ভোরবেলা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলাম। খালাকে বললাম যে সকালে আমরা বন্ধুরা মিলে অমুক জায়গায় ঘুরতে যাবো। আমার খালারা আমাকে অতীব ভালোবাসেন। যার সুবাদের আমি ভোর এ বের হব বলে তিনি নিজে উঠে নাস্তা বানিয়েছিলেন আমাকে খাওয়ানোর জন্য। আজ আমার প্রেমিকার সাথে আমার প্রথম বাইরে দেখা হবে। তার সকাল ৬ টা থেকে একটা ব্যাচ, ৮ টা থেকে একটা। সুতরাং তার সাথে বাইরে দেখা করতে হলে আমাকে ভোরেই যেতে হবে।প্রেমিকা আমার জন্য ৬ টার পড়াটা মিস দেবে। আহাআআআ।আমি এক সময় খুব ভালো ছেলে ছিলাম। সুন্দর মত বেরিয়ে গেলাম। বেরিয়ে গিয়ে সেই উদীচীর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। এর ঠিক সামনেই আমার প্রেমিকার প্রাক্তন স্কুল। সে এই বছরই এই স্কুলের গণ্ডি পার করেছে।
আমার আবার বেশিক্ষন দাঁড়িয়ে থাকলে খুব ক্ষিদে পায়। পাশের একটা দোকানের ঝাপ খুলেছে মাত্র। আমি একটা মেরিডিয়ান চিপ্স কিনে চাবাতে থাকলাম। বেশ খানেক পর আমার প্রেমিকা এলো। মিষ্টি রঙের এক জামার সাথে গাদা ফুলের রঙের এক ওড়না দিয়ে সেই লেভেলে মাথায় ঘোমটা দিয়ে। সাত সকালে কলঙ্ক রটুক এটা আসলে কেউ ই চায় না। তারপর আমি আমার প্রেমিকার সাথে হাটা শুরু করলাম। প্রথমে বিরাট রাস্তার একপাশে আমি হাটি অন্য পাশে আমার প্রেমিকা। কিছুক্ষণ পর আমি হাটি সামনে , আমার থেকে ১০ হাত পেছনে আমার প্রেমিকা। ঠিক এই ধরনের ফরমেশানে হাটতে হাটতে হাটতে হাটতে আমরা জিলা স্কুলের পেছনের রাস্তায় পৌছালাম। তখন আমাদের কথা শুরু হল,
আমি ঃ রাস্তার ওইপার দিয়ে হাটতেছ কেনো, এইদিকে আসো, ওই দিকে চাপতে চাপতে তো ড্রেন এ পড়বা। ( অনেক বড় ড্রেন)।
প্রেমিকাঃ দেখো, এইভাবে হাটছি তাতেই লোক কিভাবে তাকাচ্ছে।
আমি ঃ লোক তাকাচ্ছে কারণ লোক ভাবতেছে ... এই দুইটা নতুন ছাগল কোথা থেকে আসছে বাজারে।
প্রেমিকা রাস্তা পার হয়ে এল। এসেই যে কথা টা বলল “ রিকশা ডেকে দাও, বাসায় যাবো “।
আমি বললাম “ ও” ...... রিকশা ডাকলাম। প্রেমিকা রিকশায় উঠলো। আমি বললাম,
“কিছু বলবা ?”
প্রেমিকা বলল “না”......। রিকশা চলা শুরু করল। আমি হা করে চলে যাওয়া দেখছি, হটাত রিকশা ত্রিশ গজ গিয়ে থেমে গেলো। আমার প্রেমিকা আমাকে রিকশার হুড থেকে মুখ বের করে ডাক দিলো “ এই শোনো”... । আমি গায়ে বাতাস লাগাতে লাগাতে কাছে গেলাম। প্রেমিকা বলল “ একটা জরুরি কথা বলতে ভুলে গেছি, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি”।
আমি হা করে তাকিয়ে থাকলাম। রিকশা আবার চলা শুরু করলো। আকাশের দিকে তাকানোর অবকাশ সকাল থেকে ছিলো না আমার। অগাস্টের আকাশ। হটাত আকাশ কাপিয়ে বৃষ্টি শুরু হল।
আমি ফাকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে , ভিজতে ভিজতে রিকশার চলে যাওয়া দেখতে থাকলাম।
আমার প্রেমিকার সাথে আমি যখন হুড খোলা রিকশায় বাতাস খেতে খেতে উড়ে যেতাম, তখন নিজেকে সুপারম্যান কিম্বা ক্যাপ্টেন প্লানেট মনে হত, কারণ তখন বেশি সুপার হিরো উড়তে পারতো না, উড়াউড়ির ব্যাপারে এনাদেরই বেশ নাম ডাক ছিল। খোলা রিকশায় বিশাল বড় বাইপাস দিয়ে যখন রিকশাওয়ালা এক যুগল কে নিয়ে সেই মাপের জোসের সাথে রিকশা টানত আর এলোমেলো বাতাসে আমার প্রেমিকার চুল উড়ে আমার মুখে এসে লাগত তখন মনে হত নীল আকাশে পেজা তুলোর ভেতর লাল রঙের জিনিসটা নীল রঙের জিনিসের উপর পরে উড়ে বেড়াচ্ছি। তো যাই হোক, উড়াউড়ির সমাপ্তি ঘটে গেল। কেনো গেলো সেটাও সুন্দর একটা গল্প। সব সমাপ্তি আসলে ধর ধর মার মার কাট কাট ভাবে হয় না।
সেই গল্প অন্যদিন হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



