somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গরুর খামারে টিভি

২১ শে জানুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




গরুর খামারে থাকবে খড়, ভুসি আর সবুজ ঘাস। গরুরা খাবে, আর হাম্বা রবে ডাকবে। কিন্তু তাদের মনোরঞ্জনের জন্য টিভি কি থাকতে পারে?



এমনি এক কাজ করে বসেছেন রগাচিয়োভো। রাশিয়ান এই ভদ্রলোকের খামারটি রাশিয়ার পেনজা শহরে। আর তার সেই খামারেই তিনি গরুদের মনোরঞ্জনের এই ব্যবস্থা করেছেন।

রাশিয়ার পেনজা শহরে অবস্থিত তার এই খামারটি আকারে বেশ বড়। মোট গরু আছে ৩৫০টি। গরুগুলোর পিছনে প্রতিদিনই শয়ে শয়ে রুবল খরচ হয় তার। তবু আশানুরূপ দুধ দিচ্ছিল না ওরা। কিন্তু তাহলে চলবে কী করে? এভাবে চলতে থাকলে তাকে তো খামার নিয়ে পথে বসতে হবে!

কাজেই তিনি দুধের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ভাবতে বসলেন।

অনেক ভেবে শেষে তিনি এক সিদ্ধান্তে পৌঁছুলেন। তার ধারণা হল, সারাদিন খামারের বদ্ধঘরে থাকার কারণেই এই অবস্থা। সারাদিন বদ্ধ থাকায় গরুদের মন ভালো থাকে না। আর সে কারণেই তারা দুধও দেয় কম। অর্থাৎ, দুধের উৎপাদন বাড়াতে হলে গরুদের মন ভালো করার ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যবস্থা করতে হবে তাদের বিনোদনের। তাহলেই মিলবে পর্যাপ্ত দুধ।

গরুদের মন ভালো করার বুদ্ধি হল, তাদের চড়ানো। মানে, তাদের নিয়ে মাঠে-ঘাটে ঘুরিয়ে আবার সন্ধ্যায় খামারে ফিরিয়ে আনা। রাখালরা যে কাজ করে আরকি। কিন্তু সে কাজ করতে গেলে তার আরও কিছু রাখাল নিয়োগ দিতে হবে। তাতে তো খরচ কমবে না, বাড়বে আরও। সব মিলিয়ে, লাভ তো হবে না।

গরুদের মনোরঞ্জনের জন্য অন্য কোনো বুদ্ধি বের করতে হবে। আবার ভাবতে বসলেন খামারটির মালিক রগাচিয়োভো।

সেই বুদ্ধি মাথায় আসতে অবশ্য খুব একটা সময় লাগল না। আর সে বুদ্ধি মোতাবেক কাজও শুরু করে দিলেন তিনি। গরুদের জন্য খামারে আসলো ৫০টি প্রমাণ সাইজের এলইডি টিভি। মানে, প্রতি সাতটি গরুর জন্য একটি করে। তারপর সেগুলো বসিয়ে দেওয়া হল গরুগুলোর দৃষ্টিসীমার মধ্যে।

এখন রগাচিয়োভোর খামারের গরুরা সারাদিন টিভি দেখে। টিভিতে দেখে সবুজ ঘাস, বন আর পাহাড়ি ঝরনা। সেসব দেখতে দেখতে সবুজ সবুজ ঘাস খায়।

আর সেই দৃশ্যগুলো ধারণ করা হয়েছে সুইজারল্যান্ডের পর্বত সংলগ্ন এলাকায়।

তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, টিভি বসানোর পর থেকে খামারটির গরুগুলো নাকি সত্যি সত্যিই দুধের উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়েছে!

এ বিষয়ে অবশ্য পশুচিকিৎসকরা ভিন্নমত পোষণ করেন। টিভি দেখে গরুর দুধের উৎপাদন বাড়তে পারে, এটা তারা মানতেই পারেননি। তাদের ধারণা, টিভি আসার সঙ্গে সঙ্গে খামারটিতে অন্য কোনো পরিবর্তনও হয়তো হয়েছে। আর সে কারণেই বেড়েছে দুধের উৎপাদন।
Click This Link

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন মহামানব - একজন মহান শিক্ষক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:১৫



আমার স্যার, অনেক অনেক বড় মানুষ, তাল গাছের মতোই তিনি বড়। না - না তাল গাছ ছাড়িয়ে তিনি আকাশ ছোঁয়েছেন, তিনি আকাশের মতোই বড় মানুষ। অনেক দূর দূরান্ত থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হৃদস্পন্দন পাঠালাম…

লিখেছেন নান্দনিক নন্দিনী, ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৫০



ভালোবাসা কি এইভাবেই একটু একটু করে জন্মাতে থাকে? এই হালকা মেজাজ, খুশি-খুশি ভাব। এই এলোমেলো কথা বলা, অতিরিক্ত আত্মসচেতনতা এবং পুরোপুরি ভিন্ন একজন মানুষ হয়ে উঠা; একেই কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি আমার দুঃখ বিলাসের একমাত্র কারণ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ৯:০৬



কংক্রিটের রাত্রিতে, আঁধারের ওপার হতে দাও হাতছানি।
তুমি কি আলোর পাখি?

আগুন রঙা তোমার দু পাখায় আলোর ঝলকানি,
আমি বিহ্বল হয়ে চেয়ে থাকি,
তোমার বৈচিত্রময়তায়।

আঁধার হতে আলোয় উত্তরনের চেষ্টায় আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গনেশ মূর্তি-এক্সপেরিমেন্ট আর অন্ধ বিশ্বাস

লিখেছেন কলাবাগান১, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ১০:০৩

Repost


ল্যাবে কলকাতার হিন্দু মেয়ে গ্রাজুয়েট স্টুডেন্ড হিসাবে জয়েন করল। খুবই করিৎকর্মা ছাত্রী, প্রথম কয়েকমাস ছোট খাটো এক্সপেরিমেন্ট খুব সহজেই করা হত...আসল সমস্য শুরু হয় যখন স্যাম্পল থেকে প্রোটিন বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশে থাকা মানেই কি দেশের সেবা করা???

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:০২



ব্লগে আসি কিছু আনন্দময় সময় কাটাতে। লিখতে ভালো লাগে, তাই লেখি। পড়তে ভালো লাগে, তাই যখনই সময় পাই, ব্লগে বিভিন্ন ধরনের লেখা পড়ি। ব্লগে সময় কাটানো মানেই একধরনের কোয়ালিটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×