somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“হে আমার ফাকিস্তানি প্রেমী বাংলাদেশী ভাই”

১৬ ই জুলাই, ২০১৩ দুপুর ২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“হে আমার ফাকিস্তানি প্রেমী বাংলাদেশী ভাই”

মুসলিমরা পরস্পর ভাই--- আল হাদিস।
ফাকিস্তানের সঙ্গে ৪৭ এ ১৪ই আগস্ট আমরা ভাগ হয়েছিলাম মূলত সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে। জিন্নার দ্বি-জাতি তত্বের ভিত্তিতে। তখন আমার মনে হয় উপরের হাদিস টি ধর্ম প্রাণ বাঙ্গালী মুসলিমদের মনে যেকে বসেছিল।
তা না হলে পশ্চিম বঙ্গের বাঙ্গালিদের বাদ দিয়ে কেমন করে ১৬০০ মাইল দুরের ফাকিস্তানের সঙ্গে আমরা পূর্ব ফাকিস্তান হয়েছিলাম।

তা যায় হোক কারণ, আমাদের এই অতি প্রিয় ধর্মের ভাইরা ৪৭-৭১ পর্যন্ত নিজ বাঙ্গালি ভাই দের কি ভাবে শাসন শোষণ করেছে, সেগুলি বলা মনে হয় নিষ্প্রয়োজন।
৭১ এ ২৫ শে মার্চ হতে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০ লাখ মানুষ হত্যা করেছে ফাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও আমাদের দেশের কুলাঙ্গার কিছু সন্তান। এই কুলাঙ্গাররা ইসলামকে ব্যবহার করে ইসলামের নাম নিয়ে ফাকিস্তান ভাইদের সাহায্য করেছে। আর ফাকিস্তান বিরোধী যুদ্ধে অংশগ্রহণ কারি, মাতৃভূমিকে হায়েনাদের কবল হতে রক্ষ্যা কারি আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধাদের কে মুরতাদ ঘোষণা করেছিল। চিন্তা করেছেন একটিবারও।
>> জামাতি এক জারজ কিছুদিন আগে বুক ফুলিয়ে বলেছিল ৭১ এ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয় নি, হইয়াছে গৃহযুদ্ধ। ভাবুন একবার বাংলাদেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের কি ভাবে বিরোধিতা। যা ফাকিস্তানি জারজরা আজ পর্যন্ত বলেনি, যে ৭১ এ গৃহ যুদ্ধ হয়েছিল ২ অংশের মধ্যে।
কি ভাই ফাকিস্তানি প্রেমী এগুলি কি ভুলে গেলেন?


৭১ এ ১ কোটি মানুষ শরণার্থী হয়েছিল। তাদের যে কি করুন অবস্থা হয়েছিল ভারতের শরণার্থী ক্যাম্প গুলিতে। তা জানতে এবং আমাদের শরণার্থী ভাই বোনদের ভয়াবহয় চিত্র দেখতে STOP GANOSITE ডকুমেন্টারি ফ্লিম টা দেখার অনুরোধ করছি।[ লিংক টা কেও শেয়ার করলে ভাল হত, তবে গুগোল ছারস দিলেই পাবেন]
এখানেই প্রথম দেখেছিলাম জয়নুল আবেদিনের ৭৬ এর মনান্তর এর আঁকা চিত্রের বাস্তবতা [৭৬ এর মনান্তর এর আঁকা চিত্র গুলি জাতীয় যাদুঘরে জয়নুল গ্যালারিতে গিয়ে দেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, বিশেষ করে কুকুর এর মানুষের একত্রে ডাসবিনে খাবার খোজার চিত্র], আর আফ্রিকার সেই শিশুর ছবি। যা একজন মার্কিন সাংবাদিক তুলেছিল এক শিশু ও তাকে খাবার জন্য অপেক্ষারত শকুন এর ছবি।[ ছবিটা কেও শেয়ার করলে খুব ভাল হয়]
এখানেই প্রথম বুজেছিলাম ৭৬ এর মনান্তর পরে বাংলাদেশিদের না খেতে পাবার জন্য আফ্রিকার হাড় জিরজিরে মানুষের ছবি। যা হার হামেশা দেখি মিডিয়ার কল্যাণে।
আমি আশ্চর্য হয়েছি সবুজ শ্যামলা বাংলাদেশের মানুষ না খেতে পেয়ে আফ্রিকার মানুষে পরিণত হয়েছে, ফাকিস্তান নামক বেশ্যাদের কল্যাণে। STOP GANOSITE এর শিশু ও বৃদ্ধাদের দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। মনে প্রতিশোধের আগুন জ্বলেছে, ফাকিস্তানি বেশ্যাদের অভিশাপ দিয়েছি মনে মনে।

