somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সূচনা বিশ্বকাপ ও উরুগুয়ের চ্যালেঞ্জ

২৩ শে মে, ২০১৮ রাত ২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


নিঃসন্দেহে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। এই ফুটবলের রয়েছে প্রাচীন এক ইতিহাস। অনেকেই মনে করেন সর্বপ্রথম এই খেলা প্রাচীন চীনে উৎপত্তি হয়েছে। এ নিয়ে অবশ্য বিতর্ক থাকতে পারে। তবে আধুনিক ফুটবলের উৎপত্তি যে গ্রেট ব্রিটেনে হয়েছে এর বিপক্ষে লোক খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর।

কাগজ-কলমের হিসাবে বিশে^র প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবল ম্যাচটি হয়েছিল ১৮৭২ সালে। গ্রেট ব্রিটেন ও স্কটল্যান্ডের লড়াইটি প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচের স্বীকৃতি পেয়েছিল। তবে বিশ্বের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক আসরটি হয়েছিল ১৮৮৪ সালে; যার কেতাবি নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ব্রিটিশ হোম চ্যাম্পিয়ন শিপ’। তখন যুক্তরাজ্য ছাড়া অন্য কোথাও ফুটবল খেলা হয় না বললেই চলে। কিন্তু এটা ছিল অপেশাদার খেলা। তাই ফুটবলকে জনপ্রিয় করে তুলতে অলিম্পিক গেমসে এটা শুধুই প্রদর্শনীর জন্য আয়োজন করা হতো। যেখানে ছিল না কোনো শ্রেষ্ঠত্বের বস্তুগত স্বীকৃতি।

অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ১৯০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংগঠক ফিফা। ফুটবলকে বিশ^ দরবারে পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয় অলিম্পিক থেকে আলাদা করার। আয়োজন করা হয় আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতার। তবে বয়সে নবীন বলে ফিফার ফুটবল টুর্নামেন্টকে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যর্থ প্রতিযোগিতা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।

১৯৩২ সালের অলিম্পিক আসরের ফুটবল অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মতানৈক্য দেখা দেয়। পরবর্তীতে ফিফা ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসির) সঙ্গে ফুটবলের পেশাদারিত্ব সৃষ্টি হয় মতবিরোধ। আমেরিকায় ফুটবল জনপ্রিয়তা না থাকায় তৎকালীন ফিফা সভাপতি জুলে রিম সিদ্ধান্ত নেন অলিম্পিক থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবল গুটিয়ে নেন।

এই সংকটের মধ্যেই ১৯৩০ সালে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সর্বোচ্চ টুর্নামেন্ট বিশ্বকাপ আয়োজন করে ফিফা। স্বাধীনতার শতবর্ষী উদ্যাপনটা রাঙিয়ে তুলতে বিশ্বকাপ আয়োজনের গুরুদায়িত্ব পায় উরুগুয়ে। যেখানে ফিফার পক্ষ থেকে নির্বাচিত বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফুটবল সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

কিন্তু বেঁকে বসে ইউরোপ অঞ্চলের দেশগুলো। আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে দুই মাসের দীর্ঘ্য ও ব্যয়বহুল সফরে আসতে রাজি ছিল না তারা। যদিও পুরো খরচটা বহন করত স্বাগতিক উরুগুয়ে। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ফিফার প্রধানকর্তা রিম শেষ পর্যন্ত বেলজিয়াম, ফ্রান্স, রোমানিয়া ও যুগোসেøাভাকিয়াকে উরুগুয়ে আনতে সক্ষম হন। প্রথম সেই বৈশ্বিক আসরে অংশ নেয় ১৩টি দল। তন্মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকারই সাতটি দল। ইউরোপের চারটি এবং উত্তর আমেরিকার দুটি দল অংশ নেয়।

তবে প্রথম বিশ^কাপের মূলপর্বের জন্য অনুষ্ঠিত হয়নি কোনো বাছাইপর্ব। বিশ্বের প্রায়সব দেশকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ফিফা। যে দেশগুলো নিবন্ধন করেছিল তারাই বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। অংশ নেওয়া দলগুলো হলো উরুগুয়ে (স্বাগতিক), মেক্সিকো, আর্জেন্টিনার, ব্রাজিল, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, রোমানিয়া, যুগোসেøাভাকিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, পেরু, চিলি, প্যারাগুয়ে ও বলিভিয়া।

মজার বিষয় হচ্ছে ১৩টি দেশকে অদ্ভুতভাবে চার ভাগে বিভক্ত করা হয়। চারটি দল নিয়ে তৈরি করা হয় ‘গ্রুপ ১’ এবং বাকি তিনটি দল ছিল তিনটি আলাদা গ্রুপে। ওই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয় স্বাগতিক উরুগুয়ে। অল ল্যাতিন ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় লুইস সুয়ারেজ, ডিয়েগো ফোরলানদের দেশ উরুগুয়ে।

তবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আগেই বিপত্তি বাধে লড়াইয়ের বল নিয়ে। আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে আলাদা দুটি বল পছন্দ করে ফাইনালের জন্য। পরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার এবং দ্বিতীয়ার্ধে খেলা হবে উরুগুয়ের বল দিয়ে।

প্রথম বিশ্বকাপের আসরটা অনুষ্ঠিত হয় তিনটি ভিন্ন ভেন্যুতে। পুরো টুর্নামেন্টে ম্যাচ সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮টিতে। তাতেই কম-বেশি গোল প্রসব করেছে। ম্যাচ প্রতি গড়ে ৩.৯টি গোল হয়। মোট ৭০ গোলের সেই টুর্নামেন্টে ৫ ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৮টি গোল করে মেসি-ম্যারাডোনাদের দেশ আর্জেন্টিনা। তবে দেশটির মানুষ যে কতটা ফুটবল-পাগল সেটা বুঝিয়ে দিচ্ছে একটা তথ্য। ফাইনাল দেখতে বিশ্বের সবচেয়ে প্রশস্ত নদী ‘রিভার প্লাতে’ পাড়ি দিয়ে ৩০ হাজারেরও বেশি আর্জেন্টাইন সমর্থক উরুগুয়ে মন্টিভিডিওতে এসেছিলেন।

তথ্যসূত্র : ফিফাডটকম, উইকিপিডিয়া
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০১৮ রাত ২:৪০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার প্রিয় ২৬টি পোস্ট; যেগুলো আপনারও ভালো লাগতে পারে

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:১৭

গ্যাস নিয়ে গ্যাসলাইটিং: কোনটা আসল সংকট, কোনটা কৃত্রিম?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২১


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এই প্রশ্ন করলে সবাই একবাক্যে বলবেন গ্যাস সংকটের কথা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, ফলে লোডশেডিং বেড়েছে বহুগুণ। কলকারখানা হোক বা বাসাবাড়ি, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth- তবে কি আমরা মহাবিশ্বের ভৃত্য?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

Humans are not from Earth: A Scientific Evaluation of the Evidence বইটির লেখক ডক্টর এলিস সিলভার (Dr. Ellis Silver)-এর ব্যক্তিগত ও একাডেমিক জীবন নিয়ে মূলধারার তথ্যমাধ্যমে এক ধরনের রহস্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:০৩



আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

২০১০, এক-এগারোর পর থেকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত- যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল, যারা গুম, নির্যাতন, কারাবাস, মামলা, চাকরি হারানো, পরিবার ভেঙে যাওয়া- সবকিছুর মূল্য দিয়েছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×