somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রম্য : কানের দুল ও আমার বৌএর ট্রেনযাত্রা

০৮ ই জুন, ২০২০ রাত ২:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোনও কিছু আমার ঠিকঠাক হয় না। সামান্য পুরী বেড়াতে যাওয়াই ধরুন না কেন। ট্রেন লেট করে আসবে। ট্রলি ব্যাগের চাকা ভেঙে যাবে। কাগজ বা প্লাস্টিকের কাপ ফেটে গরম চা গায়ে পড়ে যাবে। সংরক্ষিত আসনে অন্য লোক টিকিট নম্বর ভুল করে শুয়ে থাকবে, তাকে বুঝিয়ে-সুজিয়ে তুলতে হবে।
সে তো যাইহোক হল। রাতের ট্রেন। থ্রি টিয়ার। সর্বদাই যেমন হয় এবারেও আমার স্থান তেতলায়।
.
ট্রেনে ভ্রমণের জন্য স্লিপার ক্লাস শ্রেষ্ঠ। হকারের চিৎকার... মানুষের দৌড়াদৌড়ি... ইচ্ছে হলে কোনও স্টেশনে জানলা থেকে হাত বাড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চা কিনে খাওয়া।
এসিতে সেসব নেই। নিরাপত্তার কারণেই বাধ্য হয়ে এসিতে ভ্রমণ। পরিচ্ছন্ন বটে তবে এসিতে প্রবেশ মানে এক শব্দহীন বাতাসশূন্য বদ্ধ ঘরে নির্বাসিত হওয়া।
খাওয়া তো আগেই হয়ে গেছে। তাই সুটকেস-ব্যাগেদের সীটের নিচে শুইয়ে দিয়ে, আলো নিভিয়ে, আমি স্বর্গারোহণ থুড়ি আপার বার্থে চড়ে পড়লাম। আমাদের উল্টোদিকে এক মাঝবয়েসি দম্পতি। ভদ্রলোকের মাথায় পনেরোটা সোনালি পাঁচটাকার কয়েন একত্র করলে যেমন হয় সেইরকম আয়তনের চকচকে টাক।
তাঁর আরও গুণাবলি প্রকাশ পেল শুয়ে পড়ার পর। ডিজের আওয়াজ হার মেনে যাবে এমন নাকের গর্জন। নিস্তব্ধ এসির কাঁচের জানলায়-দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে তা আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
কী আর করা, আমি সন্দীপনের উপন্যাস "কুকুর সম্পর্কে দুটো একটা কথা যা আমি জানি" তে ডুবে গেলাম।
.
মাঝ রাতে চোখ দুটো একটু লেগেছে এমন সময় দেখলাম আলো জ্বলে উঠল। আমার উনিই জ্বালিয়েছেন। কী হল আবার? উল্টোদিকের নাকডাকিয়েকে ততক্ষণে ঠেলে তুলেছেন উনি।
নাক ডাকা থেমে যেতেই পৃথিবীতে অপার শান্তি নেমে এলো।
তাঁকে তুলে উনি বললেন, "একটু দেখুন না, আমার কানের একটা দুল কোথায় পড়ে গেল। খুঁজে পাচ্ছি না।"
ভদ্রলোক উঠলেন। খুব অসভ্য বর্বর না হলে এক নারীর আবেদন অগ্রাহ্য করা যায় না।
তিনি উঠে খোঁজা শুরু করলেন। চাদর-বালিশ কম্বল দিয়ে শুরু হল। তারপর লাগেজ সরিয়ে মেঝে।
.
আমি বুঝলাম সর্বনাশ যা হওয়ার হয়ে গেছে। কানের দুল মানে সোনার গয়না হারানো যে কী ভয়াবহ অমঙ্গলের সেতো বাড়ির বড়দের কাছে সহস্রবার শোনা। অতএব বউয়ের মেজাজ গরম হবে। ফলত এবারের বেড়ানোটাই মাটি হল। আমি আরও বিষণ্ণ হয়ে নামতে গেলাম। বউ আমার দিকে এমন কটমট করে চাইল যে থমকে গেলাম। বলল, "তুমি এলে কাজের কাজ কিছুই হবে না মাঝখান থেকে হয় মাথা ঠুকে নেবে বা চোখে খোঁচা খাবে। তার চেয়ে যেমন আছ তেমনই থাকো।"
.
ঘন্টা খানেকের চেষ্টাতেও দুল খুঁজে পাওয়া গেল না। এই এসির ঠান্ডাতেও পরিশ্রমে ভদ্রলোকের টাক ঘামে সপসপে হয়ে গেছে। ভুবনেশ্বর আসতে ভদ্রলোক ও ভদ্রমহিলা নেমে পড়ে বাঁচলেন। তাঁরা নেমে যেতে আমিও তেতলা থেকে নামলাম।
বউ বলল, "বেশ তো শুয়েছিলে, নামলে কেন?"
বললাম, "বাথরুম যাব। এসে আমিও একটু চেষ্টা করে দেখব।"
বাথরুম থেকে ফিরে আসতে বউ বলল, "আমি আলো নিভিয়ে দিচ্ছি। শুয়ে পড়ো। আমিও একটু শুই।"
.
আমি অবাক হয়ে তেনার দিকে তাকাতেই তিনি টপ করে হ্যান্ড ব্যাগ খুলে একটা কানের দুল বের করে ফেললেন।
খালি কানে দুলটা পরতে পরতে বললেন, "নাক ডাকার চোটে আমার মাথায় যন্ত্রণা শুরু হয়ে গিয়েছিল। বাপরে এমন নাক ডাকা যেন দশখানা শাঁখ, কারখানার সাইরেন সব একসঙ্গে বাজছে। থামানোর আর কোনও উপায় ছিল না.. তাই নেহাত বাধ্য হয়েই মিথ্যে বলতে হল..."
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০২০ রাত ২:৫৫
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজ বিশ্ব বাবা দিবস।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২১ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৩৬

বাবা: নীরব ত্যাগের এক অনন্ত মহাকাব্য।
========================
আজ বিশ্ব বাবা দিবস। আমাদের দেশে মা দিবস যতটা জাঁকজমক ও আবেগের সঙ্গে পালিত হয়, বাবা দিবস ততটা আলোচনায় আসে না। অথচ একজন সন্তানের জীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেউ পুড়বে আর কেউ পোড়াবে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

অনেকদিন নিশ্চুপ আছি কিছুদিনের অপেক্ষায়;
কেউ কেউ বলে কিছুদিন নাকি হারিয়ে গেছে,
অনেকদিনের গর্ভে তাই মেলাতে সরল গণিত।
কিছুদিনের অপেক্ষায় অপেক্ষায়-
ছেটে দিয়েছি কথামালার ডালপালা।
বসে বসে মেলাই কাণ্ডহীন বৃক্ষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫০১ নাম্বার রুম কি বিজয় নাকি লাম্পট্যর সাক্ষী।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২৮





মাওলানা মামুনুল হক নামের হেফাজত ইসলামের এক নেতা তার ফেসবুক ওয়ালে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন। তার এই পোস্টটি এক অদ্ভুত রসাত্মক ট্র্যাজেডি।

লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×