কাফি কামাল: জামায়াত ইস্যুতে আটকে আছে সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়া। সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকলেও প্রগতিশীল সমমনা দলগুলো সহসাই ভিড়তে চাইছেন না ঐক্যের মঞ্চে। এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত বিএনপির দু’জন নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা জানান, খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে ওইসব দলের নেতারা এ আপত্তির কথাটি তুলেছেন। এমনকি খালেদা জিয়ার দাওয়াতে ইফতারে অংশ নিলেও জামায়াত নেতারা থাকায় মঞ্চে ওঠেননি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম ও জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব। বিএনপির আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন থাকলেও এ একটি কারণেই ঐক্যের ডাকে সায় দিচ্ছে না গণফোরামসহ কয়েকটি বামদল। ফলে নতুন করে ভাবছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। মহাজোটের বাইরের দলগুলোকে ঐক্যের মঞ্চে আনতে আন্দোলনের একটি নিরাপদ কৌশলপত্র প্রণয়নের চেষ্টা করছে দলটি।
ঐক্যের দূত হিসেবে তৎপর ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বলেন, আন্দোলনের স্বার্থে অন্যদলগুলোর সঙ্গে এখনও আমাদের আলোচনা হচ্ছে। তারা তাদের অভিমত দিচ্ছেন। তবে আশা করি একটা সময়ে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে যেতে পারব। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও সঙ্কট উত্তরণকে কেন্দ্র করেই এ ঐক্য হতে পারে। জামায়াত ইস্যুতে প্রগতিশীল সমমনা দলগুলোর সঙ্গে ঐক্য প্রক্রিয়ার অগ্রগতি না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি দলেরই কিছু নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থাকে। তবে বিষয়টি নিয়ে আমাদের নীতিনির্ধারণী মহল চিন্তা-ভাবনা করছেন, তারাই বুঝে-শুনে সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, জামায়াত সঙ্গে থাকায় বিএনপির সঙ্গে জোট করার ব্যাপারে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছে মহাজোটের বাইরের প্রগতিশীল দলগুলো। অনানুষ্ঠানিক একাধিক বৈঠকে প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী সংগঠনগুলোর নেতারা এ প্রসঙ্গটি তুলেছেন। বিএনপি নেতাদের পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে জামায়াতকে কোন সুবিধা করে দিতে তারা প্রস্তুত নন। বিএনপির সিনিয়র ওই নেতা বলেন, চেয়ারপারসনের সঙ্গে আলাপেও সমমনা দলগুলোর নেতারা এ কথা বলেছেন। এরপর নিরাপদ একটি কৌশল খুঁজছে বিএনপি। আন্দোলনের এমন একটি রূপরেখা প্রণয়নের চেষ্টা করছেন যাতে প্রগতিশীল দলগুলো আন্দোলনে সক্রিয় হতে পারে। যেন জামায়াতের বিষয়টি জোরদারভাবে সামনে না আসে। এদিকে ঐক্যের ডাকে সাড়া দিয়ে খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিলেও নিজেদের চূড়ান্ত অবস্থানের কথা পরিষ্কার করেনি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও আ স ম আবদুর রব। শুধু লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ও কল্যাণ পার্টির সভাপতি মে. জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বিএনপির সঙ্গে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
ওদিকে মহাজোটের বাইরের প্রগতিশীল ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে ঐক্য প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে কিছুটা সতর্কতামূলক মনোভাবে চলছে জামায়াত। বিশেষ করে জামায়াতের ব্যাপারে ওই দলগুলোর আপত্তির কারণে তারা এ বিশেষ কৌশলে নিয়েছে। তারা প্রগতিশীল সমমনা দলগুলো সিনিয়র নেতাদের ব্যাপারে বিএনপির মধ্যে বিরোধীতা তৈরির চেষ্টা করছেন। ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা জানান, খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকের পর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমের বক্তব্য নিয়ে বিএনপির চেয়ে বেশি তৎপরতা দেখিয়েছে জামায়াত। এমনকি বিএনপির একশ্রেণীর নেতা-কর্মীর মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরে এমন অভিযোগও তোলা হয় যে, সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রম বিএনপি ছেড়ে যাওয়ার পর নানা বক্তব্য ও প্রচারণার মাধ্যমে বিএনপি নেতৃত্বের বড় ধরনের ক্ষতি করেছেন। এখন তাদের জোটে টানা হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ক্ষতি করতে পারেন। এমনও হতে পারে তারা দলের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে দলে ভাঙনের সৃষ্টি করতে পারেন। তবে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না কেউ। কেবল নিজ নিজ অনুসারীদের দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে এ প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এদিকে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্র জানায়, দলের তৃণমূল থেকেও জামায়াতবিরোধী একটি চাপের মুখে আছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তৃণমূল অভিযোগ তুলেছে, চারদলীয় জোট সরকার ও ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সময়ে জামায়াত বিএনপির সাংগঠনিক ক্ষতি করেছে। এমনকি জরুরি সরকারের সময়ে বিএনপির সরকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নানা অভিযোগের দায় নেয়ার ব্যাপারেও প্রকাশ্য বক্তব্যে অনীহা প্রকাশ করেছে। এছাড়া নতুন প্রজন্মের মধ্যে নানা কারণে জামায়াত বিরোধী একটি মনোভাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংকোচন নীতি অবলম্বন ও কৌশলগত পরিবর্তন না আনলে ভবিষ্যৎ ভোটের রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