৭১ এর শহীদদের গন কবর গুলি কি মনে করিয়ে দেয়না আপনাকে ফাকিস্তানি হায়েনাদের অত্যাচারের কথা। যে কোন গন কবরে গিয়ে একবার অন্তত ঘুরে আসুন
দেখুন কেমন লাগে।
শহীদ নাম না যানা মানুষের লাশের শেয়াল, কুকুর ও কাকা এর খাবার কথা। ছবি গুলি যে কোন সাইটে পাবেন। একবার অন্তত দেখে নিয়েন রে ভাই ফাকিস্তানি প্রেমী বাংলাদেশী ভাই।
৭১ এ বড় বীর বলে আমি মনে করি সেই সময় ফাকিস্তানি কুত্তাদের হাতে নির্যাতিত মা বোনদের। যারা দিনের পর দিন তাদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছে মৃত ও পরে ছাড়া পেয় আত্মহত্যাকারী বা আজও বেঁচে থাকা সেই মহীয়সী নারীদের। কারণ শহীদরা তো মরে গিয়ে বেঁচে গেছেন, বেঁচে যাওয়ারা তো বেঁচে আছেন। কিন্তু এই নারীদের কথা একবার ভাবুন। সব হারিয়ে কি অবস্থা তাদের। বেঁচে থেকেও যেন মৃত এরা।
কি ভাই ফাকিস্তানি প্রেমী এগুলি কি ভুলে গেলেন?

এও যদি যথেষ্ট না হয়, আপনার মাঝে ফাকিস্তানি প্রীতি না কমাতে পারে , তবে আপনার গ্রামের বা পাশের গ্রামের জীবন্ত ইতিহাস মুক্তি যোদ্ধাদের কাছে গিয়ে একটু কান পেতে শুনুন ৭১ এর কথা। তাদের লোমহর্ষর ফাকিস্তানি হায়েনাদের অত্যাচারের বর্ণনা।

এর পরেও যদি আপনার মনে ফাকিস্তানি প্রেম উথলে উঠে এই ভেবে যে তারা আমাদের ধর্মের ভাই। তা হলে আপনি আপনার জন্মের খোঁজ নিন, ৭১ এ ক্রচ হয়েছে কি না ফাকিস্তানিদের দ্বারা।

এই ৪২ বছরে এসেও বেশ্যার দেশ ফাকিস্তান আমাদের কাছে চাইনি ক্ষমা। যদিও হামিদ মির[ ডনের সাংবাদিক] ও ইমরান খানের মত কিছু শুয়োর তাদের সস্তা সহানুভূতি ও ইমেজ বাড়াতে বলে-----
“ ফাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিত।“
কিন্তু এই পর্যন্ত দেখেছেন এরকম কোন উদ্যোগ?
মন্তব্য: কত আর মুসলিম ভাই বলে চোখে রঙ্গিন চশমা পরে ফাকিস্তান প্রেমে মগ্ন থাকবেন। বলছিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ব্যবসায়ী হন। একটু দেশপ্রেমিক তো অন্তত হন। একটু ঘৃণা করতে শিখুন।
২.০৪pm ১৩-৭-১৩
Click This Link


আরও কিছু লিংক দিলামঃ http://forum.projanmo.com/topic44823.html
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link





০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×