somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রম্য : আমার লটারি প্রাপ্তি ও ষাঁড়ের গুঁতো !!

১০ ই জুন, ২০২০ রাত ১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকালবেলায় খবরের কাগজ খুলে রাশিফলটা দেখেই মন ফুরফুরিয়াস হয়ে গেল। "প্রাপ্তিযোগ।"
.
আজ জরুর কুছ মিলেগা, গাইতে গাইতে (আনন্দ হলেই কেন জানি না আমার মনের মধ্যে হিন্দির বুদবুদ ওঠে) আমি বাজারের থলি নিয়ে বাজারের দিকে সাঁইসাঁই পা বাড়ালাম।
.
একটা লটারির টিকিট কাটা আছে, ফার্স্ট প্রাইজ পঞ্চান্ন লাখ টাকা, সেটাই পাব নাকি? আর কী কী "প্রাপ্তিযোগ" থাকতে পারে ভাবতে ভাবতে উড়তে উড়তে বাজারে পৌঁছে গেলাম।
.
ঢোকার মুখেই দেখা হয়ে গেল নরোত্তমবাবুর সঙ্গে। উরি ত্তারা! এই সত্তর প্লাসেও বুকে 'ট্র‍্যাপ' লেখা টাইট গেঞ্জি, কুচকুচে কালো কলপ মারা চুল, টগবগ করে টাট্টু ঘোড়ার মতো হাঁটছেন!
কাছে গিয়ে বললাম, "ভাল আছেন?"
ভুরু কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, "ও তুমি! তা ভাল না থাকলে বাজার এলাম কী করে? গাধার মতো প্রশ্ন করছ কেন?"
আমি আমতা আমতা করে বললাম, "ও ভালই আছেন তাহলে। আচ্ছা আসি।"
নরোত্তমবাবু গর্জে উঠলেন, "দাঁড়াও দাঁড়াও। আচ্ছা তুমি কি ভাবতে পারনি আমি ভাল থাকতে পারি? "
আমার তখন ওই ধরণী থুড়ি পিচ-রাস্তা দ্বিধা হও অবস্থা! মরতে কেন যে জিগ্যেস করতে গেলাম!
বললাম, "এ বাবা, ছি ছি তা আমি ভাবতে পারি? আপনি ভাল থাকুন আমি সর্বস্বান্ত না না সর্বান্তঃকরণে চাই।"
নরোত্তমবাবু বললেন, "হুম মনে পড়েছে। অফিসে একবার না বলে ডুব মারার জন্য তোমায় ধমক দিয়েছিলাম! তা সেই কবেকার রাগ পুষে রেখেছ?"
আমি বললাম, "বিশ্বাস করুন আমার মনেই ছিল না সে কথা। জাস্ট আপনার সঙ্গে দেখা হয়েছে তাই এমনি এমনি জিগ্যেস করেছি। আমি আসছি। অফিসের দেরি হয়ে যাবে।"
-- "দাঁড়াও দাঁড়াও তুমি ভেবেছিলে আমি ভাল নেই, তাই তো? কেন ভেবেছিলে? আচ্ছা কাল রাত্রে যখন দোকান থেকে ওষুধ কিনে বাড়ি ফিরছিলাম তখন একটা পাথরের টুকরো উড়ে এসে আমার পাশে পড়েছিল। আর একটু হলেই মাথায় পড়ত। তুমিই ছুঁড়েছিলে নাকি হে?"
.
হায় হায় এ কী ঝামেলায় পড়লাম রে বাবা! এবার তো পুরো পুলিশ কেস!
এটেম্পট্ টু মার্ডার। সেকশান ৩০৭ আইপিসি। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
কেন মরতে যে জিগ্যেস করলাম! সব শালা ওই রাশিফলের জন্য। ড্যাশের প্রাপ্তিযোগ!
বললাম, "মা কালির দিব্যি বলছি, বিশ্বাস করুন আমি ঢিল মারিনি। আচ্ছা আপনি এই চিনলেন আমায়? আমি কাউকে ঢিল মারার মানুষ? বউ বলে আমার মতো ভীতুর ডিম পৃথিবীতে দুটো নেই.."
.
আমার চোখের সামনে সাদা-কালো স্ট্রাইপ দেওয়া জেলের কয়েদিদের পোশাক ভেসে উঠল, করুণ স্বরে বললাম, "আমি এমন ভীতু যে নাগরদোলায় উঠতে ভয় পাই। ষাঁড় যদি রাস্তায় থাকে তাহলে সেই রাস্তায় যাই না আর আপনাকে গিয়ে ঢিল মারব?'
