somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুধুই মনে পড়ে বাবার সেই কথা - "বাবা যখন ছেলে মেয়ে হবে তখন বুঝবা আমরা কেন জেগে থাকি।"

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেই ১৯৯৫। চাকুরীর সুবাদে ঢাকায় আসা। প্রথমে থেকেছি গুলশান নতুন বাজারে। তবে স্থায়ীত্ব অনেক কম। পরে মিরপুর-১১ তারপর মিরপুর-১০। তার পর বিয়ে এবং নতুন বউকে রেখে কমলাপুরে। সেই সময়কার কথাই বলছি যখন প্রায় প্রতি সপ্তাহেই বাড়ী যেতাম। কোন সপ্তাহ মিস করলে পরের সপ্তাহে আর কোন কথাই নেই। শুক্র শনি দুই দিন বন্ধ। মঙ্গল অথবা বুধ বারে টিকিট করে রাখতাম। বৃহস্পতিবারে অফিস করেই দে ছুট।

তবে কখন রওনা দিচ্ছি, কোথায় আছি তা জানানো তাগিদ অনুভব করতানা। আব্বা মা খোঁজ নিতেন। অনেক সময় হয়ত বাসে ঘমিয়ে পড়েছি আব্বা রিং করেছেন, আমি টের পাইনি ফলে ফোন আর রিসিভ করা হয়নি। ২৫০/৩০০ কিলোমিটারের পথ। আব্বা বার বার খোঁজ নিয়েছেন। অনেক সময় আমি বিরক্ত বোধ করেছি। হয়তো জীবন সংগীনি দু-এক বার ফোন করে ঘুমিয়ে পড়ত।

আড়াইটে তিনটে বেজে গেছে বাড়ী পৌছিতে পৌছিতে। গিয়ে দেখি আব্বা আম্মা গল্প করছেন, জেগে আছেন আমার পৌছার অপেক্ষায় কখন আমি বাড়ী পৌছিব।

আমি বিরক্তির সুরে তাদেরকে বলতাম - আপনারা জেগে আছেন কেন? এই ভেবে বলতাম যে তারা জেগে থেকে কষ্ট পাচ্ছেন। তখন আব্বা আম্মা একই সুরে বলে উঠতেন-না বাবা এমনি জেগে আছি। আমি বুঝতাম না বা বোঝার চেষ্টাও করতাম না তাদের অনুভ’তির কথা।

শনিবার রাত্রে যখন আবার ঢাকায় ফিরে আসতাম তখন তারা মাথায় হাত বুলে দোয়া করতেন যাতে আমি ঢাকায় ভালভাবে পৌছিতে পারি। আর আব্বা আমাকে শিখিয়ে দিতেন বিভিন্ন দো’আ দর–দ যাতে কোন বিপদ আপদ না হয়।
আর বলতেন, বাবা যখন ছেলে মেয়ে হবে তখন বুঝবা আমরা কেন জেগে থাকি। ভাবতাম তখন আর কি বুঝবো?

এর মধ্যে অনেক সময় বয়ে গিয়াছে। এখন আমার দু’টি সšতান। একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। মেয়েটি গত ১৪ জানুয়ারীতে ওর মা-র কোল আলোকিত করেছে। এখন ও একটু একটু বুঝতে শিখছে।

আমি যখন অফিস থেকে বাসায় যাই তখন ও আমার কোলে আসার জন ব্যকুল হয়ে উঠে না দেখলে বিশ্বাস করার মত নয়। আমি পাশ দিয়ে এদিক ওদিক গেলে ও আমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকেয়ে থাকে। ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে থাকে। ওর নাম আমিই দিয়েছি আরিশা।


তখন আমি আরিশাকে কোলে না দিয়ে থাকতে পারিনা। কোলে নিয়ে যখন বুকে নিই তখন “সে এক অদ্ভুত ভাল লাগা।”

এখন বাবা নেই। বাড়ী গেলাম কি না কেউ খোঁজও রাখেনা। শুধুই মনে পড়ে বাবার সেই কথা - "বাবা যখন ছেলে মেয়ে হবে তখন বুঝবা আমরা কেন জেগে থাকি।"






১৫টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×