর্তমানের পলিসি টাকা কে কিভাবে মানহীন করতে চায় অথবা অবিবেচক অভ্যন্তরীণ মুদ্রানীতি মুদ্রাস্ফীতি তে কিভাবে সমস্যা তৈরি করছে। উল্লেখ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ সুদের বন্ড গত অর্থবছর থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংক কেন্দ্রিক অভ্যন্তরীণ বিনয়োগকে সংকুচিত করে ফেলছে।

কিছু বছর আগে বাংলাদেশে ১০০০ টাকা নোট প্রবর্তিত হয়েছিল। সমাজে এর কোন প্রতিবাদ তো নয়ই , কোন আলোচনাও হয় নি। হয়ত অর্থ মন্ত্রণালয় ভিতরে ভিতরে ২,০০০ ৫,০০০ কিংবা ১০,০০০ টাকা মূদ্রা মানের নোট ছাপানোর পরিকল্পনা করছে। খুবই লজ্জার বিষয় যে, আমাদের সরকার গুলো তার কোন পলিসি ই নাগরিক আলোচনার জন্য পুর্ব থেকে উন্মুক্ত করে না, বরং উদ্ভোদনের দিন সবাই সারপ্রাইজ নিউজ পাই।

ব্যাপক দুর্নীতির কারনে রাষ্ট্রীয় খরচের কাঠামো দিন দিন অপ্রয়োজনীয় মাত্রায় ভারী হয়ে আসছে। প্রাথমিক প্রকল্প ব্যয়ই বাস্তব খরচের বহু বহু গুন, এর বাইরে জড়ো হয় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় রাজনৈতিক চাঁদাবাজি, একই কাজের বহুবার হাতবদল, নির্মান ব্যয় বাড়ার অজুহাত এবং এই অজুহাত কাজে লাগাতে ইচ্ছা ক্রীত সময় ক্ষেপণ। যেহেতু দেশের মোট অর্থ আদান প্রদানের সিংহ ভাগই আন অডিটেড কিংবা নন ব্যাংকিং তাই বাজারে কাগুজে মুদ্রার উচ্চ মান সম্পন্ন (টাকার নোটের) উপস্থিতি ব্যাপক দুর্নীতির সহায়ক টুলস। এর প্রভাব ঘুষ, চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য সকল অনৈতিক লেনদেন স্ফীত হচ্ছে। এইসকল লেনদেন সাধারণত ক্যাশ এ হয়ে থাকে। তাই লূটপাটকারিরা একই অঙ্কের ঘুষ আদানপ্রদান উচ্চ মানের নোট এ সহজ ভলিউমে চান, অধিক মানের ছাপার নোট তাই তাদের কাছে সোনার হরিন।

উচ্চ মানের কাগুজে মুদ্রার নোট মুদ্রাস্ফীতি ব্যবস্থাপনার জন্য সহায়ক, ঘুষ চাঁদার আদান প্রদানের সহায়কও বটে ! ১০০০ কিংবা ততোধিক মানের নোট ছাপানোর সিদ্ধান্ত কি চরম মুদ্রাস্ফীতির কারনে নিতে হচ্ছে নাকি অন্যান্য অনুষঙ্গও কাজ করছে?
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১১:৫০
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তর....দ্রুত বাস্তবায়ন হোক।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তর....

বর্তমান সচিবালয়ের আয়তনঃ ঢাকার আবদুল গনি রোড- সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বর্তমান বাংলাদেশ সচিবালয় প্রায় ৩২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে মাত্র ১৭ লাখ বর্গফুট যায়গায় অপরিকল্পিত ভবন নির্মিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×