-- "মানে? তুমি আমাকে ষাঁড় বললে? আমি ষাঁড়?"
.
এ তো মহা মুস্কিল! বললাম, "না না সেকি কথা! আমি আপনাকে কেন ষাঁড় বলব?"
-- "বিয়ে করিনি আর কিছু বদমাশ আমার নামে মেয়েদের নিয়ে স্ক্যান্ডাল ছড়িয়েছে সেইসব শুনে তুমি আমায় ষাঁড় বলে ইনসাল্ট করলে? এতবড় সাহস তোমার? তোমার থেকে বয়সে এত সিনিয়ার একজনকে ষাঁড় বলতে লজ্জা করল না তোমার? পাথর মারছ, ষাঁড় বলছ... ভেবেছ কী? দেশে আইন-কানুন নেই?"
.
ইতিমধ্যে পাব্লিক জড়ো হতে শুরু করেছে।
ক্যাচালপ্রেমী পাব্লিকে ভরে আছে আমাদের রাস্তাঘাট। একটু গন্ধ পেলেই হল!
একজন নরোত্তমবাবুকে বলল, "কী হয়েছে? আপনাকে মেরেছে? কোথায় লেগেছে? ব্লিডিং-ফ্লিডিং হচ্ছে নাকি?"
তারপর আমার দিকে ফিরে, "আরে মশাই দেখে তো জেন্টিল জেন্টিল মনে হচ্ছে। তাও ঝাড়পিট করছেন?"
.
আমি স্ট্যাচু অফ লিবার্টি হয়ে গেছি। মনে হচ্ছে বাকি জীবন এখানেই রাস্তার সঙ্গে চিপকে দাঁড়িয়ে থাকব।
শেষমেষ ওই ষাঁড়ই আমায় বাঁচাল। একটা ম্যাগনামাকার ষাঁড় ফল দোকানের কলা খেতে গিয়ে তাড়া খেয়ে হুড়ুদ্দুম করে আমাদের দিকে দৌড়ে এল। ক্যাচালপ্রেমী পাব্লিকগণ ও নরোত্তমবাবু নিমেষে হাওয়া...
.
আর আমি? দুশো মিটার দৌড়ের কমনওয়েলথ, এশিয়ান, অলিম্পিক রেকর্ড ভেঙে চুরচুর করে বাড়ি পৌঁছে হাঁপাতে হাঁপাতে বউকে বললাম, "মাথা ঘুরছে, বাজার করতে পারিনি, খিচুড়ি বসাও..."
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০২০ রাত ১:৫৭
৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজ বিশ্ব বাবা দিবস।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২১ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৩৬

বাবা: নীরব ত্যাগের এক অনন্ত মহাকাব্য।
========================
আজ বিশ্ব বাবা দিবস। আমাদের দেশে মা দিবস যতটা জাঁকজমক ও আবেগের সঙ্গে পালিত হয়, বাবা দিবস ততটা আলোচনায় আসে না। অথচ একজন সন্তানের জীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেউ পুড়বে আর কেউ পোড়াবে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

অনেকদিন নিশ্চুপ আছি কিছুদিনের অপেক্ষায়;
কেউ কেউ বলে কিছুদিন নাকি হারিয়ে গেছে,
অনেকদিনের গর্ভে তাই মেলাতে সরল গণিত।
কিছুদিনের অপেক্ষায় অপেক্ষায়-
ছেটে দিয়েছি কথামালার ডালপালা।
বসে বসে মেলাই কাণ্ডহীন বৃক্ষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫০১ নাম্বার রুম কি বিজয় নাকি লাম্পট্যর সাক্ষী।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২৮





মাওলানা মামুনুল হক নামের হেফাজত ইসলামের এক নেতা তার ফেসবুক ওয়ালে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন। তার এই পোস্টটি এক অদ্ভুত রসাত্মক ট্র্যাজেডি।

লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×